|
ইরাক-যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা-চুক্তির বিরুদ্ধে সাদরপন্থী-বিক্ষোভ
বাগদাদে
শিয়া
ধর্মগুরু মুক্তাদার আল সাদরের অনুসারীরা ইরাক-যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা-চুক্তির
বিরুদ্ধে বড়ো ধরণের বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন বাগদাদে।
বার্তা-সংস্থাগুলো
জানিয়েছে শুক্রবারের বিক্ষোভটিকে ঘিরে হাজার-হাজার সাদর অনুসারী বাগদাদের রাস্তায়
নেমেছেন।
উল্লেখ্য,
এ-সপ্তাহের গোড়ার দিকে
উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে বিতর্কিত নিরাপত্তা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
গত কয়েক
দিন ধরে চুক্তিটি নিয়ে ইরাকী পার্লামেন্ট নিয়ে আলোচনা চলছে।
আগামী সোমবার চুক্তিটির
পক্ষে-বিপক্ষে ভৌট দেবেন পার্লামেন্ট সদস্যরা।
চুক্তির বলে মার্কিন
সেনারা আরও তিন বছর ধরে ইরাকের মাটিতে অবস্থান করতে পারবে।
শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ
ক্ষমতাসীন জোটের পক্ষ থেকে চুক্তিটির ব্যাপারে সমর্থন ব্যক্ত করা হলেও,
শিয়া ধর্মগুরু সাদরের
অনুসারী ও সুন্নী আরব গ্রুপগুলোর পক্ষ থেকে চুক্তির বিরোধিতা করা হচ্ছে।
সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে,
শুক্রবারের বিক্ষোভটিতে বিপুল সংখ্যক সাদরপন্থী ইরাকী পতাকা ও সবুজ রংয়ের শিয়া
ব্যানার নিয়ে ইরাকের কেন্দ্রস্থলের ফিরদৌস স্কৌয়ারে জড়ো হন।
উল্লেখ্য,
২০০৩ সালে এ-ফিরদৌস
স্কৌয়ারেই সাদ্দাম হুসেনের একটি মূর্তি ভেঙে দিয়েছিলো মার্কিন বাহিনী ও তাদের ইরাকী
সহযোগীরা।
জানা গেছে,
শুক্রবারের নামাজের পরে
সাদরপন্থীরা 'না,
মার্কিনীদের সাথে
চুক্তির ব্যাপারে আমরা না বলছি'
বলে স্লৌগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভের উদ্যোক্তারা
জর্জ বুশের একটি কুশ-পুত্তলিকাতে প্লাস্টিকের বোতল ও জুতো দিয়ে আঘাত করতে থাকেন।
সাদরীদের
বিক্ষোভটিকে ঘিরে ইরাকী প্রশাসন অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
শুক্রবার সকাল থেকেই
বিক্ষোভ-স্থলের আশেপাশের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে পুলিস ও সেনা মোতায়েন করা হয়।
এছাড়াও আশেপাশের
ভবনগুলোর ছাদের উপরে সেনা-স্নাইপারদের বিচরণ করতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য,
ইরাক-মার্কিন নিরাপত্তা
চুক্তিটির ব্যাপারে আল সাদরের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেয়া হচ্ছে।
সাদরের দাবী এ-চুক্তিটি
মার্কিন স্বার্থের কাছে ইরাকের আত্মসমর্পণের আরও একটি প্রমাণ।
শুক্রবারের বিক্ষোভে
সাদরের পক্ষে একটি বিবৃতি পাঠ করেন শেখ আবদুল হাদী আল মোহাম্মদী।
বিবৃতিতে সাদর বলেন,
'সরকারকে
এ-কথা বলে দেয়া যাক,
আমেরিকা এখন বা কখনও আমাদের
সাথে আসবে না।'
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে
ইসলামের শত্রু ।
সাদর আরও বলেন,
'সরকারকে
অবশ্যই জানতে হবে সুসময়ে-দুঃসময়ে জনগণই হচ্ছে সহায়।'
শিয়া ধর্মগুরু আরও বলেন,
'ইরাক'-সরকার যদি দখলদারদের ছুঁড়ে ফেলে, তাহলে জনগণ তাদের পাশে দাঁড়াবে।'
সাদরের এ-বিবৃতি পঠিত
হবার সময় বিক্ষোভকারীরা, 'ঠিক,
মুক্তাদা ঠিক'
বলে শ্লৌগান দিতে থাকে।
সাদরের
এক মুখপাত্র সালাহ আল ওবায়েদী জানান, 'শুক্রবারের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে এটাই
প্রমাণিত হয় যে,
ইরাকের জনগণ মার্কিনীদের সাথে
চুক্তির বিরুদ্ধে।'
এ-প্রসঙ্গে তিনি
প্রধানমন্ত্রী নূরি আল মালিকির সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যও উদ্ধৃত করেন।
উল্লেখ্য,
মালিকি জানিয়েছেন, তিনি
ও তার দল আলোচ্য চুক্তিটির সব কিছু মেনে নিবেন না।
অবশ্য মালিকি মঙ্গলবার
দাবী করেন, চুক্তি-বিরোধীরা ইরাকে মার্কিনীদের অবস্থান দীর্ঘায়িত করতে চায়,
যাতে করে তারা
মার্কিনীদের সাথে লড়াই চালিয়ে যাবার সুযোগ অব্যাহত রাখতে পারে।
চুক্তি-মতে,
২০০৯ সালের জুন মাসের মধ্যে
ইরাকের আকাশ ভাগের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবে মার্কিনীরা।
এছাড়াও ভূমি থেকে সেনা
প্রত্যাহার করে নেবে মার্কিনীরা।
২০১১ সালের মধ্যে ইরাক
থেকে মার্কিন সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে চুক্তিতে।
এছাড়াও চুক্তি সাধিত হলে
মার্কিনীরা যদি কাউকে গ্রেফতার করতে চায়, তাহলে তাদের হাতে ইরাকী ওয়ারেন্ট থাকতে
হবে।
এছাড়াও মার্কিন ঠিকাদাররা
চুক্তি পরবর্তী সময় থেকে ইরাকী আইনের অধীন হবেন।
লন্ডনঃ ২১ নভেম্বর ২০০৮
|