|
বিএনপির সদস্য-তালিকা
ইন্টারনেটে ফাঁসঃ অনেকেই
তথ্য প্রকাশ
ব্রিটেইনের বর্ণবাদী দল ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) সদস্যদের পুরো তালিকাটি
ফাঁস হয়ে গেছে।
সংগঠনের নেতা নিক গ্রিফিন
জানিয়েছেন, গত বছর দলত্যাগ করে চলে যাওয়া একজন 'হার্ড লাইনার' এ-ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।
এদিকে,
সংগঠনের সদস্যদের
তালিকাটি প্রকাশ হয়ে যাবার মধ্য দিয়ে বিএনপির শক্তি-সামর্থ সম্পর্কিত প্রচলিত
ধারণার মধ্যে বড়ো ধরণের পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
খবরে
প্রকাশ,
বিএনপির সর্বমোট সাড়ে ১৩ হাজার
সদস্যের নাম-ধাম-সহ নানান তথ্য-সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ একটি তালিকা অজ্ঞাত-পরিচয় একটি
সূত্র থেকে ইন্টারনেটে ফাঁস করে দেয়া হয়।
সোমবার সন্ধ্যার পরে
আপলৌড করা তালিকাতে সদস্যদের নাম,
ঠিকানা,
মৌবাইল নাম্বার এমনকি
ই-মেইল এ্যাকাউন্টটিও দিয়ে দেয়া হয়েছে।
এ-তালিকাতে পুলিস
বাহিনীর সদস্য থেকে শুরু করে আইনজীবী,
চার্চের মিনিস্টার ও
স্কুল শিক্ষক-সহ নানান
পেশার লোকজনের বিএনপির সাথে গোপনে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এমনকি মাত্র ষোল বছর
বয়সেই দলটির সদস্য হয়ে পড়া শিশুদের নামও দেখা গেছে তালিকাতে।
উল্লেখ্য,
কট্টর ডানপন্থী দল
বিএনপি তার সদস্যদের নাম-পরিচয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করে।
দলের একেবারে শীর্ষ-স্থানীয় কয়েক জন লোক ছাড়া আর
কারও পক্ষেই পূর্ণাঙ্গ
তালিকাটি কখনও দেখা সম্ভব হয় না।
এমনকি,
কোনো কারণে শাখা অফিসগুলোর কাছে সদস্যদের
কারও নাম-ধাম পাঠাতে
হলেও গোপন পাসওয়ার্ড সম্বলিত ই-মেইলের মাধ্যমে তা নির্ধারিত ব্যক্তির কাছে পাঠানো
হয়,
যা দায়িত্বপ্রাপ্ত
ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ খুলতে পারেন না।
সংবাদ-মাধ্যম সূত্রে
প্রকাশ,
ইয়র্কে অবস্থিত বিএনপির একটি
অফিসে সদস্যদের নামের তালিকাটি চরম গোপনীয়তা-সহ সংরক্ষণ করা হয়।
২০০৭
সালের শেষপ্রান্তের পর দলে যোগদানকারী মানুষ-জনের নাম এ-তালিকাতে নেই বলে জানিয়েছে
বিএনপি।
তবে ফাঁস হওয়া তালিকাটিতে দল
ছেড়ে যাওয়া কিছু-কিছু লোকের নাম থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিস বিভাগ বুধবার
জানিয়েছে, তাদের সংগঠনের কোনো সদস্য গোপনে বিএনপির সাথে জড়িত আছেন কি-না, তা
ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
তালিকাটি প্রকাশ হবার পর
থেকেই সংশ্লিষ্ট ইন্টারনেটের চ্যাট-রুমটি বিএনপির লোকজনের দখলে চলে যায়।
তারা একের পর এক বিভিন্ন
পৌস্টিংয়ের মাধ্যমে তালিকাটিও ইন্টারনেট থেকে তুলে নেয়ার দাবী জানাতে থাকেন।
উল্লেখ্য,
সদস্যদের পরিচয় ফাঁস হয়ে
যাওয়ার কারণে চরম বিব্রত বিএনপির পক্ষ থেকে আসা আপত্তির কারণে বুধবার সকালে
ইন্টারনেট থেকে তালিকাটি তুলে নেয়া হয়েছে।
তালিকা ফাঁস করে দিয়ে
দলকে সাংঘাতিক রকমের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা দেয়া ব্যক্তিটির ব্যাপারে বিবিসি
রেডিও ফৌরের টুডে প্রৌগামের সাথে আলাপ-কালে বুধবার গ্রিফিন বলেন,
'আমাদের দল যেভাবে
চলছিলো, সে-ব্যাপারে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না এবং সে-কারণে তিনি [দল ছেড়ে] চলে
গিয়েছিলেন এবং সাথে করে তালিকাটি নিয়ে গিয়েছিলেন।'
গ্রিফিন অবশ্য দাবী করেন, তালিকা ফাঁসের ঘটনায় মিডিয়াতে বিএনপি যে-ধরণের প্রচার
পাচ্ছে, তা দলের জন্য লাভজনক ব্যাপার।
তিনি আরও দাবী করেন,
বিএনপিকে শুধুই '[বর্ণবাদী] ন্যাড়া মাথার' দল হিসাবে চালিয়ে দেয়ার যে-প্রচেষ্টা
বলবৎ আছে তা যে 'একেবারেই ঠিক নয়', সে-ব্যাপারটি ফাঁস-হওয়া তালিকা থেকেই স্পষ্ট হয়ে
গেছে।
অভিবাসন-প্রক্রিয়ার তীব্র
বিরোধী বিএনপির মুখপাত্র সাইমন ডারবী আক্ষেপ করে জানান, যিনি বা যারা তালিকা ফাঁসের
কাজটি করেছেন, তিনি বা তারা জীবনের অন্যতম বোকামীটি করেছেন।
এ-ঘটনার মধ্য দিয়ে
ক্ষমতাসীন লেবারদের 'নোংরা মদত' দেয়া হয়েছে বলেও দাবী করেন মুখপাত্র।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বর্ণবাদী দলের সাথে গোপনে যুক্ত থাকার ব্যাপারটি প্রমাণিত
হবার কারণে বহু মানুষের চাকুরী থেকে ছাঁটাই ও
ডিসিপ্লিনারী
এ্যাকশনের মধ্যে পড়ার সম্ভাবনা আছে।
লন্ডনঃ ১৯
নভেম্বর ২০০৮ |