|
আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে
বিদায়কালে 'মুক্ত বাণিজ্যের' পক্ষে জর্জ বুশ
আন্তর্জাতিক
মহলের কাছ থেকে বিদায় গ্রহণের দিনটিতেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা
তথাকথিত মুক্ত বাণিজ্যের পক্ষে গুণগানে লিপ্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী
প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ।
এছাড়াও অর্থনীতিতে
'সংরক্ষণবাদের' প্রবণতা প্রতিরোধ করাও ডাক দিয়েছেন গত শতকের ত্রিশের দশকের পরে
পুঁজিবাদকে সবচেয়ে বড়ো ধরণের পরীক্ষার মধ্যে ফেলা দেয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
পেরুতে
অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক ইকৌনমিক কৌঅপারেশন [এ্যাপেক]
এর বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-সহ প্রশান্ত মহাসাগরের একুশটি দেশের প্রধানদের বৈঠক থেকে
উপরোক্ত কথাবার্তা বলেছেন বুশ।
শনিবার অন্যান্যের মধ্যে
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদভ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ও জাপানের নেতাদের সাথেও
কথাবার্তা বলেছেন বুশ।
উল্লেখ্য,
এ্যাপেকের
বৈঠক থেকে আগামী বারোমাস মেয়াদে কোনো ধরণের 'ট্রেইড ব্যারিয়ার' গড়ে না তোলার
ব্যাপারে সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।
এ-ক্ষেত্রে জর্জ বুশ
ব্যক্তিগতভাবে ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা গেছে।
সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে
প্রভাবিত করার লক্ষ্যে দেয়া বৃক্ততাতে নিজের আট বছরের শাসনামলকে 'মুক্ত বাজার,
মুক্ত বাণিজ্য ও মুক্ত মানুষের' কাল হিসাবে দাবী করেন বুশ।
তিনি এ-প্রসঙ্গে
সর্ব-শক্তিমান কেউ একজনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করার কথা উল্লেখ করে জানান,
এ-সর্ব-শক্তিমান সকল পুরুষ, নারী ও শিশুর জন্য স্বাধীনতা নামক জিনিষটি উপহার দিয়ে
রেখেছেন।
তথাকথিত
মুক্ত অর্থনীতির পক্ষে সওয়াল করলেও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা থেকে বাজারের ক্ষেত্রে
সরকারে ভূমিকা রাখার অপরিহার্য হয়ে ওঠার ব্যাপারটি স্বীকার করে নেন।
উল্লেখ্য, মরণাপন্ন
অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে তোলার জন্য সাতশো বিলিয়ন ডলারের বেইল-আউট কর্মসূচি ঘোষণা করেছে
বুশ-প্রশাসন।
তবে তিনি দাবী করেন,
এতদ্বসত্ত্বেও অর্থনীতির ক্ষেত্রে 'রেগুলেশনের' লাগাম পরিয়ে দেয়াটা রাষ্ট্রসমূহের
জন্য উচিত হবে না।
বুশের মতে, এর ফলে
উদ্ভাবন ও প্রবৃদ্ধির সহজাত প্রবণতার ক্ষেত্রে বেড়ি পড়ে যায়।
এটা ইতিহাসে পরীক্ষিত
বলেও দাবী করেন তিনি।
একুশ শতকে এসে
'সংরক্ষণবাদের' নীতি অনুসরণের ধারণাটি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখান করার করার কথা বলেন বুশ।
স্মরণ
করা যেতে পারে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী মুক্তবাজারী অর্থনীতির ধরাশায়ী
হয়ে যাবার মুখে বাজার-ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে বিদায় নেয়ার সময়
যতোই ঘনিয়ে আসছে, রাষ্ট্রের ভূমিকার ব্যাপারে ততোই কট্টর থেকে কট্টর সমালোচক হয়ে
উঠছেন বুশ।
লন্ডনঃ
২২ নভেম্বর ২০০৮
|