|
পুরনো শত্রুতা ভুলে পারস্পরিক
সহযোগিতায় সম্মত চীন ও তাইওয়ান
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ব্যাপারে একমত হতে পেরেছে চীন
ও তাইওয়ান।
তাইওয়ানে পাঁচদিনের
গুরুত্বপূর্ণ এক সফর শেষে বেইজিং ফিরে এ-তথ্য জানিয়েছেন দু-পক্ষের
মধ্যে আলোচনায় চীনের প্রধান আলোচক চেন
ইউনলিন।
শুক্রবার ইউনলিন জানান
দীর্ঘ-মেয়াদী মৈত্রী স্থাপনের লক্ষ্যে দুই পক্ষই দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে যাবে।
এদিকে তার সফরের শেষ
দিনটিতেও তাইওয়ানে চীন-বিরোধী বিক্ষোভের পাওয়া গেছে।
তাইওয়ান
থেকে চীনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবার আগে বিমান-বন্দরে উপস্থিতি সাংবাদিকদের সাথে
আলাপকালে ইউনলিন বলেন,
'আমাদের
[চীন ও তাইওয়ান] সামনে যে-পথটা পড়ে আছে, তা অত্যন্ত দীর্ঘ ও বেশ সঙ্কটময়;
কিন্তু আমরা অবশ্যই
এক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার সাথে পরিচয় প্রদান দেবো।'
উল্লেখ্য,
পাঁচ দিনের সফর-কালে উভয়
পক্ষের মধ্যে একাধিক চুক্তি সাক্ষরের ক্ষেত্রে চীনের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইউনলিন।
তাইওয়ানের পক্ষে
চুক্তিগুলোতে সাক্ষর করেন চিয়াং পিন-কুং।
সরাসরি ডাক-যোগাযোগ এবং
সমুদ্র ও বিমান-যোগে বাণিজ্যিক-ভিত্তিতে পণ্য পরিবহন ও খাদ্য-নিরাপত্তায় সহযোগিতার
ব্যাপারে উভয় পক্ষের মধ্যে চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়াও দ্বিপাক্ষিক
বাণিজ্য,
বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক সঙ্কট
মোকাবেলার ক্ষেত্রে পারষপরিক আর্থিক ও ব্যাঙ্কিং সহযোগিতার ব্যাপারেও একমত হতে
পেরেছে চীন ও তাইওয়ান।
এদিকে
চেন ইউনলিনের সফরকে ঘিরে তাইওয়ানে নিয়ন্ত্রিত-মাত্রা বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
বিরোধী দল ডেমৌক্র্যাটিক
প্রৌগ্রেসিভ পার্টির (পিডিপি) এর পক্ষ থেকে গত পাঁচ-দিন ধরে স্থানে-স্থানে
চীন-বিরোধী বিক্ষোভ-সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য,
গত বছরের প্রেসিডেন্ট ও
পার্লামেন্ট নির্বাচনে মা ইয়িং-জেয়ৌর নেতৃত্বাধীন কুয়োমিংটান পার্টির কাছে পরাজিত
হয়েছিলো পিডিপি।
সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে,
শুক্রবার ইউনলিনের
বিদায়ের সময়টিতেও রাজধানীর তাইপেতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে পিডিপি।
তবে এ-সময় কিছু লোককে
'তাইওয়ান
স্বাধীন'
বলে স্লৌগান দিতে শোনা যায়।
তবে বিক্ষোভটিতে খুব
বেশি মানুষ-জন অংশগ্রহণ করেননি বলে জানিয়েছে একাধিক বার্তা-সংস্থা।
স্মরণ
করা যেতে পারে,
চীন ও তাইওয়ানের মধ্যেকার
তিক্ততার ইতিহাস বহুদিনের পুরোনো।
গতশতাব্দীর চল্লিশের দশকে মাও সেতুংয়ের নেতৃত্বে বিপ্লবের মধ্যমে চীনের মূল ভূখণ্ড
সমাজতান্ত্রিক হলেও জাতীয়তাবাদী নেতা চিয়াং কাইশেকের নেতৃত্ব ও পশ্চিমা বিশ্বের
সমর্থনে চীনের ফরমোজা দ্বীপ তাইওয়ান নামে একটি পুঁজিবাদী রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা
লাভকরে। সেই থেকে চীনের
তাইওয়ানকে নিজের অংশ হিসাবে দাবী করলেও,
তাইওয়ান কখনও এ-দাবীর
সাথে সহমত হয়নি।
স্নায়ু-যুদ্ধের দিনগুলো থেকেই
দূর-প্রাচ্যের সামরিক সমীকরণের যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাইওয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
এক মিত্র হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখিত অঞ্চলটিতে
চীনের প্রভাব ক্ষুন্ন করার লক্ষ্য থেকে তাইওয়ানকে বিশেষভাবে সমর-সজ্জায় সজ্জিত করে
রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অবশ্য কয়েক বছর ধরে
মূলতঃ বাণিজ্যিক কারণে চীন-তাইওয়ান সম্পর্কের বেশ উন্নতি হয়েছে।
বিশেষ-করে গত বছর
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট পদে মা ইয়িং-জেয়ৌর আবির্ভাবের পর থেকে চীনের সাথে সম্পর্ক
উন্নতির ব্যাপারটিতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন সংঘটিত হতে দেখা যাচ্ছে।
মা ইয়িং-জেয়ৌ অবশ্য
নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকে চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নতির ব্যাপারটিকে গুরুত্ব
দিচ্ছিলেন।
লন্ডনঃ ৭
নভেম্বর ২০০৮
|