|
ওবামার দৃষ্টিভঙ্গীর উচ্চ-প্রশংসায় ব্রাউনঃ প্রকারান্তরে বুশকে প্রত্যাখান
মার্কিন
প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট বারাক ওবামার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
গর্ডন ব্রাউন।
সোমবার
এক ভাষণে গণতন্ত্র,
স্বাধীনতা, আর বাধহীন আশাবাদের যে-আদর্শ প্রচার করে চলেছেন
ওবামা, সেগুলোর ভুঁয়সী প্রশংসা করেন ব্রাউন।
ওবামার
প্রশংসা করার সাথে-সাথে বহু-পাক্ষিক একটি বিশ্ব-ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপরেও
গুরুত্বারোপ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
ব্রাউনের এ-আহবানকে জর্জ বুশের নেতৃত্বাধীন মার্কিন এক-পাক্ষিক নীতির প্রত্যাখান
হিসাবে দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।
সোমবার লন্ডনে
লর্ড মেয়র ব্যাঙ্কোয়েটে দেয়া মূল-ভাষণে একটি একটি সত্যিকারের বিশ্ব-সমাজ গড়ে তোলার
জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান ব্রাউন।
তিনি
বলেন,
'আমি
দেখতে পাচ্ছি, বর্তমান-কাল অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে
অতিক্রান্ত হচ্ছে এবং সংঘাত আর অন্যায়-অবিচারের যাঁতাকলে পড়ে সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছে;
কিন্তু একই সাথে নতুন একটি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা,
যা যুগপৎ দৃঢ় ও প্রগতিমুখীন, সেদিকে পরিবর্তনের আসার
সম্ভাবনাটিও দেখতে পাচ্ছি।'
ব্রাউন উল্লেখ
করেন ফাইন্যান্স,
জলবায়ু পরিবর্তন,
সন্ত্রাসবাদ ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায়পরায়ণতা ও
পারস্পরিক সহযোগিতা-ভিত্তিক বহপাক্ষিক সহযোগিতার নীতি অনুসৃত হলে তা সকলের জন্য
মঙ্গলজনক হবে।
এর
মাধ্যমে একটি ন্যায্যতর ও অধিকতর সমৃদ্ধশালী ও স্থিতিশীল এক বিশ্ব পরিস্থিতি তৈরী
হওয়া সম্ভব বলে উক্তি করেন ব্রাউন।
ব্রিটিশ
প্রধানমন্ত্রী মনে করেন,
সত্যিকারের বিশ্ব-সমাজে সঙ্কীর্ণ একপাক্ষিকতা নয় বরং
প্রগতিমুখীন বহুপাক্ষিকতাই হবে স্বাভাবিকতা।
নতুন
বিশ্ব-ব্যবস্থা নিয়ে আলাপকালে ব্রাউন জানান,
বর্তমানের তুলনায় অধিক শক্তিশালী,
নিরাপদ ও সমতা-সম্পন্ন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্রিটেইন ও
যুক্তরাষ্ট্র,
তথা ইউরৌপ ও যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে।
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার সম্পর্ক বিষয়ে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
উইনস্টন চার্চিলকে উদ্ধৃত করে ব্রাউন জানান,
উভয় রাষ্ট্রের সম্পর্কটি শুধু ঐতিহাসিক নয় বরং তা স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার বিষয়ক
বৃহত্তর ভিত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত।
ব্রাউন
জানান,
নির্বাচনে জয়লাভ পরবর্তী প্রথম ভাষণে এ-কথাগুলোরই প্রতিধ্বনি করেছিলেন ওবামা।
উল্লেখ্য,
ওবামার তার ভাষণে গণতন্ত্র,
স্বাধীনতা,
মানুষের জন্য সুযোগ উন্মুক্তকরণ আর বাধাহীন আশার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
ওবামার ভাষণের
প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে ব্রাউন জানান,
ওবামার
নির্বাচিত হবার মধ্য দিয়ে] আমেরিকাতে যে-নতুন
'আশার-প্রভাত'
তৈরী হয়েছে, তা থেকে তিনি একটি সত্যিকারের বিশ্ব-সমাজ গড়ে
ওঠার ব্যাপারেও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।
ওবামার
নির্বাচিত হবার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ব্রাউন একে
'আশাবাদের',
'উৎসাহের' ও 'আশার
নব-প্রভাত' হিসাবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি
বলেন,
'মাত্র
দিনকয় আগে,
আটলান্টিকের ওপারে,
আমাদের ঘনিষ্ঠতম মিত্র তার প্রতিষ্ঠাকালীন মতবাদগুলোকে নতুন করে অর্থ দান করেছে আর
তা হচ্ছে সকল সৃষ্টিই হচ্ছে সমান।'
গর্ডন ব্রাউনের
পক্ষ থেকে আসা সর্বশেষ কথাবার্তাকে জর্জ বুশের নীতিমালার অনানুষ্ঠানিক প্রত্যাখান
হিসাবেই ধরে নেয়া হচ্ছে।
স্মরণ
করা যেতে পারে,
প্রকাশ্যে কখনও বিরোধে লিপ্ত না হলেও গত বছরের মাঝামাঝিতে প্রধানমন্ত্রী হবার পর
থেকে কখনও গর্ডন ব্রাউনের সাথে জর্জ বুশের সে-অর্থে উষ্ণ সম্পর্ক তৈরী হয়নি।
দুটি
প্রশাসনের মধ্যে শীতল সম্পর্কের ব্যাপারটি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মিডিয়াতেও খবরা-খবর
প্রচার হয়েছে।
এমনকি
প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রথমবার ওয়াইট হাউস সফরের সময় ব্রাউনকে বুশ প্রশাসনের পক্ষ
থেকে ইচ্ছা করেই শীতল অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিলো বলে মনে করা হয়।
তখন
অনেক পর্যবেক্ষকরা বলেছিলেন,
ব্রাউনকে মার্কিন জনগণের সামনে সেভাবে উপস্থাপন না করার লক্ষ্য থেকেই তার সফরের
সময়েই পৌপের যুক্তরাষ্ট্র সফর-সূচিটি চূড়ান্ত করা হয়েছিলো।
ইরাক-আফগানিস্তান-সহ নানান আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও পূর্বসূরী টনি ব্লেয়ারের তুলনায়
বলতে গেলে জর্জ বুশের নীতিমালাগুলোর প্রতি আদৌ কোনো আগ্রহ দেখাননি ব্রাউন।
বারাক
ওবামার দায়িত্ব গ্রহণের সাথে ওয়াইট হাউসের সাথে ডাউনিং স্ট্রীটের সম্পর্ক উন্নততর
হবে বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।
লন্ডনঃ ১০ নভেম্বর ২০০৮ |