|
আবার রাজনীতিতে থাই-সেনাঃ
প্রধানমন্ত্রীকে নতুন
নির্বাচনের নির্দেশ
সরকার ও
বিরোধীদের মধ্যেকার গোলযোগকে ব্যবহার করে আরেকবার রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে
থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী।
বুধবার সেনাপতি জেনারেল
আনুপং পাওজিন্ডার পক্ষ থেকে পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়া ও
নতুন
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রী সমচাই ওয়াংসাওয়াতকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সেনাপতি অবশ্য এ-ঘটনাকে
সেনা-অভ্যুত্থান হিসাবে চিহ্নিত করার ব্যাপারে রাজী হন
নি।
এদিকে সমচাই জানিয়েছেন আনুপং-এর পক্ষ থেকে যে আহ্বান জানানো হয়েছে
তা মান্য করা হবে না।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস
ধরেই সরকারী দল ও বিরোধীদের মধ্যে তুমুল সহিংসা চলছে।
মঙ্গলবার নিজেদের
শক্তিমত্তার
প্রমান-স্বরূপ ব্যাঙ্কক
বিমান-বন্দর
দখল করে ফেলেছেন বিরোধীরা।
খবরে
প্রকাশ, দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ-আলোচনার জন্য সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর
কর্মকর্তা ও বনিক সম্প্রদায়ের সাথে বুধবার জরুরী বৈঠকে বসেন সেনাপতি আনুপং।
বৈঠক শেষে আয়োজিত এক
সাংবাদিক সম্মেলন থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী সমচাইয়ের প্রতি নির্দেশ জারী করেন।
আনুপং বলেন,
'আমরা
তাকে [সমচাই] একটি চিঠি পাঠিয়ে জানাবো যে তাকে অবশ্যই হাউস [আইনসভা] ভেঙ্গে দিতে
হবে এবং ন্তুন নির্বাচনের আহবান জানাতে হবে।'
সেনাপতি অবশ্য তার
এ-তৎপরতাকে সেনা-অভ্যূত্থান হিসাবে আখ্যায়িত করতে রাজী হন
নি।
তিনি বলেন, ‘এটা কোন
অভ্যূত্থান নয়।
সরকারের হাতেই এখন পর্যন্ত পুরো
কর্তৃত্ব আছে।‘
সেনাপতির দাবী তিনি যা করছেন তা গভীর সঙ্কটে নিপতিত অবস্থা থেকে দেশকে উদ্ধার করার
জন্যই করছেন।
সেনা-অভ্যূত্থানের প্রয়োজনীয়তা
উল্লেখ করে আনুপং বলেন,
'সেনা-অভ্যূত্থান করলে
যদি সকল সঙ্কটের নিরসন হয়, তাহলে আমি তাই করবো।'
এ-প্রসঙ্গে সেনাপতি আরও বলেন,
'সেনা-প্রধান
হিসাবে যদি আমি একটি সেনা-অভ্যূত্থান পরিচালনা করি তাহলে সকল সমস্যার একবারেই
সমাধান ঘটবে।'
অবশ্য আন্তর্জাতিক
মহলের প্রতিক্রিয়াসহ এ-অভ্যূত্থানের পরিণতি
বড় ধরণের হবে বলে মত ব্যক্ত করেন তিনি।
সরকারের প্রতি
পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়া ও
নতুন
নির্বাচনের নির্দেশ দেয়া ছাড়াও, রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে দখলদারিত্ব তুলে নেয়ার
জন্য বিরোধীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন সেনাপতি।
উল্লেখ্য, বিরোধীরা
বুধবার ব্যাঙ্কক বিমান-বন্দরটি কার্যত দখল নিয়ে ফেললে হাজার-হাজার বিদেশী
গোলযোগ-পূর্ণ অবস্থা ছেড়ে থাইল্যান্ডের বাইরে চলে আসতে ব্যর্থ হন।
পেরুতে
এশিয়া-প্যাসিফিক সামিট শেষ করে চিয়াংমাই বিমান-বন্দরে অবতরণের পরে প্রধানমন্ত্রী
সমচাই জানান, পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেয়ার ব্যাপারে তিনি কোন সিদ্ধান্ত
নেন
নি।
দেশের প্রধান
বিমান-বন্দর বিরোধীদের দখলে থাকায় ব্যাঙ্ককে অবতরণ করতে পারেন নি সমচাই।
তবে বিমান-বন্দর থেকে চিয়াং-মাই শহরে পোঁছে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক টেলিভিশন ভাষণে
সেনাপতির আহ্বান প্রত্যাখান করেন সমচাই।
তিনি
বলে,
'আমি
জনগণকে
এই
মর্মে
নিশ্চিত
করছি
যে,
বর্তমান
সরকার
হচ্ছে
নির্বাচনের
মাধ্যমে
ক্ষমতায়
আসা
একটি
বৈধ
সরকার।
এ-সরকার
মেয়াদ-পূর্ণ
হওয়া
পর্যন্ত
কাজ
করে
যাবে।'
প্রধানমন্ত্রীর
প্রত্যাখানকে
সেনাপতি
কিভাবে
নিয়েছেন
তার সর্বশেষ
খবর
এ-পর্যন্ত
জানা
যায়
নি।
এদিকে,
তার প্রতিদ্বন্দ্বী পিএডি নেতা সনধি লিমথনগাল জানিয়েছেন, সমচাইয়ের পদত্যাগের ঘোষণা না
আসা পর্যন্ত তারা কোন আলোচনায় যাবেন না।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের
সেপ্টেম্বরে সেনা অভ্যূত্থানের মাধ্যমে থাকসিন সিনাত্রার
সরকারকে হঠিয়ে দেয়ার পর থেকে থাইল্যান্ডের রাজনীতি সে-অর্থে একবারও
স্বাভাবিক
অবস্থায় ফিরে আসেনি।
সিনাত্রা ও
তার পরিবারের বিরুদ্ধে
ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও, থাইল্যান্ডব্যাপী তার বিশাল জনপ্রিয়তা এখন পর্যন্ত
অক্ষুন্ন আছে।
এই অক্টৌবরে থাকসিনকে
দুর্নীতিতে জড়িত থাকার দায়ে তার অনুপস্থিতে দুই বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
স্মরণ
করা যেতে পারে, ২০০৭ সালের শেষদিকে সেনাদের নিয়ন্ত্রণে
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ২০০৮ এর ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী পদে বসেন সামাক সুন্দরাভেজ।
কিন্তু মাত্র ছয়মাসের
মাথায় বিরোধীদের তুমুল তৎপরতার পরিণতিতে, সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে
বিদায় নিতে বাধ্য হন সুন্দরাভেজ।
অতঃপর সমচাই তার
স্থলাভিষিক্ত হলেও পরিস্থিতির উন্নতি
হয়নি।
পিডিএ-এর দাবী সুন্দরাভেজ
ও সমচাই উভয়েই মূলত থাকসিনের লোক।
এ-কারণেই সুন্দরাভেজ
সরে যাবার পরেও সরকার-বিরোধী কার্যক্রম বন্ধ করেনি বড়-বনিক, ধনী,
উচ্চ-মধ্যবিত্ত ও
রাজতন্ত্রপন্থীদের জোট পিডিএ।
সংগঠনটি গত অগাস্ট মাস
থেকে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের দখলও নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে।
এর পর থেকে পুরোনো
বিমান-বন্দরের ভবনে বসে সরকার চালাচ্ছিলেন
সমচাই।
লক্ষনীয়
বিষয়, ক্ষমতা দখল করা, নির্বাচিত রাজনীতিকদের হঠিয়ে দেয়া বা খেয়াল-খুশী মত
রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের
ব্যাপারটি দক্ষিণ
ও দক্ষিণ-পূর্ব
এশিয়ার একাধিক দেশের মতই থাই সেনাবাহিনীর জন্যেও নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত
হয়েছে।
লন্ডনঃ২৬ নভেম্বর ২০০৮ |