|
লন্ডনের অবৈধ অভিবাসীদের
এামনেস্টি-দানের
পক্ষে মেয়র জনসন
ব্রিটেইনের
রাজধানী লন্ডনে বসবাসকারী লাখ চারেক অবৈধ অভিবাসীকে
এামনেস্টি-দানের জন্য আহবান
জানিয়েছেন মেয়র বরিস জনসন।
অবৈধদের বৈধ করে নেয়ার
মাধ্যমে অর্থনীতিক লাভের দিকটি খতিয়ে দেখার জন্য মেয়র অফিসের পক্ষ থেকে একটি কমিশন
গঠনের সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন জনসন।
লন্ডন মেয়রের মতে,
ব্রিটেইনে অবৈধভাবে অবস্থানকারী লোকজনে হাজারে-হাজারে ফেরত পাঠিয়ে দেয়ার ব্যাপারটি
কখনও বাস্তবে পর্যবসিত হবে না।
দীর্ঘদিন থেকে
সর্ব-সাধারণ্যে অভিবাসী-বিরোধী হিসাবে পরিচিত জনসনের সর্বশেষ অবস্থানটিকে বেশ
আগ্রহের সাথে লক্ষ্য করছেন পর্যবেক্ষকরা।
শুক্রবার
রাতে চ্যানেল ফৌরের সাথে আলাপ-কালে জনসন জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অভিবাসী হয়ে থাকা
লোকজনকে ব্রিটেইনে অবস্থানের অনুমতি দেয়া হলে তার মধ্যে ট্যাক্স রেভিনিউর অঙ্ক
'বিপুলভাবে
বৃদ্ধি'
পাবে বলেই তিনি মনে করেন।
সরকারী হিসাব-মতে,
ব্রিটেইনে অবস্থানকারী ৭
লক্ষ অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে ৪ লক্ষের অবস্থান লন্ডনে।
জনসন জানান, অবৈধ
অভিবাসীদের অবস্থানের অনুমিত প্রদানের অর্থনৈতিক গুরুত্বের দিকটি খতিয়ে দেখার জন্য
তিনি একটি কমিশন গঠন করতে ইচ্ছুক।
জনসন অবশ্য জানান অবৈধ
অভিবাসীরা আইন-ভঙ্গ করছে এবং
'নীতিগতভাবে'
দেখলে এদেরকে ফিরত
পাঠিয়ে দেয়াই উচিত।
এ-প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
'পরিতাপের
ব্যাপার হচ্ছে, তেমনটি কখনও ঘটবে না।'
অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করে
নেয়া সংক্রান্ত বিতর্কে নেতৃত্ব-দানের আগ্রহও প্রকাশ করেছেম জনসন।
অবৈধদের
বৈধ করে নেয়ার পক্ষে যুক্তি প্রদান-কালে জনসন জানান, তিনি অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত
করার পক্ষপাতী নন।
তবে অবৈধদের গণ-হারে
ফিরত পাঠানো প্রসঙ্গে জনসন জানান, এ-ক্ষেত্রে প্রশাসনকে গুরুতর আইনী ও অর্থনৈতিক
অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়।
কোন্ ধরণের অবৈধ
অভিবাসীরা বৈধ হতে পারেন, সে-ব্যাপারে নিজ-ধারণা ব্যক্ত করে জনসন জানান, আগ্রহী
অবৈধ অভিবাসীটির ব্রিটেইন-বাসের মেয়াদ কমপক্ষে পাঁচ বছর হতে হবে।
এবং তাকে ব্রিটিশ
সমাজ-ব্যবস্থা ও অর্থনীতির প্রতি 'কমিটমেন্ট'-এর প্রমাণ দিতে হবে।
এ-সবের সাথে আগ্রহী
ব্যক্তিটির ক্রিমিন্যাল রেকর্ড পরিষ্কার থাকার ব্যাপারটি যোগ করা যেতে পারে বলেও মত
প্রকাশ করেছেন জনসন।
দীর্ঘ-দিন থেকেই অভিবাসীদের প্রতি বিরূপ একজন ব্যক্তিত্ব হিসাবে পরিচিত জনসনের কাছ
থেকে আসা শুক্রবারের বক্তব্যটি পর্যবেক্ষকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরী করেছে বলে মনে
হচ্ছে।
জনসনের কাছ থেকে আসা
বক্তব্যটিকে তার নিজ-দল কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যেও ভালোভাবে দেখা হবে বলে মনে করা
হচ্ছে না।
উল্লেখ্য,
টৌরীরা অভিবাসনের
বার্ষিক সংখ্যা নির্ধারণ করে দেয়ার জন্য অনেক দিন থেকে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির উপর
চাপ দিচ্ছে।
অবশ্য, জনসন অবৈধদের বৈধ করে
নেয়ার পক্ষে অনেক কথা বললেও, এর তেমন কোনো আইনী গুরুত্ব নেই।
কেনো-না, ব্রিটিশ
অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো এখতিয়ার লন্ডন মেয়রের হাতে নেই।
তবে, মেয়র অফিসের পক্ষ
থেকে আলোচ্য বিষয়ের রিভিউটি সমাপ্ত হয়ে গেলে,
জনসন এ-ব্যাপারে লেবার
সরকারের সাথে আলাপ-আলোচনা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
স্মরণ
করা যেতে পারে,
চলতি বছরের মাঝামাঝিতে কেন
লিভিংস্টৌনের বিরুদ্ধে মেয়র-পদে লড়াইয়ে অংশগ্রহণ-কালে প্রথম বারের-মতো অবৈধ
অভিবাসীদের বৈধ করে নেয়ার পক্ষে কথা-বার্তা শুরু করেছিলেন জনসন,
যা দল-নেতা ডেইভিড
ক্যামেরোনের অনাগ্রহে চাপা পড়ে গিয়েছিলো।
লন্ডনঃ ২১
নভেম্বর ২০০৮
|