|
অদৃষ্টপূর্ব মোড়ঃ নিরাপত্তা
ইস্যুতে রাশিয়ার পক্ষে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্স
ইউরৌপের
মাটিতে বিতর্কিত মিসাইল শীল্ড স্থাপনের মার্কিন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্য
অবস্থান নিয়েছে ফ্রান্স।
পেন্টাগনের এহেন
প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রত্যাখান জানিয়ে ফরাসী প্রেসিডেন্ট নিকৌলাস সারকৌজী
জানিয়েছেন,
নতুন একটি প্যান-ইউরৌপীয়ান
সিকিউরিটী প্যাক্টের ব্যাপারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টে দিমিত্রি মেদভেদভের পক্ষ থেকে
ইতিপূর্বে যে-আহবান জানানো হয়েছিলো,
তাতে তিনি সমর্থন দেবেন।
ফ্রান্সের পক্ষ থেকে
রাশিয়ার পক্ষে দাঁড়িয়ে মার্কিনীদের দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিরোধিতার তাৎপর্য অত্যন্ত
সুদূর-প্রসারী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দক্ষিণ
ফ্রান্সের গভদন শহরে রাশিয়া-ইইউ সম্মেলনের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনের আলাপ-কালে
পৌল্যান্ড ও চেক রিপাবলিকের মাটিতে মিসাইল শীল্ড বসানোর মার্কিন প্রচেষ্টাকে
ইউরৌপের নিরাপত্তার জন্য প্রতিবন্ধক হিসাবে চিহ্নিত করেছেন সারকৌজী।
তিনি বলেন,
[মার্কিন] মিসাইল শীল্ড
মোতায়েনের মধ্য দিয়ে ইউরৌপের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো কিছুই যুক্ত হবে না।
বরং এর মধ্য দিয়ে
পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।
ফরাসী প্রেসিডেন্টের
পক্ষ থেকে রাশিয়ার পক্ষাবলম্বন ছাড়াও উভয় প্রেসিডেন্ট জানান আগামী গ্রীষেম
স্নায়ু-যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউরৌপের জন্য
'নিরাপত্তা
প্রকৌশল'
স্থির করার লক্ষ্যে একটি অতি-গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের ব্যাপারে
দু-দেশ একমত হতে পেরেছে।
আলোচ্য সম্মেলনটিতে
রাশিয়া ও ইউরৌপীয়ান ইউনিয়নের ২৭টি দেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে বলেও জানা গেছে।
উল্লেখ্য,
এ-বছরের শুরুতে
ভ্লাদিমির পুতিনের স্থলাভিষিক্ত হবার পর থেকেই এ-ধরণের একটি সম্মেলনের ডাক দিয়ে
যাচ্ছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট মেদভেদভ।
ধারণা করা হয়,
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী
পদে থাকা ও রুশ ক্ষমতার ভরকেন্দ্র ক্রেমলিনের উপরে একচ্ছত্র প্রভাব ধরে রাখতে সক্ষম
হওয়া পুতিনের ইচ্ছাক্রমেই ইউরৌপের নিরাপত্তা বিষয়ক সম্মেলনের ডাক দিয়ে যাচ্ছিলেন
মেদভেদভ।
শুক্রবার সম্মেলন শেষে
সাংবাদিকদের সাথে আলাপ-কালে সারকৌজী বলেন,
‘আমরা ২০০৯ সালের
মাঝামাঝি নাগাদ বসে প্যান-ইউরৌপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্য ভিতটি তৈরী করতে
পারি।‘
রুশীরা
মনে করে প্যান-ইউরৌপীয় এক নিরাপত্তা চুক্তির দিকে অগ্রসর হবার মধ্য দিয়ে মহাদেশের
মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটৌর বিস্তার ঠেকানো সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য,
স্নায়ু-যুদ্ধের আমলে
সৌভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের সাথে পাল্লা দেয়ার জন্য ন্যাটৌ
গঠন করা হয়েছিলো।
পক্ষান্তরে সৌভিয়েত ইউনিয়নের
নেতৃত্বে তৈরী হয়েছিলো ওয়ারশ জোট।
সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব
ইউরৌপের দেশগুলোতে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবসান ঘটার পরে ওয়ারশ জোট বিলুপ্ত হলেও,
ন্যাটৌ এখনও পর্যন্ত
তৎপরতা ও সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করেই চলেছে।
এতো
দিনের চেষ্টা-চরিত্রের পরে মার্কিন মিসাইল শীল্ডের বিপক্ষে প্যারিসের স্পষ্ট
অবস্থান গ্রহণের ব্যাপারটি মস্কৌর জন্য আনন্দদায়ী সংবাদ হলেও,
এতে একেবারেই সন্তুষ্ট
হতে পারছে না পৌল্যান্ড ও চেক রিপাবলিকান প্রশাসন।
উভয় দেশের মার্কিন
অনুগ্রহণভাজন সরকার শনিবার জানিয়েছে,
তাদের দেশে মিসাইল শীল্ড
বসানোর পরিকল্পনাটি ওবামা বাদ দেবেন না বলেই তারা বিশ্বাস করেন।
এ-ব্যাপারে কথাবার্তা
টিকিয়ে রাখার জন্য শনিবার চেক রিপাবলিকের রাজধানী প্রাহাতে বসে আলাপ-আলোচনাও করেছেন
দুই দেশের উধ্বর্তন কর্তা-ব্যক্তিরা।
এ-প্রসঙ্গে
বার্তা-সংস্থার সামনে আশাবাদ ব্যক্ত-কালে চেক ডেপুটী প্রাইম মিনিস্টার আলেক্সান্দর
ভোন্দরা বলেন,
'আমি শতভাগ নিশ্চিত,
ওবামা মিসাইল ডিফেন্স
[স্থাপনের] পরিকল্পনাটি পরিত্যাগ করবেন না।'
চেক মন্ত্রীর মতে
ন্যাটৌকে যারা শক্তিশালী দেখতে চান,
তাদের উচিত এ-পরিকল্পনা
সমর্থন করা।
উল্লেখ্য,
ইরান ও উত্তর কোরিয়া মতো
রাষ্ট্রগুলোর মিসাইল হামলা থেকে ইউরৌপকে বাঁচানোর কথা বলে ইউরৌপের মাটিতে মিসাইল
শীল্ড বসানোর জন্য কয়েক বছর ধরে যারপরনাই চেষ্টা করে চলেছে বুশ প্রশাসন।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে শুরু
থেকেই এ-ব্যাপারে অত্যন্ত কড়া প্রতিবাদ জানানো হচ্ছিলো।
পুতিনের
প্রেসিডেন্ট-পদের শেষ দিনগুলোতে এ-ইস্যুটিকে ঘিরে রুশ-মার্কিন সম্পর্ক বেশ খারাপ
হয়ে পড়েছিলো।
ক্রেমলিন মনে করে পৌল্যান্ড ও
চেক রিপাবলিকের মতো তার দু-প্রতিবেশীর মাটিতে তথাকথিত মিসাইল শীল্ড বসানোর মধ্য
দিয়ে বস্তুতঃ রাশিয়ার উপরে নিরাপত্তা হুমকি তৈরী করতে চাইছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকরা মনে করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের সময়টিতে রাশিয়ার
সমর্থনে ফ্রান্সের এগিয়ে আসার ব্যাপারটি যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশেষ করে বুশ-প্রশাসনে
ঘোরতর আগ্রহের বিষয় হলেও মিসাইল শীল্ড স্থাপন করা না করা নিয়ে প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট
বারাক ওবামার পক্ষ থেকে এ-ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য না আসাটাকে গুরুত্বের
সাথে নেয়া হচ্ছে।
লন্ডনঃ ১৫
নভেম্বর ২০০৮ |