|
চৌদ্দ
গণতন্ত্রীর
৬৫
বছরের
জেইল মায়ানমারের সামরিক আদালতে
মায়নমারের
জান্তা-সরকারের আদালতে দেশের শীর্ষ-স্থানীয় চৌদ্দজন গণতন্ত্রকামী রাজনীতিককে
জন-প্রতি পঁয়ষট্টি বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
গত বছর জ্বালানী তেলের
মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সরকার-বিরোধী আন্দোলনের জড়িত থাকার দায়ে গোপন
সামরিক আদালত থেকে রায়টি ঘোষণা করা হয়েছে মঙ্গলবার।
খবরে
প্রকাশ, দণ্ড-প্রাপ্ত চৌদ্দজন নেতার মধ্যে নয়জন পুরুষ ও পাঁচজন নারী।
এদের মধ্যে কয়েক-জন গত
বছরের বৌদ্ধ ভিক্ষুদের নেতৃত্বাধীন সরকার-বিরোধী আন্দোলনটি বড়ো পরিসরে শুরু হবার
কয়েক সপ্তাহ আগেই গ্রেফতার হয়েছেন।
মঙ্গলবার দেশের রাজধানী
ইয়াঙ্গুনের কুখ্যাত ইনসাইন কারাগারে ভিতরে অবস্থিত সামরিক আদালত থেকে উল্লেখিত
রায়টি ঘোষণা করা হয়েছে।
সংবাদ-মাধ্যম সূত্রে
প্রকাশ, দণ্ড-প্রাপ্তরা ছাড়াও কারাগারে বন্দী কমপক্ষে আরও ২০ জন জান্তা-বিরোধী
রাজনীতিককে প্রকৃত-প্রস্তাবে অবাস্তব রকমের দীর্ঘ-মেয়াদী কারাদণ্ড প্রদানের তৎপরতা
চালানো হচ্ছে।
শোনা যাচ্ছে, সামরিক আদালতকে
ববহার করে সরকার-বিরোধী এসব রাজনীতিকদের একেক জনকে দেড়শো বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিয়ে
দেয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বার্তা-সংস্থাগুলো জানিয়েছে, মঙ্গলবার দণ্ড-প্রাপ্ত রাজনীতিকদের চারজনের বিরুদ্ধে
আন্দোলনের অংশ হিসাবে ইলেকট্রনিক মিডিয়া ব্যবহার সংক্রান্ত চারটি অভিযোগ তৈরী করা
হয়েছিলো।
এসব অভিযোগের প্রত্যেকটির জন্য
১৫ বছর হিসাবে মোট ৬০ বছর দণ্ড
নির্ধারন করে
সামরিক আদালত।
এছাড়াও 'অবৈধ' সংগঠন গড়ে তোলার
অভিযোগে প্রত্যেককে আরও পাঁচ বছর করে জেইল দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার
দণ্ড-প্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজন জান্তা-বিরোধী অবস্থানের জন্য পুরো মায়নমারেই
ব্যাপকভাবে সুপরিচিত।
এদের মধ্যে আছেন থিন থিন
আয়ি, কিয় মিন ইউ ও নিয়ুন্ত নিয়ুন্ত ঊ।
এদের মধ্যে প্রথম দুজনকে
গত বছর অগাস্ট মাসে গ্রেফতার করা হয়েছিলো।
পঁয়ষট্টি বছরের
কারাদণ্ড-প্রাপ্তদের মধ্যে আরেকজন হচ্ছেন নিলার থায়িন।
থায়িনের স্বামী কিয় মিন
ইউও জান্তা-বিরোধী রাজনীতিক হিসাবে সুপরিচিত।
আন্দোলনের সময় ধড়-পাকড়
শুরু হলে মাত্র চার-মাসের সন্তানকে মা-বাবার কাছে রেখে আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য
হয়েছিলেন থায়িন।
কিন্তু এ-বছরের সেপ্টেম্বরে
তাকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার
যাদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেছে সরকার, তারা সকলে দ্য ৮৮ জেনারেশন গ্রুপ নামের
একটি সংগঠনের শীর্ষ-স্থানীয় সদস্য।
এ-সংগঠনটি ১৯৮৮ সালের
জান্তা-বিরোধী এ-যাবৎকালের সবচেয়ে বড়ো আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয়ে গঠিত।
সেবারের আন্দোলন দমনের
সময় কমপক্ষে হাজার তিনেক মানুষকে হত্যা করেছিলো মায়নামারের সামরিক জান্তা।
খবরে প্রকাশ,
অভিযুক্তদের পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগেরও সুযোগ দেয়নি সরকার-পক্ষ।
এমনকি কিছুদিন আগে অং
থায়িন ও খিন মং শায়িন নামের দু-জন আইনজীবীকে অভিযুক্তদের পক্ষে আইনী লড়াই চালানোর
সময় আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে দু-মাসের কারাদণ্ড দিয়ে দেয়া হয়েছিলো।
উল্লেখ্য, সোমবার দিনও গত বছরের আন্দোলনে জড়িত থাকার দায়ে একাধিক ব্যক্তিকে সাজা
দেয়া হয় সামরিক আদালতে।
এদের মধ্যে নে মিয় কিয়
নামের ইয়াঙ্গুনের একজন সাইবার ক্যাফের মালিককে ছদ্মনামে ইন্টারনেটে ব্লগ লেখার দায়ে
২০ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়।
তার বিরুদ্ধে 'নাগরিকদের
শান্তি-বিনষ্টের' অভিযোগ আনা হয়।
জান্তার গোপন আদালত থেকে
এছাড়াও দু-বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন কবি স ওয়ি।
উল্লেখ্য, ওয়িকে একটি
প্রেমের কবিতার জন্য দণ্ড দেয়া হয়েছে।
জান্তা-কর্তৃপক্ষের মতে
প্রেমের কবিতার ভিতর দিয়ে সামরিক-শাসক জেনরেল থান শিয়ির সমালোচনা করেছেন ওয়ি
।
এ্যামনেস্টি
ইন্টারন্যাশনালের হিসাব-মতে, বর্তমানে মায়নামারের কারাগারগুলোতে কমপক্ষে একুশশো
মানুষ রাজনৈতিক বন্দী হিসাবে দিন কাটাচ্ছেন।
স্মরণ করা যেতে পারে,
২০০৭ সালে ইয়াঙ্গুন-সহ দেশের বেশ কয়টি অঞ্চলে আন্দোলন চলা-কালে সরকার-বাহিনীর হাতে
কমপক্ষে ৩১ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছিলেন।
এছাড়াও আহত হয়েছিলেন
শতো-শতো মানুষ।
আন্দোলনে যুক্ত থাকার অভিযোগে
সে-সময় দেশব্যাপী অনেক বৌদ্ধ-বিহার থেকে শুরু করে রাজনীতিক কর্মীদর বাড়ীঘরে
চিরুনী-তল্লাশী পরিচালনা করে সরকারী বাহিনী।
এ-সময় হাজার-হাজার লোককে
নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই জেলে পুরে দেয়া হয়।
১৯৮৮ সালের পরে গড়ে ওঠা
সবচেয়ে বড়ো আন্দোলনটিকে এভাবেই বল-প্রয়োগের মাধ্যমে স্তব্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছিলো
মায়নামারের জান্তা-সরকার।
লন্ডনঃ
১১ নভেম্বর ২০০৮
|