|
সংবিধান প্রণয়ন শুরু নেপালেঃ
গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনায় মাওবাদীরা
রাজতন্ত্রের
অবসান ঘটিয়ে গণ-জনতন্ত্রে উত্তরণের পরে এবার সংবিধান রচনার কাজে হাত দিয়েছে নেপাল।
সোমবার থেকে দেশের
ইতিহাসের জন্য অতি-গুরুত্ব অধ্যায়টির আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটানো হয়েছে।
মাওবাদী সরকারের
নেতৃত্বে প্রণীত সংবিধানটি ২০১০ সালের ২৮ মে নাগাদ জন-সম্মখে প্রকাশ করা হবে বলে
জানা গেছে।
এদিকে,
সাবেক গেরিলাদের
সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা থেকে শুরু করে নেপালের দল-ব্যবস্থার ধরণ নিয়ে
মাওবাদীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।
নেপালের
নির্বাচিত সাংবিধানিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনোহর প্রসাদ ভট্টরাই আলোচ্য প্রসঙ্গে
বলেন,
'[সংবিধানের]
খসড়া প্রনয়নের কাজ এখন শুরু হয়েছে;
২০১০ সালের ২৮ মে নাগাদ
সর্ব-সাধারণ্যে প্রকাশিত হবার পরে শান্তি-প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।'
উল্লেখ্য,
রোববার ৬০১-সদস্য
বিশিষ্ট সংবিধান পরিষদের মাধ্যমে সংবিধান সংক্রান্ত উপরোক্ত সন-তারিখ নির্ধারণ করা
হয়েছে।
ভট্টরাই আরও জানান, সামনের
দিনগুলোতে নেপাল-জুড়ে সংবিধান বিষয়ে ব্যাপক-হারে জনগণের সাথে আলাপ-আলোচনা চালানো
হবে।
তিনি বলেন,
এটি হতে যাচ্ছে নেপালের
জনগণ দ্বারা তৈরী করা প্রথম সংবিধান।
মাওবাদীদের শীর্ষ-স্থানীয় নেতা ও সাংবিধানিক পরিষদের সদস্য দীননাথ শর্মা বলেন,
'যখন
আমরা নতুন একটি সংবিধান পাবো, তখন আমরা বুঝবো আমাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয়েছে।'
মাওবাদী আদর্শ
বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অতীতে যারা প্রাণ দিয়েছেন ও সংগ্রাম করেছেন, তাদের সকলের জন্য
নতুন সংবিধানটি একটি শ্রদ্ধাঞ্জলী হবে বলে জানিয়েছন দীননাথ।
স্মরণ করা যেতে পারে,
গেরিলা লড়াই
পরিচালনা-কালে রাজতন্ত্রের অবসান,
জনতন্ত্র গঠনের
সাথে-সাথে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়নের অঙ্গীকারও করা হয়েছিলো নেপালের
মাওবাদীদের পক্ষ থেকে।
অতীতে ক্ষমতাসীন নেপালী
কংগ্রেসের সাথে সংলাপের সময়ও জনগণের সম্মতি-ভিত্তিক সংবিধান প্রণয়নের দাবীটিকে
গুরত্বের সাথে উত্থাপন করেছিলো মাওবাদীরা।
এদিকে,
সংবিধান প্রণয়নের
আনুষ্ঠানিক সূচনার সময়টিতেই দেশের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরও কয়েকটি ইস্যুতে
নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার সূচনা ঘটিয়েছে ক্ষমতাসীন মাওবাদীরা।
জানা
গেছে,
সোমবারের আলোচনাতে সাবেক
মাওবাদী গেরিলাদের সেনাবাহিনীতে আত্মীকরণ ও
রাষ্ট্রীয় সংবিধান খসড়া
প্রণয়নের মতো জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এছাড়াও দলের মতাদর্শ এবং
নেপালে দল-ব্যবস্থার ধরণ নিয়েও আলোচনা হয়।
দল-ব্যবস্থা ও সরকারের
ধরণ নিয়ে
প্রধানমন্ত্রী পুষ্পক কুমার দাহাল ওরফে প্রচণ্ডের সাথে দলের ভিতরের হার্ড-লাইনারদের
কিছুটা মতভেদের খবর কিছুদিন থেকেই সংবাদ-মাধ্যমগুলো প্রকাশ পাচ্ছে।
উল্লেখ্য,
প্রচণ্ডের পক্ষ থেকে
নেপালকে একটি গণতান্ত্রিক-জনতন্ত্রে রূপান্তরের পক্ষে মত ব্যক্ত করে দলীয় ফৌরামে
লিখিত যুক্তি পেশ করা হয়েছে।
পক্ষান্তরে,
দলের অন্যতম গুরত্বপূর্ণ নেতা ও শীর্ষ তাত্ত্বিক মোহন বৈদ্য
কিরণের পক্ষ থেকে নেপালকে গণ-জনতন্ত্রকে
উত্তরণের পক্ষে যুক্তি দেয়া হয়েছে।
দলের ভিতরে কিরণের
অবস্থান বেশ শক্ত বলে এক সময় খবর পাওয়া গিয়েছিলো।
মাওবাদীদের অপর শীর্ষ নেতা ও অর্থমন্ত্রী বাবুরাম ভট্টরাই বর্তমানে উভয় পক্ষের
মধ্যে সমাঝোতা-মূলক একটি প্রস্তাবের খসড়া রচনার কাজে নিযুক্ত আছেন বলে জানা গেছে।
লন্ডনঃ
১৭ নভেম্বর
২০০৮ |