|
আঠারোয় ডিসেম্বর নয়ঃ ২৭-২৯ যে-কোনো দিন নির্বাচন বাংলাদেশে
পরিবর্তিত
পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বহুল প্রতিক্ষিত জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের নতুন তফসিল
ঘোষণা করা হবে আগামী রোববার
।
নতুন তফসিলে ২৭ থেকে ২৯
ডিসেম্বরের মধ্যে যে-কোনো দিন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রধান নির্বাচন
কমিশনার (প্রনিক) শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে
রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্য দিয়েই শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে গেলো গেল
পূবর্-ঘোষিত ১৮
ডিসেম্বর্ জাতীয় সংসদ ও ২৮
ডিসেম্বর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
শনিবার
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের
বৈঠক শেষে প্রনিক এটিএম শামসুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, ১৮ ডিসেম্বর দেশে জাতীয়
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
সব দলের অংশ গ্রহনে
উৎসবমুখর পরিবেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে নতুন তফসিলে আগামী
২৭ থেকে ২৯
ডিসেম্বরের মধ্যে যে কোনো দিন সংসদ
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার যে কোনো সময় নতুন
তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে হুদা জানান।
এর আগে শুক্রবার বিএনপি
নেতৃত্বাধীন চার-দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক করে ইসি।
উল্লেখ্য, ২
নভেম্বর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৮
ডিসেম্বর নবম সংসদ ও ২৮
ডিসেম্বর
উপজেলা হওয়ার কথা।
ভোটের দিন ঠিক রেখে এরপর
দুই দফা তফসিলে পরিবর্তন আনে নির্বাচন কমিশন।
মহাজোট
প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে শামসুল হুদা বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের দুই
নির্বাচনের তারিখ ও জরুরি অবস্থা নিয়ে কথা হয়েছে।
জরুরি অবস্থার বিষয়টি
সরকার দেখবে।
নির্বাচনের তারিখের বিষয়গুলো
দেখবো আমরা।
তিনি বলেন, আগের তফসিল অনুযায়ী ১৮
ডিসেম্বর
যে সংসদ নির্বাচন হচ্ছে না তা
মোটামুটি নিশ্চিত।
নির্বাচন আগামী ২৮
ডিসেম্বর হবে কি-না জানতে চাইলে প্রনিক
বলেন,
'আমরা
এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি।'
তিনি জানান, রোববার নতুন
তফসিলে নতুন তারিখ জানানো হবে।
সেক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র
জমা দেওয়ার সময়ও বাড়তে পারে।
পূর্ব-ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রোববার মনোনয়ন-পত্র
দাখিলের তারিখ শেষ হচ্ছে।
গত ১৯ নভেম্বর সংসদ ও
উপজেলা নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলের সময়সীমা ২০ নভেম্বর থেকে তিন দিন বাড়িয়ে ২৩
নভেম্বর করা হয়।
রোববার তফসিল পুনর্নির্ধারণ
করলে এ সময়-সূচিতেও পরিবর্তন আসবে।
কমিশন
সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ প্রস্তাব করেছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'সুনির্দিষ্ট
কোনো প্রস্তাব আমরা দিইনি,
তবে আমরা তাদের বক্তব্য
শুনেছি এবং নিজেদের কথাও বলেছি।'
সবশেষে নির্বাচন কমিশনই
এ-বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে বলে জানান শামসুল হুদা।
এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি
বলেন,
'মহাজোটের
অনেক নেতা আজ ঢাকায় ছিলেন না;
আমাদের বক্তব্য নিয়ে
তাদের প্রতিনিধিরা আগামীকাল নিজেদের মধ্যে আলাপ করবেন
এবং তারপর আমরা তফসিল
ঘোষণা করবো।'
এর আগে
বিকেল ৫টা ৫০ থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত মহাজোটের সাত প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক
করে নির্বাচন কমিশন।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন
আওয়ামী লীগের মুখপাত্র সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক এডভোকেইট
আব্দুল মান্নান, দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির
চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম, জাতীয় পার্টির
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলু, জাসদের সাধারণ সম্পাদক
সৈয়দ জাফর সাজ্জাদ, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক
দিলীপ বড়ুয়া ও গণতন্ত্রী পার্টির শহিদুল্লাহ শিকদার।
নির্বাচন
কমিশনের পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা, দু-কমিশনার নির্বাচন
কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন ও মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন এবং কমিশন সচিব হুমায়ুন কবির
বৈঠকে অংশ নেন।
নির্বাচন কমিশন গত ২ নভেম্বর প্রথম তফসিল ঘোষণা করে।
ওই তফসিলে প্রথম দফা
পরিবর্তন আনা হয় ৯ নভেম্বর । এরপর ২০ নভেম্বর আবারও
তা পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
ঢাকা থেকে
আবদুর রহিম হারমাছি
২২
নভেম্বর
২০০৮
|