|
বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রশ্নে বিএনপি-জামায়াত জোট অবশেষে নমনীয়
বাংলাদেশের
বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে আগের কঠোর অবস্থান থেকে
সরে এসে বেশ নমনীয় হয়েছে বিএনপি নেত্বাধীন চার দলীয় জোট।
বৃহস্পতিবার রাতে
চারদলীয় জোটের প্রধান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিক সংবাদ
সম্মেলনে জানিয়েছেন,
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ১৮
ডিসেম্বর
থেকে পিছিয়ে ২৮ ডিসেম্বর
নেওয়া হলে চার দল তাতে অংশ নেবে।
তবে মনোনয়নপত্র
প্রত্যাহারের পর জরুরী অবস্থা পুরোপুরি প্রত্যাহার,
গণপ্রতিনিধিত্ব
অধ্যাদেশের ৯১ (ই) ধারা বাতিল ও উপজেলা নির্বাচন এক মাস পিছানোর দাবী জানানো হয়েছে
জোটের পক্ষ থেকে।
স্মরণ
করা যেতে পারে,
প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে নানা
ধরণের টানা-পোড়েনের পরে গত বুধবার সরকার আবার পুরোনো অবস্থানে ফিরে যায় এবং
প্রথমবার ঘোষিত তারিখে অর্থাৎ ১৮ ডিসেম্বর হবে বলে জানিয়ে দেয়।
উল্লেখ্য,
সরকার শুরুতে ২৮
ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন এবং ২০০৯ সালের ৮ জানুয়ারী উপজেলা নির্বাচন হবে বলে
জানিয়েছিলো।
আওয়ামী লীগ-সহ অন্য সব দল
সরকারের ঐ প্রস্তাবে রাজী হলেও চার দলীয় জোট তা প্রত্যাখ্যান করে।
লক্ষ্য করার ব্যাপার,
কয়দিন ধরে জানুয়ারী মাসে
নির্বাচন নিয়ে যাবার দাবী তোলা হলেও,
সরকারে পক্ষ থেকে কড়া
অবস্থান গ্রহণের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ২৮ ডিসেম্বরে নির্বাচনের তারিখের ব্যাপারে রাজী
থাকার ঘোষণা দিয়েছে চারজোট।
এক্ষেত্রে অবশ্য তারা
জরুরী অবস্থা তুলে নেয়াসহ আর দুয়েকটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার চার দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়া জোটের বৈঠক করে নমনীয় হয়ে বলেছেন,
'২৮
ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন
অনুষ্ঠান এবং উপজেলা নির্বাচন একমাস পিছানো হলে চারদলীয় জোট তাতে অংশ নিবে।'
বিএনপি ও তার মিত্ররা
নির্বাচনে যেতে খুবই উদগ্রীব বলে উল্লেখ করে খালেদা জিয়া আবারও গণপ্রতিনিধিত্ব
আদেশের (আরপিও) ৯১ (ই) ধারা বাতিল ও মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন থেকে জরুরী অবস্থা
সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে বলেছেন।
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে
৯টার দিকে গুলশানে নিজ-কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ১৮ই
wW‡m¤^i
নির্বাচন অনুষ্ঠানের 'একতরফা
ঘোষণা' প্রত্যাহার করে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন করতে সরকারের উদ্দেশে আহ্বান জানান
খালেদা জিয়া।
খালেদা
জিয়ার বক্তব্যের ব্যাপারে রাতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
তবে প্রধান নির্বাচন
কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে 'একটি ইতিবাচক অগ্রগতি' বলে
মন্তব্য করে রাতে ইউকেবেঙ্গলির এ-প্রতিবেদককে বলেছেন,
'বিএনপি
চেয়ারপার্সনের ঘোষণা নির্বাচনের পথে একটি ভাল অগ্রগতি।'
তিনি বলেন, 'আমাদের
বৈঠকে বসতে হবে।'
বৈঠকটি ছুটির দিন শুক্রবারও হতে
পারে বলে তিনি জানান।
সংবাদ
সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের প্রবল আগ্রহের কথা
উল্লেখ করে বলেন,
'আমরা
নির্বাচনে যেতে উদগ্রীব বলেই সাত দফা থেকে ছাড় দিয়ে চার দফায় নেমে এসেছিলাম।'
তিনি অভিযোগ করেন,
তার দলকে নির্বাচনের
বাইরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন ও
সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন তিনি।
ঢাকা থেকে
আবদুর রহিম হারমাছি
২০
b‡f¤^i
২০০৮ |