|
গোপন-আদেশ বলে
মার্কিনীরা
আল-কায়দার ঘাঁটি হামলা করেছিলো
বুশ-প্রশাসন
প্রণীত গোপন-আদেশের ভিত্তিতে ২০০৪ সাল থেকে আল-কায়দার উপরে ডজন-খানেক ঘাঁটিতে হামলা
চালাতে সমর্থ হয়েছে মার্কিন বাহিনী।
সোমবার প্রকাশিত খবরে
প্রকাশ,
উল্লেখিত বছরের বসন্তে
স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশটির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশন ফৌর্সেসের পক্ষে
সিরিয়া ও পাকিস্তান-সহ আরও কয়েকটি স্থানে আল-কায়দার উপরে হামলাগুলো পরিচালনা করা
সম্ভব হয়েছে।
মার্কিন
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,
প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের
নির্দেশক্রমে গোপন-আদেশনামাটিতে স্বাক্ষর করেন ডিফেন্স সেক্রেট্যারী ডৌনাল্ড
রামসফীল্ড।
এ-আদেশের ফলে পৃথিবীর যে-কোনো
স্থানে আল কায়দার উপরে হামলা চালানোর অধিকার পেয়ে যায় মার্কিন সামরিক বাহিনী।
এমনকি এর ফলে
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধে জড়িত নয়, এমন দেশগুলোতে অবস্থিত আল-কায়দার ঘাঁটিতে
হামলা চালানোর অধিকার দেয়া হয় মার্কিন বাহিনীকে।
সিআইএর
দেয়া তথ্যে দেখা যাচ্ছে,
২০০৬ সালে উপরোক্ত
আদেশের বলেই আল কায়দার ঘাঁটি হিসাবে একটি স্থানকে চিহ্নিত করে পাকিস্তানের
বাজুয়ারের একটি স্থানে ইউএস ন্যাভী সিল জনতর টীমের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়।
একই বছর অক্টৌবরে সিআইএর
নির্দেশনাতে মার্কিন কমান্ডৌরা সিরিয়ার একটি স্থানে হামলা চালায়।
বিভিন্ন সূত্রকে উদ্ধৃত
করে সংবাদ-মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে শীর্ষ-স্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের প্রবল অনীহার
কারণে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনার ইচ্ছা পরিত্যাগ করতে হয়েছে।
সামরিক কর্মকর্তাদের
পক্ষ থেকে বুশ প্রশাসনকে এসব অভিযান-পরিচালনার অতিরিক্ত ঝুঁকি ও কূটনৈতিক সমস্যার
দিকগুলো বারংবার অবহিত করা হয়।
এছাড়াও যেসব তথ্যাদির
উপরে ভিত্তি করে আঘাত হানার কথা বলা হতো, সেগুলোকে যথেষ্ট হিসাবে মনে করতে পারেননি
সামরিক-কর্তারা।
ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউনের দাবী, ২০০৪ সালের বিতর্কিত আদেশটি ব্যাপারে তারা
বুশ-প্রশাসনের শীর্ষ-কর্মকর্তা ও সাবেক-বর্তমান মিলিয়ে হাফ-ডজন উচ্চ-পদস্থ
সেনা-কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে সমর্থ হয়েছেন।
তবে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে
স্পর্শকাতর হবার কারণে এরা কেউই সংবাদ-মাধ্যমের কাছে নিজেদের নাম প্রকাশে রাজী হননি।
সোমবার মিডিয়ার পক্ষ
থেকে যোগাযোগ করা হলে ওয়াইট হাউস,
ডিফেন্স ডিপার্টমেন্ট ও
সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য জানাতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।
এছাড়াও উপরে বর্ণিত
হামলা দুটি ছাড়াও অন্য হামলাগুলোর ব্যাপারে তথ্য-প্রদানেও অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।
তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ
জানিয়েছে, গোপন আদেশনামাটি ব্যবহার করে বুশ-প্রশাসনের অন্যতম শত্রু-দেশ হিসাবে
চিহ্নিত ইরানের অভ্যন্তরের কোনো হামলা পরিচালনা করা হয়নি।
স্মরণ
করা যেতে পারে,
নয়-এগারোর হামলার পরে
বুশ-প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিআইকে আল-কায়দা নিধনের বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিলো।
গোপন ক্ষমতাটির বলে
বলীয়ান পৃথিবীর যে-কোনো স্থানে আল-কায়দার সদস্যদের হত্যা করার ক্ষমতা-প্রাপ্ত
হয়েছিলো।
সে-ক্ষমতাটি যথেষ্ঠ মনে না
হওয়ায়,
বুশ-চেনী জুটি ২০০৪ সালে গোপন
আদেশনামাটি তৈরী করেন।
এ-আদেশে আল কায়দাকে
ঘায়েলের লক্ষ্যে হামলার সম্ভাব্য স্থান হিসাবে সিরিয়া,
পাকিস্তান,
সৌদি আরব ও
ইয়েমেন-সহ আরও কয়েকটি
গালফ দেশের নাম নথিভূক্ত করা হয়েছিলো।
লন্ডনঃ ১০
নভেম্বর ২০০৮ |