|
মৃত্যু-বার্ষিকীতে আরাফাত স্মরণঃ
ফাতাহ-হামাসের পাল্টাপাল্টি
নিন্দা
ফিলিস্তিনের
মুক্তি-সংগ্রামের নেতা ইয়াসির আরাফাতের চতূর্থ মৃত্যু-বার্ষিকীর দিনটিতে
প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন হামাসের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ও ফাতাহ
পার্টির নেতা মাহমুদ আব্বাস।
ফিলিস্তিনের রাজনীতিতে
বিবাদ-মীমাংসার প্রয়াস নস্যাৎ করে দেয়ার দায়ে তিনি হামাসকে অভিযুক্ত করেছেন।
এদিকে হামাস অভিযোগ করে
বলেছে যে, আব্বাস আসলে মার্কিনী ও জায়নবাদীদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে কাজ করে
চলেছেন।
মঙ্গলবার
রামাল্লাতে আরাফাতের কবর-স্থানে আয়োজিত এক শোক-সভাতে ভাষণ দান-কালে আব্বাস জানান,
হামাসের কারণেই গত রোববার মিশরের মধ্যস্থতায় কায়রোতে উভয় পক্ষের মধ্যে যে-সংলাপটি
অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিলো, তা পরিত্যক্ত হয়েছে।
এ-প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওরা [হামাস] আসলে
[ফাতাহের সাথে] সংলাপে বসতে চায় না।
ফাতাহ -নেতার মতে
'মিথ্যা অজুহাতে' সংলাপের পরিবেশ নষ্ট করেছে হামাস।
সংগঠনটির বিরুদ্ধে
সংলাপে বসার অনীহার অভিযোগ আনা ছাড়াও সংগঠনটির অধিকৃত গাজাতে এবার আরাফাতের কোনো
স্মরণ-সভা হতে না দেয়ার ব্যাপারটিও কড়া সমালোচনা করেন আব্বাস।
এ-প্রসঙ্গে আব্বাস
জানান, পশ্চিম তীরে হামাস সমর্থকদের সাথে ফাতাহের পক্ষ থেকে 'রাজনৈতিক বন্দীর' মতো
আচরণ করা হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত বছর দুয়েক ধরে গাজাতে
হামাসের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করছে।
অন্যদিক পশ্চিম তীরের
নিয়ন্ত্রণ আছে ফাতাহের হাতে।
মাহমুদ
আব্বাসের বক্তব্যের পাল্টা-জবাবে হামাস জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট আসলে
'মার্কিনী ও জায়নবাদীদের দুষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সহচরে পরিণত হয়েছেন।'
হামাস-মুখপাত্র ওসামান
হামাদান আরও বলেন,
'আমি
বিশ্বাস করি তিনি [ইয়াসির আরাফাত] জীবিত থাকলে হয়তোবা পরিস্থিতি ভিন্ন হতো।
ফিলিস্তিনী
প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে হামাদান বলেন, 'আরাফাত
২০০২ সালে নতুন ধরণের ঐক্যের অন্বেষণে হামাসের সাথে সংলাপ শুরু করেছিলেন, অথচ আবু মাজান [মাহমুদ
আব্বাস] তখন আলাপ-আলোচনার গুরুত্ব নস্যাৎ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন।'
২০০৩ সালে ফাতাহ
প্রতিনিধি-দলের নেতা হিসাবেও আব্বাস একই ধরণের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন বলে দাবী
করেছে হামাস।
সংগঠনটির মতে ফাতাহের বর্তমান
নেতা আসলে ফিলিস্তিনীদের ঐক্য চান না।
বিশ্লেষকদের মতে, ফাতাহ ও হামাসের মধ্যেকার চলমান
দ্বন্দ্বের কারণে মূলতঃ ইসরায়েলীরাই লাভবান হচ্ছে।
সে-কারণে সাম্প্রতিক
মাসগুলোতে শান্তি-প্রক্রিয়ার ব্যাপারে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য
করা যাচ্ছে না।
উভয়-পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের
কারণে ফিলিস্তিনে স্বার্থ-বিঘ্নিত হবার ব্যাপারটি ফাতাহ ও হামাসের পক্ষ থেকে
প্রকাশ্যেই স্বীকার করা হলেও, পরিস্থিতির উন্নতি ঘটার
তেমন কোনো আলামত এখনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
লন্ডনঃ
১১ নভেম্বর ২০০৮
|