|
হাসিনা-খালেদা মুলাকাত প্রসঙ্গে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর
কথা
বাংলাদেশের
বৃহৎ দু-দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দু-নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া শুক্রবার
পরস্পরের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত
অনুষ্ঠানে
নিমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত-কালে এক মুলাকাতে
তারা পরস্পরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন। । ২০০৬ সালের পর এ-প্রথম তারা পরস্পরের
সঙ্গে আলাপ করলেন। বস্তুতঃ দীর্ঘ ১৬ বছরের মধ্যে তাদের মধ্যে কথা হয়েছে কদাচিৎ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ইউকেবেঙ্গলির পক্ষ থেকে দু-নেত্রীর আলাপ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট
সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়।
আলাপের বিবরণ ইউকেবেঙ্গলির পাঠকদের জন্য তুলে দেওয়া হলো।
সেনাকুঞ্জে
দু-নেত্রীর পরস্পরের সাথে কুশল বিনিময় হয়েছে। এ-প্রসঙ্গে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
বলেন, 'ভালোই প্রতিক্রিয়া হচ্ছে আমার। দু-নেত্রীর মধ্যে দেখা হয়েছে এবং তারা
পরস্পরের সঙ্গে কথা বলেছেন। এটা শুভ লক্ষণ। খালেদা জিয়ার রাজনীতি হচ্ছে অপরাজনীতি।
কিন্তু তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার দল দু-টি বৃহত্তম দলের একটি। সুতরাং
ভবিষ্যত পার্লামেন্টে আওয়ামীলীগ যদি ক্ষমতায় যায় বা যদি বিরোধী দলে থাকে,
যে-কোনোভাবেই হোক, বিএনপির সঙ্গে তাকে কথা-বার্তা বলতে হবে, সংযোগ রক্ষা করতে হবে
এবং সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে। একটা আদর্শগত মিল হয়তো তাদের হবে না। কিন্তু তাদের
মধ্যে একটা রাজনৈতিক পেশাগত সম্পর্ক থাকা উচিত। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যাতে আবার
সামরিক শাসন না হয়, এ-ধরণের ওয়ান ইলেভেনের মতো ঘটনা না ঘটে, এ-জন্য
তাদের ভিতরে একটা নূন্যতম সমঝোতা থাকা দরকার।
বেশ কিছুদিন ধরে
শোনা যাচ্ছিলো যে, বর্তমানে বাংলাদেশের ক্ষমতায় যারা আছেন তারা দু-নেত্রীর মধ্যে
আলোচনার চেষ্টা করবেন বা এক টেবিলে বৈঠকের চেষ্টা করবেন। আজকের ঘটনাটিকে কীভাবে এর
সাথে সম্পর্কিত করবেন? এ-প্রশ্নের জবাবে চৌধুরী বলেন, 'বর্তমান উপদেষ্টা সরকারের
ক্ষমতা কতোদূর তা জানি না। তারা-তো পুতুল নাচের ইতিকথা। আসলে-তো সামরিক বাহিনী
তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা হয়তো ভাবছে, আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে সরানো না গেলে
বিএনপিকে রাজনীতির মাঠে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে আসা যাতে বিএনপিকে রক্ষা করা যায়।
কারণ বিএনপির গত পাঁচ বছরের শাসন এতোই কলঙ্কিত শাসন যে, ওয়ান ইলেভেন না আসলে হয়তো
দলটা নিশ্চিহ্নই হয়ে যেতো। এখন তাদেরকে আবার তারা সাজিয়ে গুজিয়ে মাঠে আনা হয়েছে।
এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাদেরকে সম-পর্যায়ে বসাতে পারলে বিএনপিকে রক্ষা করা যায়।
সে-চেষ্টা উপদেষ্টা সরকারের-তো থাকবেই, কারণ তাদের পিছনে যারা কল-কাঠি নাড়ছেন -
সামরিক বাহিনী - তারা বিএনপির দিকেই বেশি আকৃষ্ট।
বাংলাদেশের
রাজনীতিতে আজকের ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে কি-না জানতে চাওয়া হলে আবদুল গাফ্ফার
চৌধুরী বলেন, 'খুব একটা পড়বে না। তবে একেবারেই-যে পড়বে না, তা নয়। কারণ দু-নেত্রী
একেবারে মুখো-মুখি হন না, কথা বলেন না, এ-যে একটা অচলাবস্থা বা সঙ্কট-জনক
পরিস্থিতি, তা থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কিছুটা হলেও বরফ গলবে। এ-বরফ-গলাটা
দরকার এবং আগামী ইলেকশানের জন্য এ-বরফ গলাটা দরকার। কারণ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী
দুটো দলই হচ্ছে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ। এ-দুটো দলের ভিতরে এক ধরণের গণতান্ত্রিক
সমঝোতার সম্পর্ক থাকা দরকার এবং সেটা হয়তো এ-সাক্ষাতকারের ফলে কিছুটা তৈরী হবে।
লন্ডনঃ ২১ নভেম্বর
২০০৮
|