|
বালির বোমারুদের
ফায়ারিং-স্কৌয়াড কার্যকর করেছে ইন্দোনেশিয়া
২০০২
সালে বালি-দ্বীপে বোমা ফাটিয়ে বহু মানুষকে খুন করার দায়ে তিন ব্যক্তির মৃত্যুদন্ড
কার্যকর করেছে ইন্দোনেশিয়া।
শনিবার ফায়ারিং
স্কৌয়াডের মাধ্যমে দণ্ডাজ্ঞা কার্যকর করার খবর নিশ্চিত করেছে জাকার্তা।
তথ্যমতে,
ফায়ারিং স্কৌয়াডের
মাধ্যমে প্রাণ হারানো তিন ব্যক্তির নাম যথাক্রমে আমরোজি নুরহাসিম (৪৭),
আলী গুফরান মুখলেস (৪৮),
ও ইমাম সামুদ্রা (৩৮)।
এদের মধ্যে প্রথম দুজন
সহোদর।
সরকারী
সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ-মাধ্যমগুলো জানায় শনিবার জিএমটি সময় ১৭১৫ তে জাভা
প্রদেশের নসাকামবাঙ্গান কারাদ্বীপে তাদের প্রাণদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
পূর্ব জাভার তেঙ্গুলুন
থেকে সাংবাদিকদের সাথে আলাপে আমরোজি ও মুখলেসের প্রাণদণ্ড কার্যকর হবার খবরটি
প্রশাসনের মাধ্যমে অবগত হবার খবর
স্বীকার করেছেন তাদের ভাই মোহাম্মদ চোজিন।
স্মরণ
করা যেতে পারে ২০০২ সালের অক্টৌবরে ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম পর্যটন-স্থল বালি-দ্বীপের
কুর্তা রিসৌর্টে দুটি নাইট-ক্লাবে বোমা হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ২০২ ব্যক্তিতে হত্যা
করা হয়েছিলো।
এদের মধ্যে ৮৮ জন ছিলেন
অস্ট্রেলীয়
নাগরিক।
আমরোজি,
মুখলেস ও সামুদ্রা
হামলার সাথে জড়িত থাকার দায়ে দোষী প্রমাণিত হয়েছিলেন।
কোনো-কোনো বিশ্লেষকের মতে বালিতে হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের প্রাণনাশের মধ্য দিয়ে
'সন্ত্রাসবাদের'
বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজেদেরকে
'সিরিয়াস'
হিসাবে প্রমাণ করার চেষ্টার চালিয়েছে ইন্দোনেশিয়া কর্তৃপক্ষ।
বার্তা-সংস্থা আল-জাজিরা
জানিয়েছে,
বোমা হামলার দায়ে অভিযুক্ত
উপরোক্ত তিন ব্যক্তি সব-সময় শহীদ হবার ব্যাপারে নিজেদের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করলেও,
গত কিছু দিন ধরে নানান
ধরণের আইনী-প্রচেষ্টার মাধ্যমে দণ্ডাজ্ঞা রদ করার চেষ্টা করছিলেন।
এমনকি ফায়ারিং স্কৌয়াডকে
মানবাধিকার পরিপন্থী হিসাবে যুক্তি তুলে ধরে প্রাণদণ্ড মওকুফ করার জন্য তারা
সাংবিধানিক আদালতেরও শরণাপন্ন হয়েছিলেন।
তাদের পক্ষের আইনজীবীরা
ফায়ারিং স্কৌয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাকে শারীরিকভাবে নিপীড়নমূলক হিসাবে
চিহ্নিত করেছিলেন।
উল্লেখ্য,
ইন্দোনেশিয়ার সংবিধানিক
আইনে শারীরিক নিপীড়নকে নিষিদ্ধ ঘোষিত করা হয়েছে।
কিন্তু সাংবিধানিক আদালত
থেকে দণ্ডিতদের আবেদন প্রত্যাখাত হয়।
আদালত জানায় ব্যাথা না
দিয়ে প্রাণদণ্ড কার্যকর করার কোনো উপায় নেই।
শেষ পর্যন্ত গত
বৃহস্পতিবার দণ্ডিতদের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট বরাবর প্রাণদণ্ড বিলম্বিত
করার আবেদন-পত্র প্রেরণ করা হলেও কোনো কাজ হয়নি।
অক্টৌবর মাসের শেষ দিকে
বালির বোমা হামলায় অভিযুক্তদের প্রাণদণ্ডের বিরোধিতা করে এ্যামনেস্টি
ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে কড়া বক্তব্য পেশ করা হলেও তাতে কর্ণপাত করেনি
ইন্দোনেশিয়া।
এ্যামনেস্টির
পক্ষ থেকে আলোচ্য প্রাণদণ্ডাদেশকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬২/১৪৯ (১৮ ডিসেম্বর
২০০৭) রেস্যুলিউশন ও ইন্টারন্যাশনাল কৌভেন্যান্ট অন সিভিল এন্ড পলিটিক্যাল রাইটসের
ধারা ১৫ এর লঙ্ঘন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এদিকে,
বালিতে বোমা
হামলাকারীদের প্রাণদণ্ড কার্যকর হবার পরে যে-কোনো ধরণের পাল্টা-আঘাতের কথা
বিবেচনাতে রেখে পুরো ইন্দোনেশিয়া-জুড়ে কড়া নিরাপত্তা-ব্যবস্থা গৃহীত হবার খবর পাওয়া
গেছে।
উল্লেখ্য,
গত কয়েক দিনে তেঙ্গুলুনে
গুটিকয় কট্টর-পন্থী ক্ষুদ্র গ্রুপের পক্ষ থেকে আমরোজি,
মুখলেস ও সামুদ্রার
সমর্থনে কিছু কথাবার্তা শোনা গেছে।
এছাড়াও কয়েক দিন আগে
ই-মেইলের মাধ্যমে অজ্ঞাত-পরিচয় সূত্র থেকে মার্কিন ও অস্ট্রেলীয় দূতাবাসে বোমা
হামলা ও প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং য়ুধ্যোনো-এর প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়েছে।
লন্ডনঃ ৮
নভেম্বর ২০০৮ |