|
পরাজিত রিপাবলিকানদের
গৃহ-বিবাদের খবর ফাঁস হচ্ছে একের পর এক
প্রেসিডেন্ট
নির্বাচনে বেধড়ক পরাজয়ের পরে রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ বিবাদের নিত্য-নুতন
সংবাদ আসতে শুরু করেছে মিডিয়াতে।
শুক্রবার প্রকাশিত এক
খবর থেকে জানা যায় রানিং মেইট সারাহ পালিনের ব্যাপারে জন ম্যাককেইনের অসন্তুষ্টি
এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিলো যে, শেষের কয়েকটি দিন এরা দুজন বাক্যালাপ পর্যন্ত করতেন
না।
উল্লেখ্য,
হঠাৎ করেই রানিং মেইট
হিসাবে আলাস্কার গভর্ণর সারাহ পালিনকে বাছাই করার ঘোষণা দিলেও,
আগে থেকে তাকে খুব একটা
চিনতেন না ম্যাককেইন।
ধারণা করা হয়,
ডেমৌক্র্যাটিক পার্টির
মনোনয়ন লাভে হিলারী ক্লিন্টনের ব্যর্থতার কারণেই ভাগ্য খুলে যায় পালিনের।
রিপাবলিকান শিবির মনে
করেছিলো, ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে পালিনকে মনোনয়ন দেয়ার মধ্য দিয়ে নারী ভৌট নিজেদের
দিকে টানার ব্যাপারটি সহজতর হবে।
শুরুতে বেশ কিছুটা আলোড়ন
তুলতেও,
মনোনয়ন লাভের কয়েক সপ্তাহ যেতে
না যেতেই জনগণের কাছে আবেদন হারাতে শুরু করেন পালিন।
বিশেষ করে অতিরিক্ত
ধর্মবাদী-ডানপন্থী কথাবার্তা বলে তিনি সাধারণ মার্কিনীদের বিরাগভাজন হতে শুরু করেন,
যা ম্যাককেইন শিবিরকে
ভীষণভাবে ভাবিয়ে তোলে।
জানা
যাচ্ছে,
এসব ব্যাপারে পালিনের সাথে
আলাপ-আলোচনা করতে যেয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি ম্যাককেইনের নির্বাচনী টীমের
শীর্ষ-স্থানীয় লোকজন।
এছাড়াও পালিন সময়ে-সময়ে
এদের অনেকের সাথে দুর্ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
কোনো দিন মিডিয়াতে তাকে
নিয়ে বিরূপ খবর প্রচারিত হলে সহকর্মী ও সেবাদানকারীদের উপরে মনের ক্রোধ ঢালতেন
পালিন।
এসব কারণে একাধিক লোক
ম্যাককেইনের প্রচারণা শিবিরের কাজকর্মে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।
পালিনের নিজের ইচ্ছামতো
কার্য-কলাপের সাথে-সাথে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াদিতে সাধারণ জ্ঞানের অভাব নিয়েও
ম্যাককেইন-শিবির আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলো।
পালিন এমনকি এক
সাংবাদিকের সাথে আলাপ-কালে আফ্রিকাকে মহাদেশের পরিবর্তে একটি দেশ হিসাবে উল্লেখ করে
বসেন।
এমনকি
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরেও পালিনকে নিয়ে সমস্যা এড়াতে পারেননি জন ম্যাককেইন।
জানা গেছে,
পরাজয় মেনে নেয়া
সংক্রান্ত ভাষণ দেয়ার প্রস্তুতি নেয়ার সময়ও ম্যাককেইনকে বিব্রত করতে থাকেন পালিন।
তিনি নিজেও খানিকটা
বৃক্ততা দেয়ার খায়েশ প্রকাশ করে থাকেন ম্যাককেইনের সামনে এসে।
পালিন জানান, তিনি
বৃক্ততা প্রস্তুত করেই রেখেছেন।
এ-সময় ম্যাককেইনের দু-জন
শীর্ষ সহযোগী এগিয়ে এসে স্পষ্ট ভাষায় পালিনকে না বলে দেন।
ম্যাককেইনের ঘনিষ্ঠ মহলে পালিনের ব্যাপারে এখন অত্যন্ত বিদ্বেষমূলক মনোভাব বিরাজ
করছে বলে জানিয়েছে কোনো-কোনো সংবাদ-মাধ্যম।
তবে অনেকে বলছেন,
আসলে পরাজয়ের জ্বালা
জুড়িয়ে নেয়ার জন্য আগে থেকেই দলের ভিতরে অনেকের বিরাগভাজন হয়ে থাকা পালিনকে
'বলির
পাঁঠা'
বানাতে চাইছে ম্যাককেইনের আশেপাশের কিছু লোক।
সারাহ পালিন অবশ্য
আপাততঃ সব কিছু বাদ দিয়ে ফিরে গেছেন নিজের অফিসে।
পালিন জানিয়েছে, তিনি
আপাততঃ আলাস্কার গভর্ণর হিসাবে কাজে-কর্মে মনোনিবেশ করতে চান।
তবে জাতীয় রাজনীতি ফিরে
আসার আগ্রহের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
লন্ডনঃ ৭
নভেম্বর ২০০৮
|