|
ভারতের সাথে সম্পর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণঃ
মনমোহনকে ওবামা
বুধবার
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সাথে টেলিফৌন-যোগে কথাবার্তা বলেছেন মার্কিন
প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট বারাক ওবামা।
খবরে প্রকাশ,
ওবামা আলাপ-কালে মনমোহনকে
জানিয়েছেন ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার কৌশলগত সম্পর্কটিকে তিনি
'অত্যন্ত
গরুত্বপূর্ণ'
বলে মনে করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সংবাদ-মাধ্যমকে জানিয়েছে সামনের দিনগুলোতে সকল গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়াদিতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লীর সাথে আলাপ-আলোচন করা হবে বলে মনমোহনকে
জানিয়েছেন ওবামা।
আগামী ২০ জানুয়ারী থেকে
প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে শুরু
করবেন ওবামা।
এছাড়াও যত শীঘ্র সম্ভব
ভারত সফর করার ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট।
উল্লেখ্য,
জর্জ বুশের আট বছরের
শাসনামলে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক পূর্বের যে-কোন সময়ের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে।
বিশেষ করে বুশ-মনমোহন
জুটির কারণেই উভয় দেশের মধ্যে মহা-বিতর্কিত পরমাণু-চুক্তি
স্বাক্ষরের ব্যাপারটি
বর্তমানে শেষ পর্যায়ে আছে।
খবরে
প্রকাশ,
ফৌনালাপ-কালে নির্বাচনে বিজয়ী
হবার জন্য বারাক ওবামাকে আন্তরিকভাবে
অভিনন্দন
জানান মনমোহন সিং।
তিনি ওবামার বিজয়কে
'সারা বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ী এক ঘটন' হিসাবে আখ্যায়িত করেন।
উভয় দেশের মধ্যে
দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক অত্যন্ত
ভালো'
হিসাবে বর্ণনা করে মনমোহন ওবামাকে জানান
'আমরা
তাই বলে বিদ্যমান অবস্থাতে সন্তুষ্ট
হয়ে বসে থাকতে পারিনি।'
বারাক ওবামার প্রশাসন
সামনের দিনগুলোতে বৈশ্বিক সমস্যাগুলো মোকাবেলার ক্ষেত্রে সফল হবে বলেও আশাবাদ
ব্যক্ত করেন মনমোহন।
বারাক ওবামাকে সপরিবারে
ভারত সফরের নিমন্ত্রণ জানিয়ে মনমোহন জানান তাদের জন্য উষ্ণ সম্বর্ধনা নিয়ে অপেক্ষা
করছে ভারতবাসী।
বুধবারের
আলাপের মধ্য দিয়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্র নেতাদের সাথে ওবামার প্রাথমিক সংলাপ-পর্বটির
সমাপ্তি ঘটলো বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচিত হবার প্রথম
দুই দিনের মধ্যে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোসহ দক্ষিণ কোরিয়া ও
জাপানের নেতাদের সাথে ফৌনালাপ করেছিলেন ওবামা।
পরবর্তী দফাতে অন্যানের
মধ্যে তিনি পাকিসত্মানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারীর সাথেও ফৌনালাপ করেছিলেন
ওবামা।
ইতিহাস
সৃষ্টি করে নির্বাচনে জেতার পরে এত দেশের নেতাদের সাথে কথা বললেও,
মনমোহনের সাথে ওবামার
আলাপ না হবার ব্যাপারটি নিয়ে আন্তর্জাতিক
অঙ্গনে বেশ কানাঘুঁষা তৈরী হয়।
এমন কথাও শোনা যায় যে,
জর্জ বুশের সাথে বেশি মাখামাখির কারণেই মনমোহন সিংকে কিছুটা ইচ্ছাকৃতভাবে দূরে
সরিয়ে রেখেছেন বারাক ওবামা।
ওমান ও কাতার সফর শেষে
দেশে ফেরার পথে এ-ব্যাপারে মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে নমোহনকে প্রশ্ন করা
হলে তিনি এ-ধরণের কথাবার্তাকে ভিত্তিহীন হিসাবে আখ্যায়িত করেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী
জানান,
বারাক ওবামার টীমের পক্ষ থেকে গত শনিবার ফৌনালাপের ইচ্ছা-প্রকাশ করা হয়েছিলো,
কিন্তু
তিনি সেভাবে প্রস্তুত
না থাকার কারণে সে-দফায় ফৌনালাপটি হয়ে ওঠেনি।
শনিবারের পরে তিনি
উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে চলে যাবার কারণে পরের দু-দিনেও ওবামার সাথে ফৌনালাপের
ব্যাপারটি হয়ে ওঠেনি বলেও জানান মনমোহন।
ওবামার
পক্ষ থেকে বুধবারের ফৌনটি আরেক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
ওবামার টীম জানিয়েছে এখন
থেকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করার আগে পর্যন্ত আন্তর্জাতিক
বিষয়াদিতে নিজেকে যুক্ত করবেন না প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট।
বৈশ্বিক অর্থনীতি বিষয়ে
আলাপ-আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহ থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রভাবশালী দেশগুলোর জোট জি২০ এর যে-সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাতেও যোগ দেবে না ওবামা।
মনমোহন এ-সম্মেলনে যোগ
দেয়ার জন্য আগামী পনেরো তারিখ যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন।
লন্ডনঃ ১২ নভেম্বর ২০০৮
|