|
১৮ ডিসেম্বরে
বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনঃ
আবার
তফসিল পরিবর্তন
বাংলাদেশে
বহুল প্রতিক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ব-ঘোষিত ১৮
ডিসেম্বরেই
অনুষ্ঠিত হবে।
তবে নির্বাচন কমিশন
ঘোষিত আগের তফসিল আরেকবার পরিবর্তন করা হয়েছে।
সংশোধিত তফসিলে জাতীয়
সংসদ ও উপজেলা উভয় নির্বাচনে মনোনয়ন-পত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২০
নভেম্বর
থেকে বাড়িয়ে ২৩ নভেম্বর করেছে
নির্বাচন কমিশন।
এদিকে,
অন্যতম বৃহত্তম
রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন জামায়াত-সহ চার-দলীয় জোট ১৮
ডিসেম্বর
নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণাকে
নিন্দা জানিয়ে এ-ঘোষণাকে 'এক তরফা ও অগ্রহণযোগ্য' বলে আখ্যায়িত করে সরকারের
সমালোচনা করেছে।
বুধবার
সারা-দিন নানা জল্পনা-কল্পনার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে
সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্বাবধায়ক সরকারের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত বাণিজ্য উপদেষ্টা হোসেন
জিল্লুর রহমান সরকারের পক্ষে এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় বলেছেন,
'বড়ো
দু-জোটের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় আগামী ১৮ ডিসেম্বর সংসদ ও ২৮
ডিসেম্বর উপজেলা
নির্বাচনের তারিখ ঠিক থাকছে।'
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য
উপদেষ্টার পড়ে শোনানো লিখিত বক্তব্যে বলা হয়,
'নানামুখী
যোগাযোগ ও ঐকান্তিক এবং সর্বাত্মক প্রচেষ্টার পরও নির্বাচন কমিশন ও সরকারের
উত্থাপিত প্রস্তাবনার বিষয়ে দু-রাজনৈতিক জোটের ঐকমত্য না হওয়ায় সংসদীয় ও উপজেলা
নির্বাচন পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।'
তিনি বলেন, 'সরকার ও
নির্বাচন কমিশনের ঐকান্তিক ইচ্ছা থাকবে জাতির বৃহত্তর
স্বার্থ ও টেকসই
গণতান্ত্রিক চর্চার খাতিরে সব দল ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ
করবে।'
বিএনপি ও
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন দু-জোটের কাছে সরকারের দেওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে উপদেষ্টা
বলেন,
'শেষ লগ্নে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবীটি উত্থাপিত হওয়ার পরও জাতির বৃহত্তর
স্বার্থ, ঐক্য ও
সুদূরপ্রসারী কল্যাণের কথা বিবেচনায় রেখে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে
রাজনৈতিক জোট দুটির বিবেচনার জন্য চারটি প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এগুলো হলো,
সংসদীয় নির্বাচন ১০ দিন
পর পুনঃনির্ধারণ করে ২৮ ডিসেম্বর
অনুষ্ঠান,
সংসদীয় নির্বাচনের আগে
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে যৌক্তিক সময়ে জরুরী আইন সম্পূর্ণভাবে তুলে নেয়া,
উপজেলা নির্বাচন ২০০৯
সালের ৮ জানুয়ারী অনুষ্ঠান এবং আরপিও ৯১ (ই) ধারার প্রয়োগে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও
প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা
নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।
বাণিজ্য
উপদেষ্টা জানান,
সরকার আগে উল্লেখিত সময়-সীমার
প্রতি প্রতিশ্রুতি বজায় রেখে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই ১৮
ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছিল।
নির্বাচনের তারিখ
অপরিবর্তিত থাকলেও জাতির বৃহত্তর
স্বার্থ ও টেকসই
গণতান্ত্রিক চর্চার খাতিরে সব দল তাতে অংশ নেবে বলে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের
প্রত্যাশার কথা জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা।
এর আগে
রাজধানী ঢাকা-সহ সারা দেশে গুজব ছড়িয়ে যায় যে,
সংসদ নির্বাচন ১৮
ডিসেম্বর থেকে পিছিয়ে ২৮
ডিসেম্বর করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে
আসলে সংসদ নির্বাচন ২৮ ডিসেম্বর
করা যেতে পারে - বিকেলে
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদার এ-বক্তব্যের পর সবাই নিশ্চিত ছিলেন ২৮
ডিসেম্বর দেশে সংসদ
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
কিন্তু রাতে পূর্ব-ঘোষিত
তারিখ অনুযায়ী ‘১৮
wW‡m¤^i
জাতীয় ও ২৮ ডিসেম্বর উপজেলা
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে' বলে বাণিজ্য উপদেষ্টা সংবাদ সম্মেলনে যে ঘোষণা দেন তাতে
দেশবাসী অবাক হন।
মঙ্গলবার
রাতে সরকারের পাঁচ উপদেষ্টা দেশটির দু-প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে গঠিত ১৪ দল
(আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন জোট) ও চার দলীয় জোটের (বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট) নেতাদের
সঙ্গে বৈঠক করে সরকারের পক্ষ থেকে সংসদীয় নির্বাচন ১০ দিন পর পুনঃনির্ধারণ করে ২৮
ডিসেম্বর
এবং উপজেলা নির্বাচন ২০০৯ সালের
৮ জানুয়ারী অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো।
সরকারের
নীতি নির্ধারকদের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র ইউকেবেঙ্গলির এ-প্রতিবেদককে জানান,
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন
১৪ দল সরকারের ঐ-প্রস্তাবে (১৮
ডিসেম্বর সংসদ ও ২৮
ডিসেম্বর উপজেলা
নির্বাচন) রাজী হলেও চার দল রাজী হয়নি।
চার দল দু-নির্বাচনের
তারিখ আরও পিছানোর দাবী জানিয়েছিলো।
কিন্তু সরকার ও ১৪ দল
তাতে রাজী ছিলো না।
সরকার চায় যে-করেই হোক
ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করতে।
মঙ্গলবার রাত থেকে
বুধবার সারা দিন চার দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে দফায়-দফায় আলোচনা করে ব্যর্থ হয়ে
অবশেষে রাতে সরকারের পক্ষ থেকে সরকার পূর্ব ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী ১৮ ডিসেম্বর সংসদ ও
২৮ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।
চার দলীয়
জোট ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে,
নাকি বয়কট করবে,
সে-ব্যাপারে কোনো কিছুই বলেনি।
বৃহস্পতিবার এ-ব্যাপারে
তারা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিবে বলে বুধবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব খন্দকার
দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন
খালেদা জিয়া গত সোমবার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চার দফা মেনে নেওয়ার শর্তে নির্বাচনে যাওয়ার
ঘোষণা দেন।
চারদফার মধ্যে একটি শর্ত ছিলো
তফসিল পুনঃনির্ধারণ।
খালেদা জিয়ার ঘোষণার
একদিন পর মঙ্গলবার রাতে সরকারের পাঁচ উপদেষ্টা খালেদা ও হাসিনা-সহ দু-প্রধান দলের
শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ঢাকা থেকে
আবদুর রহিম হারমাছি
১৯
b‡f¤^i
২০০৮ |