|
দায়িত্ব পালনের পালা শুরুঃ
রাষ্ট্র-নেতাদের সঙ্গে আলাপ ওবামার
বৈশ্বিক
সমস্যাবলী নিয়ে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানদের সাথে প্রথম দফার আলাপ
সেরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট বারাক ওবামা।
ব্রিটেইন,
ফ্রান্স,
জার্মানী,
জাপান,
অস্ট্রেলিয়া,
ইসরায়েল,
মেক্সিকৌ ও দক্ষিণ
কৌরিয়ার নেতাদের সাথে সোমবারের ফৌনালাপে বিশ্ব অর্থনীতি দুর্গতি ও আফগানিস্তানে
যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় করণীয়
সম্পর্কে কথা বলেন গত চার তারিখ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী বারাক ওবামা।
পর্যবেক্ষকদের মতে
প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হবার জন্য সাংবিধানিক কারণে আগামী জানুয়ারীর ২০ তারিখে
পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও,
বাস্তবে এখন থেকেই
গুরু-দায়িত্বগুলোতে আন-অফিশিয়াল ভূমিকা রাখতে দেখা যেতে পারে ওবামাকে।
খবরে
প্রকাশ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি মিয়ুং-বাকের সাথে আলাপ-কালে উত্তর কোরিয়ার
পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় যৌথভাবে কাজ করার
ব্যাপারে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ওবামা।
অস্ট্রেলিয়ার
প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাডের সাথে আলাপকালেও বিশ্ব-অর্থনীতির দুর্গতি মোকাবেলায়
একসাথে কাজ করার কথা বলেন ওবামা।
এছাড়াও ওবামা-রাড আলাপে
জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি স্থান পায় বলেও জানা গেছে।
জার্মানীর চ্যান্সেলর
এাঞ্জেলা
মার্কেলের সাথে আলাপের সময় ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে
'ঘনিষ্ঠভাবে'
কাজ করার ব্যাপারে একমত হন ওবামা।
এছাড়াও আফগানিস্তান,
জলবায়ু পরিবর্তন,
অর্থনীতির সঙ্কট নিয়েও
কথা বলেন উভয় নেতা।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সরাকৌজি ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের
সাথে আলাপেও বিশ্ব-অর্থনীতির প্রসঙ্গটি প্রধান আলোচ্যে পরিণত হয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর
সাথে আলাপে টারো আসোর সাথে আলাপকালেও বিশ্ব-অর্থনীতির সাথে-সাথে আফগানিস্তান ও
জলবায়ু প্রসঙ্গ স্থান পায়।
প্রতিবেশি মেক্সিকোর
প্রেসিডেন্ট ফিলিপি কালদেরোনের সাথে ফৌনালাপ-কালে অভিবাসন ও সীমান্তে মাদক পাচার
সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক সমস্যা নিয়ে কথা বলেন ওবামা।
উল্লেখ্য,
হাজার-হাজার মাইল
সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অভিবাসন ও মাদক পাচার প্রসঙ্গে সময়-সময় যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর
মধ্যেকার সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
লক্ষনীয় ব্যাপার,
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি
নিয়ে আলাপ-আলোচনা করলেও,
ইরাক বিষয়টি নিয়ে
বিশ্ব-নেতাদের সাথে ওবামা কোনো-ধরনের কথাবার্তা বলেননি শুক্রবার।
সংবাদ-মাধ্যম সূত্রে প্রকাশ,
আগামী ১৫ তারিখ
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব অর্থনীতি সংক্রান্ত বিশ্ব-নেতাদের জরুরী সম্মেলনটিতে
যোগদান করা না করার ব্যাপারে এখণ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি বারাক ওবামা।
তবে বিশ্ব-নেতাদের সাথে
আলাপে এটা স্পষ্ট যে,
আগামী তিয়াত্তর দিন জর্জ
বুশ নামে প্রেসিডেন্ট থাকলেও মার্কিন ক্ষমতার কোনো গুরত্বপূর্ণ কলকাঠি ওবামাকে ছাড়া
নড়বে না।
আগামী সোমবার ওয়াইট হাউসে জর্জ
বুশের সাথে বৈঠকে বসবেন বারাক ওবামা।
যুক্তরাষ্ট্রে শত্রু হিসাবে চিহ্নিত দেশগুলোর পক্ষ থেকেও যেভাবে আগ্রহ প্রকাশ করা
শুরু হয়েছে তা থেকেও বুঝা যায় এসব দেশ এখন আর জর্জ বুশকে গননার মধ্যে রাখতে চাইছে
না।
প্রসঙ্গত,
ইরানের প্রেসিডেন্ট
মাহমুদ আহমেদেনেজাদের পক্ষ থেকে ওবামাকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে
বৃহস্পতিবার।
এদিকে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট
রবার্ট পক্ষ থেকে ওবামা প্রশাসনের সাথে কাজ করার জন্য সাগ্রহে আশা করে থাকার কথা
জানিয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য,
দেশদুটির সাথে
বুশ-প্রশাসনের অত্যন্ত খারাপ।
লন্ডনঃ ৭
নভেম্বর ২০০৮
|