|
নতুন মেরুকরণ শুরুঃ বাংলাদেশে আলোচনায় রাজী হাসিনা-খালেদা
হঠাৎ
করেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে।
মনে হচ্ছে,
দীর্ঘদিনের উত্তপ্ত
রাজনীতিতে কিছুটা হলেও বরফ গলতে শুরু করেছে।
দেশটিতে চলমান রাজনৈতিক
সঙ্কট নিরসনে দুই সাবেক প্রধানমন্ত্রী আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি
চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন।
দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন
মহল থেকে এই দুই নেত্রীকে এক টেবিলে বসানোর উদ্যেগ নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল
হয়নি।
বুধবার সকালে আকস্মিকভাবে দু-জনের
আলোচনায় বসার বিষয়টি আবার আলোচনায় চলে আসে।
আওয়ামীলীগ ও বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো ইউকেবেঙ্গলির প্রতিবেদককে জানিয়েছেন,
যে-কোনো মূহুর্তে
দু-নেত্রীর মধ্যে বহুল প্রতিক্ষিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে,
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়
রাজধানী ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে একটি অনুষ্ঠানে সবাইকে অবাক করে দিয়ে শেখ হাসিনা
ও খালেদা জিয়া হাজির হতে পারেন।
ঐ অনুষ্ঠানে দু-জনের
মধ্যে কুশল বিনিময় হতে পারে।
এমনও হতে পারে
দু-নেত্রীর কুশল বিনিময়ের পর ঐ হোটেলেই তারা কিছু সময়ের জন্য দেশের রাজনৈতিক সঙ্কট
নিয়ে আলোচনায় বসতে পারেন।
বুধবার
দু-নেত্রীর আলোচনায় বসার সম্ভাবনার কথা প্রথমে উচ্চারিত হয় আওয়ামী লীগের মুখপাত্র
সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মুখ থেকে।
সকালে আশরাফুল ইসলাম শেখ
হাসিনার বাসভবন সুধাসদনে সাংবাদিকদের বলেন,
খালেদা জিয়ার সঙ্গে
আলোচনার জন্য আমাদের নেত্রী (শেখ হাসিনা) প্রস্তুত।
তবে,
সে আলোচনা হতে হবে
এজেন্ডা-ভিত্তিক।
এরপর সন্ধ্যায় আশরাফুল ইসলামের
কথার সূত্র ধরে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন,
খালেদা জিয়া
'দেশ ও জাতির
স্বার্থে'
কোনো শর্ত ছাড়াই শেখ হাসিনার
সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
এর পর
থেকেই দু-নেত্রীর আলোচনায় বসার বিষয়টি আবারও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে
আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে
করছেন,
যেহেতু শেখ হাসিনা ও খালেদা
জিয়ার মুখপাত্র-দ্বয় বলেছেন,
দেশের রাজনৈতিক সঙ্কট
সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে তাদের দুই নেত্রী নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসার জন্য
প্রস্তুত,
সেহেতু এক্ষেত্রে নতুন কোনো
মেরুকরণ হতে পারে।
স্মরণ
করা যেতে পারে মাস দুয়েক আগে সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষ থেকে
আনুষ্ঠানিকভাবে হাসিনা-খালেদার বৈঠকে বসার ব্যাপারটিকে আলোচনায় নিয়ে আসা হয়।
ওই সময় দুই নেত্রীর
আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হকও একই কথা বলেন।
খালেদা জিয়া মুক্তির
পরপরই গত ১১ সেপ্টেম্বর
উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর
রহমান সাংবাদিকদের বলেছিলেন,
রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে
এবং রাজনীতিতে সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনতে দেশের দুই শীর্ষ নেত্রীকে এক টেবিলে বসানোর
উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আমরা আশা করবো,
তারা এতে শুধু আগ্রহীই
নন,
উদ্যোগীও হবেন।
এরপর এ-উদ্যোগ সফল করতে
ব্যারিস্টার রফিকের দ্বারস্ত হয় সরকার।
ব্যারিস্টার রফিক শেখ
হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেন,
আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর
কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।
খালেদার সঙ্গে বৈঠকের পর
হোসেন জিল্লুরও বলেন,
বিএনপি চেয়ারপারসনের
মনোভাব ইতিবাচক।
তবে ওই সময়ে শেখ হাসিনা দেশে না
থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতারা বৈঠকের বিষয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখান।
ঢাকা
থেকে আবদুর রহিম হারমাছি
১২
b‡f¤^i
২০০৮
|