|
বাংলাদেশে
১৮ ডিসেম্বরের নির্বাচন বড়ো
সঙ্কটের জন্ম দিবেঃ বাসদ
ডিসেম্বরের
অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষিত বাংলাদেশের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক সঙ্কট
নিরসন করার পরিবর্তে আরও বড়ো সঙ্কটের জন্ম দিবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশটির
অন্যতম প্রধান বামপন্থী দল বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ।
বাংলাদেশে
জাতীয়তাবাদী, ধর্মবাদী ও সামরিক ধারার সংমিশ্রিত প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট, আওয়ামী
লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের বাইরে গড়ে ওঠা
বামপন্থীদের ক্ষুদে জোট বাম-মোর্চার প্রধানতম দল বাসদ ৩১টি জেলার
৬৩টি আসনে তার প্রার্থীতা ঘোষণা করেছে সোমবার। রাজধানী ঢাকায় দলীয় প্রধান
কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ-সম্মেলনে দলটির আহবায়ক ও নির্বাচনী মনোনয়ন বৌর্ডের
চেয়ারম্যান খালেকুজ্জামান উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এ-ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশে
যে-পরিস্থিতিতে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তার সমালোচনা করে খালেকুজ্জামান বলেন, 'জরুরী
অবস্থার মাধ্যমে জনগণের হাত-পা এখনও বাঁধা রয়েছে; যদিও দড়ি
কখনও খাটো কখনও লম্বা করে বাঁধার কথা বলা হচ্ছে।' তিনি বলেন, 'সম্পূর্ণ
বাধন-মুক্ত হওয়ার বিষয়টা জনগণের অধিকার নয়, শাসকদের ইচ্ছা-নির্ভর
বিষয় থাকছে।'
বাংলাদেশের
সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দু-বছরের শাসন-কাল সম্পর্কে
বাসদের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, 'গত দু-বছরে
তত্ত্বাবধায়ক সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষার সাথে সুর মিলিয়ে কথা বলেছে আর জনগণের স্বার্থ
ও প্রত্যাশার বিপরীতে কাজ করেছে।' বক্তব্যে দাবী করা হয়,
'৩৬ বছরের বুর্জোয়া-শাসন যে-পরিমাণ
দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ণ, স্বেচ্ছাচার-স্বৈরাচার চালিয়ে কলঙ্কিত ও জনগণ কর্তৃক
প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলো, এক এগারোর পর্দা ঝুলিয়ে তার আড়ালে
এদের গায়ের ও কাপড়ের ময়লা পরিষ্কার করে তাদের পুনর্বাসন প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে,
যদিও এদের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের মিমাংসা পুরোপুরি করে উঠতে পারেনি।'
অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের
সুষ্ঠুতা ও নিরপেক্ষতা সম্পর্কে সংবাদ-সম্মলনে বলা হয়, 'এ
ধরণের একটা পরিস্থিতি আর যাই হোক্ সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচনের
পক্ষে সহায়ক নয়।' এ-প্রসঙ্গে কারণ দেখিয়ে দলটির আহবায়ক তার দীর্ঘ বিবৃতিতে
বলেন, 'তাছাড়া কালো টাকা, পেশীশক্তি ও প্রশাসনিক খবরদারী, এগারো
জানুয়ারী পূর্বাবস্থা সৃষ্টিকারীদের সাথে আপোষ ও
নতি স্বীকার, সাম্রাজ্যবাদী বিভিন্ন শক্তির নানা মহড়া, দলীয়
নিবন্ধনের জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ ইত্যাদি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা
বাড়িয়েছে এবং এসব কিছু মিলে নির্বাচনকে প্রাণহীন ও অতীত
নষ্ট রাজনীতির ধারাবাহিকতাকেই নতুন বোতলে পুরোনো মদের মতো
হাজির করে রেখেছে।' খালেকুজ্জামান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, '২০০৭
সালের ২২ জানুয়ারীর নির্বাচন যে-ধরণের
সঙ্কটের জন্ম দিতো, দু-বছর
পর ১৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনও সঙ্কট
নিরসন নয়, আরও বড়ো সঙ্কটের জন্ম
দিবে।'
ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয়
নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্রে উত্তরণ ঘটবে, এমন সম্ভাবনাকে নাকচ করে
দিয়ে বাসদ-প্রধান খালেকুজ্জামান তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, 'তারপরও
একটি অনির্বাচিত সরকারের বদলে নির্বাচিত সরকারের গণদাবীর
প্রেক্ষিত বিবেচনায় আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
সারাদেশের মোট ৩১
জেলায় বাসদের ৬৩ প্রার্থীর নাম ঘোষণার পাশা-পাশি দলীয়
প্রধান বলেন, 'আমরা গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা এবং বাংলাদেশের
কমিউনিস্ট পার্টি মিলে একটা আন্দোলন ও নির্বাচনের বাম কেন্দ্র গড়ে তোলা ও সর্বোচ্চ
সমঝোতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও গ্রহণ করেছি।'
খালেকুজ্জামান বাসদ-সহ
বামপন্থী দলের প্রার্থীদের ভৌট দিয়ে নির্বাচিত করার মাধ্যমে 'অধঃপতিত,
লুটপাটকারী, দুর্নীতিগ্রস্থ বুর্জোয়া রাজনীতি ও নেতৃত্ব' প্রত্যাখ্যান করার জন্য
বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে তার দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশের ৩১ জেলায় বাসদের ৬৩ প্রার্থী হলেনঃ
দিনাজপুর-৪এ
আসাফ উদ-দৌলা জুয়েল;
নীলফামারী-১এ
মোঃ আর্শাদুজ্জামান;
রংপুর-৩এ
আব্দুল কুদ্দুস, রংপুর-৪এ
হৃদয় কুমার নাথ,
রংপুর-৫এ
মমিনুল ইসলাম মমিন;
কুড়িগ্রাম-২এ
জাহেদুল হক
মিলু,
কুড়িগ্রাম-৩এ সাঈদ আক্তার আমিন,
কুড়িগ্রাম-৪এ
মহির
উদ্দিন মহির;
গাইবান্ধা-১এ
বীরেন শীল,
গাইবান্ধা-২এ
মঞ্জুর আলম মিঠু,
গাইবান্ধা-৫এ
নওশাদুজ্জামান নওশাদ;
জয়পুরহাট-১এ
ওয়াজেদ পারভেজ,
জয়পুরহাট-২এ
শাহজামান তালুকদার; বগুড়া-৫এ
রঞ্জন কুমার
দে,
বগুড়া-৬এ
সাইফুজ্জামান টুটুল,
বগুড়া-৭এ
শামসুল আলম দুলু;
নওগাঁ-৩এ
জয়নাল আবেদীন মুকুল;
রাজশাহী-৪এ
আতিকুর রহমান,
সিরাজগঞ্জ-২এ
আবু
বক্কর ভূঞা,
সিরাজগঞ্জ-৬এ
আনোয়ার;
কুষ্টিয়া-৩এ
শফিউর রহমান শফি;
মেহেরপুর-২এ
মোস্তফা
কামাল;
সাতক্ষীরা-২এ
নিত্যানন্দ সরকার,
সাতক্ষীরা-৪এ খগেন্দ্র
নাথ ঘোষ;
বরগুনা-১এ
ফেরদৌস আহম্মেদ;
পটুয়াখালী-১এ
মোঃ
জহিরুল আলম সবুজ;
ময়মনসিংহ-৪এ
খায়রুল বাশার জাহাঙ্গীর;
কিশোরগঞ্জ-১এ রূপক বসাক;
ঢাকা-৫এ
জুলফিকার আলী,
ঢাকা-৮এ
রাজেকুজ্জামান রতন,
ঢাকা-৯এ
ঈমান হোসেন কানন,
ঢাকা-১১তে
তাহেরা বেগম জলি,
ঢাকা-১৩তে
মঞ্জুর হোসেন,
ঢাকা-১৫তে
হারুন আল-রশীদ,
ঢাকা-১৬তে
মীর মোশাররফ হোসেন চৌধুরী;
গাজীপুর-১এ
ওসমান আলী,
গাজীপুর-২এ আব্দুল
কাইয়ুম,
গাজীপুর-৩এ
আকম
জহিরুল ইসলাম;
নারায়ণগঞ্জ-১এ
জাহাঙ্গীর আলম গোলক,
নারায়ণগঞ্জ-৩এ
জহিরুল
ইসলাম মোল্লা,
নারায়ণগঞ্জ-৪এ
মাহবুবুর রহমান ইসমাইল,
নারায়ণগঞ্জ-৫এ
আবু
নাঈম খান বিপ্লব;
গোপালগঞ্জ-১এ
মোশায়েদ হোসেন ঢালী;
সিলেট-১এ
উজ্জ্বল রায়;
মৌলভীবাজার-৩এ
মামুনুর রশীদ সোহেল;
হবিগঞ্জ-১এ
জুনায়েদ আহমেদ,
হবিগঞ্জ-২এ কামরুল
ইসলাম,
হবিগঞ্জ-৩এ
হুমায়ুন খান,
হবিগঞ্জ-৪এ
মুজিবুর রহমান ফরিদ;
কুমিল্লা-৮এ
সাইফুর রহমান তপন,
কুমিল্লা-১০এ এটিএম
রফিকুল হায়দার মজুমদার;
ফেনী-১এ
একেএম শামীম পাটোয়ারী,
ফেনী-২এ
হারাধন চক্রবর্ত্তী,
ফেনী-৩এ
মালেক মনসুর,
নোয়াখালী-৪এ
দলিলের রহমান দুলাল;
চাঁদপুর-৩এ
শাজাহান তালুকদার,
চাঁদপুর-৪এ
আলমগীর হোসেন দুলাল;
কক্সবাজার-১এ
নূরুল আবছার;
চট্টগ্রাম-১এ
শফিউল ইসলাম শফি,
চট্টগ্রাম-৯এ শফি
উদ্দিন কবীর আবিদ,
চট্টগ্রাম-১০এ
মহিন
উদ্দিন মহিন,
চট্টগ্রাম-১১তে
সম
ইউনুছ; এবং
পার্বত্য খাগড়াছড়িতে
জাহেদ আহমেদ টুটু।
লন্ডনঃ ১৮ নভেম্বর ২০০৮ |