|
মিডিয়ার নজরঃ ওবামার নিমন্ত্রিত
আত্মীয়া অভিবাসন চান যুক্তরাষ্ট্রে
যুক্তরাষ্ট্রে
অভিবাসন নিয়ে থেকে যাবার জন্য মরীয়া হয়ে আইনী লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছেন
প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট বারাক ওবামার পিতার দিকের জড়ানো এক আত্মীয়া।
সম্পর্কে ওবামা পিসি
জেইতুনি ওনিয়াঙ্গো (৫৬) এর একজন আইনজীবীকে উদ্ধৃত করে বার্তা-সংস্থা এসৌশিয়েটড
প্রেস (এপি) এ-খবর প্রচার করেছে শনিবার।
জেইতুনি
ওনিয়াঙ্গুর আইনজীবী মার্গারেট ওয়াং জানিয়েছেন মক্কেলকে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রেখে
দেয়া যায় সে-বিষয়ক আইনগত দিকগুলো তিনি খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করেছেন।
ওয়াং আরও বলেন,
আমেরিকাতে থাকতে পারার
সুযোগটি অর্জন করার লড়াইয়ের জন্য যা কিছু করা দরকার তা তিনি ওনিয়াঙ্গো করবেন।
ওনিয়াঙ্গ কীসের ভিত্তিতে
এাসাইলামের
আবেদন করেছেন তা সরকারীভাবে জানা যায়নি,
তবে বিভিন্ন সূত্রমতে
কেনিয়াতে ফিরলে জাতিগত সহিংসতাতে প্রাণ বিপন্ন হবার আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করা হয়েছে
আবেদনে।
উল্লেখ্য,
২০০৪ সালে ওনিয়াঙ্গোকে
যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে চলে যাবার নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো।
কিন্তু এরপরেও ওনিয়াঙ্গো
বৌস্টনের একটি পাবলিক হাউসিং এস্টেইটে বসবাস করতেন।
এতোদিন
পর্যন্ত ওনিয়াঙ্গোর বিষয়টি আর দশজন
এাসাইলাম
আবেদনকারীর মতোই বিবেচিত হলেও,
গত ১ তারিখে,
অর্থাৎ নির্বাচনের ঠিক
চার দিন আগে ওবামার সাথে ওনিয়াঙ্গোর আত্মীয়তা থাকার সম্পর্কটি কিছু মিডিয়াতে বিশেষ
গুরুত্বের সাথে প্রচার করা হয়।
ওবামার সাথে ওনিয়াঙ্গো
আদৌ কোনো যোগাযোগ আছে কি-না, সে-ব্যাপারে আলোকপাত না করেই,
অভিবাসন নিয়ে শঙ্কিত
সাধারণ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে ওবামার ব্যাপারে আতঙ্ক জন্ম দেয়ার লক্ষ্য থেকেই একেবারে
শেষ মুহুর্তে খবরটি বাজার ছাড়া হয় বলে মনে করা হয়।
তথ্যমতে,
হঠাৎ করেই
প্রচার-মাধ্যমে পরণত হয়ে যাবার কারণে বৌস্টন ছেড়ে ওহিও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ড
শহরের আত্মীয়দের আশ্রয়ে চলে গেছেন ওনিয়াঙ্গো
।
নির্বাচনের আগে-আগে ওনিয়াঙ্গো
ইস্যুতে মাঠ-খারাপ হয়ে যাবার আশঙ্কা থেকে ওবামার নির্বাচনী প্রচারণা টীমের পক্ষ
থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছিলো ২ তারিখ।
বিবৃতিতে বলা হয় সর্বশেষ
নয় বছর আগে ওবামার নিমন্ত্রণে শিকাগৌ বেড়াতে গিয়েছিলেন ওনিয়াঙ্গো।
তিনি তখন ট্যুরিষ্ট
ভিসাতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।
উল্লেখ্য,
ওবামার আত্মজীবনীমূলক
রচনা 'ড্রিমস
ফ্রম মাই ফাদার'-এ
ওনিয়াঙ্গোর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ আছে।
১৯৮৮ সালে জীবনে
প্রথমবারের মতো পিতার জন্মভূমি কেনিয়াতে বেড়াতে গেলে ওনিয়াঙ্গোর কাছ থেকে বিশেষ আদর
পাবার কথা উল্লেখ আছে বইতে।
উল্লেখ,
ওনিয়াঙ্গো হচ্ছেন ওবামার
বাবার হাফ-সিস্টার।
এদিকে
কোনো-কোনো মহলে থেকে এখন আবার বলা হচ্ছে ওবামার আত্মীয় হবার কারণে ওনিয়াঙ্গোর পক্ষে
রায় দেয়ার ব্যাপারে প্রভাবিত হয়ে পড়তে পারেন ইমিগ্রেশন আদালতের বিচারকরা।
এছাড়াও তার আইনজীবীর
পক্ষ থেকে গত কয়েক দিনের প্রচার-প্রচারণার ব্যাপারটিকেও নিরাপত্তার জন্য হুমকি
হিসাবে চিহ্নিত ওনিয়াঙ্গোকে যুক্তরাষ্ট্রের থেকে যাবার অনুমতি প্রদানের আবেদন
জানানো হতে পারে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য,
ওবামা জানিয়েছিলেন তিনি
তার আত্মীয়ের কেইসটি সম্পর্কে কিছু জানেন না।
এছাড়াও আইনানুসারেই
ওনিয়াঙ্গো ইমিগ্রেশন মামলাটির ফয়সালা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
লন্ডনঃ ৮
নভেম্বর ২০০৮ |