|
ব্রিটেইনে অভিবাসনের অর্থনৈতিক
সুফল প্রায় শূণ্যঃ লর্ড ওয়েকহ্যাম
অন্যান্য
দেশ থেকে লোকেদের অভিবাসনে আসার ঘটনা ব্রিটেইনের জন্য অর্থনৈতিক সুফল বয়ে নিয়ে
এসেছে বলে যে-প্রচলিত ধারণা রয়েছে, তাকে নাকচ করে দিয়ে হাউস অফ লর্ডসে একটি
প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
কনসার্ভেটিভ দলীয় সাবেক
ক্যাবিনেট মিনিস্টার লর্ড ওয়েকহ্যামের নেতৃত্বে লর্ডসভার
পীয়ারদের নিয়ে গঠিত ইকৌনমিক
এ্যাফেয়ার্স
কমিটীর প্রতিবেদনটিতে অভিবাসনের সুফলকে 'ক্ষুদ্র
বা শূণ্যের কাছাকাছি'
হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ব্রিটেইনে অভিবাসনকারীর সংখ্যার ক্ষেত্রে একটি 'সুনির্দিষ্ট
টার্গেট'
স্থির করা ও তা মেনে চলার নিয়ম প্রবর্তন করার জন্য আহবান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন লর্ড
ওয়েকহ্যাম জানান, শ্রমিক ঘাটতি মিটানোর
জন্য অভিবাসী আনার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে যে-যুক্তি দেয়া হচ্ছে
তা 'মৌলিকভাবে
খুঁত-যুক্ত'।
সাংবাদিকদের সাথে
আলাপ-কালে তিনি জানান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে অভিবাসীরা ব্রিটেইনের জন্য বিপুল
অর্থনৈতিক বেনেফিট নিয়ে আসছে, ব্রিটিশরা করতে না এমন
কর্ম-পদগুলো পূরণ করছে এবং ব্রিটেইনে জন্ম নেয়া কর্মীদের চেয়ে বেশি ট্যাক্স দিচ্ছে।
এ-ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া
ব্যক্ত করে ওয়েকহ্যাম বলেন, এটা সাংঘাতিক রকমের
খুঁত-যুক্ত।
অভিবাসনের সুফলকে সরকারের পক্ষ
থেকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে বলেও দাবী করেন ওয়েকহ্যাম।
তিনি মনে করেন, এসব বক্তব্যের পক্ষে
তেমন কোনো প্রমাণ নেই।
লর্ড
ওয়েকহ্যাম বলেন, 'অভিবাসীদের
কারণে] ব্যাপক অর্থনৈতিক সুফল আসার ব্যাপারটি পক্ষে কোনো দাবী পায়নি কমিটী।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা সরকারে দাবীগুলোর
ক্ষেত্রে বড়ো রকমের খুঁত খুঁজে পেয়েছি এবং আমরা এই উপসংহারে পৌঁছেছি যে, মোটের উপরে অভিবাসন
সংক্রান্ত সুফলটি বেশ ক্ষুদ্র এবং শূন্যের কাছাকাছি।'
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, নিম্ন-বেতনভুক, কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু
এবং তরুণ সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য অভিবাসীদের কাছ থেকে আসা প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে
সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন।
সদ্য-প্রকাশিত
প্রতিবেদনটিতে সমপ্রতি প্রচলিত পয়েন্ট-ভিত্তিক অভিবাসন-ব্যবস্থার বিরুদ্ধে
মত-প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিবাসীদের অবদান
বিচারের ক্ষেত্রে জিডিপিকে প্রধান ভিত্তি হিসাবে ধরার সরকারী নিয়মটিরও বিরোধিতা করা
হয়েছে প্রতিবেদনে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে লেবার
সরকারের নতুন ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ফিল উল্যাসের নিয়োগের পর থেকে অভিবাসন ইস্যুটি
নতুন করে সামনে চলে এসেছে ব্রিটেইনে।
উল্যাস অভিবাসন-বিরোধী
নানান ধরণের কথাবার্তার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে যুগপৎ প্রশংসিত ও সমালোচিত হয়েছে।
উল্যাসের কথাবার্তার
সূত্র ধরে ব্রিটেইনে অভিবাসনকারীর বার্ষিক-সংখ্যা নির্ধারণ করার পুরোনো দাবীটি নতুন
করে সামনে নিয়ে আসতে শুরু করেছে টৌরীরা।
লন্ডনঃ ১৪ নভেম্বর ২০০৮ |