|
এ-বছর ফিলিস্তিন-ইসরায়েল
শান্তি-চুক্তির সম্ভাবনা নেইঃ যুক্তরাষ্ট্র

এ-বছরের মধ্যে
ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে কোন ধরণের শান্তি-চুক্তির সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার ওয়াইট হাউস থেকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে এ-তথ্য।
এক্ষেত্রে গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েলের ক্ষমতার কাঠামোর সর্বোচ্চ পর্যায়ে টানা-পোড়েন
সংক্রান্ত ঘটনাবলীর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
এ-ঘোষণার মধ্য ইতিহাসের খাতায় নাম লিখে যাবার মত অনন্ত একটি সাফল্য রচনা সংক্রান্ত
জর্জ বুশের আশা-ভরসা বিলুপ্ত হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার
যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী-প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের মুখপাত্র ডানা পেরিনৌ সাংবাদিকদের
বলেন,
এ-বছর শেষ হবার আগে কোন ডিল সমপন্ন হবে বলে আমরা মনে করি না।
তিনি
আরও জানান গত মাস দুয়েক ধরে বা আরো পিছিয়ে ধরলে এবারের গ্রীষেমর শুরু থেকেই
ইসরায়েলে ক্ষমতার পালা-বদল সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ফিলিস্তিনের সাথে কোন ধরণের
বুঝাপড়ায় পৌঁছুতে পারার ব্যাপারটি অসম্ভব এক ব্যাপার হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য,
কাদিমা পার্টির নেতৃত্বাধীন বর্তমান জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট বেশ
কিছুদিন আগেই ক্ষমতা থেকে সরে যাবার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন।
তার
বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
বর্তমান
সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিজিপি লিভনির নেতৃত্বে নতুন জোট গঠিত হবার কথা থাকলেও
শরীক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নানাবিধ জটিলতার কারণে তা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
স্মরণ করা যেতে,
২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে আয়োজিত এক সম্মেলনের ভেতর দিয়ে
দীর্ঘ-দিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা শান্তি-প্রক্রিয়া প্রক্রিয়ার পুনরুজ্জীবন ঘটিয়েছিলেন
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলামার্ট।
এক্ষেত্রে জর্জ বুশের পক্ষ থেকেও লক্ষ্য করার মত উৎসাহ লক্ষ্য করা গিয়েছিলো।
ইরাক ও
আফগানিস্তানে হামলার পরিণতিতে সাংঘাতিকভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়া ও জনপ্রিয়তার
হ্রাস পাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ ব্যক্ত করার বিশেষ কারণ ছিলো
বলেই মনে করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে,
ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি-প্রক্রিয়া স্বাক্ষরের ভূমিকা রাখার মধ্য দিয়ে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে অন্ততঃ একটি ক্ষেত্রে ইতিহাসে নাম স্থায়ী করার বাসনা
করেছিলেন বুশ।
লক্ষ্য
করার ব্যাপার,
প্রথম কয়েক-মাস এ-ব্যাপারে বেশ তোড়জোড় শোনা গেলেও শেষের দিকে সকল পক্ষ থেকেই
এ-ব্যাপারে আগ্রহের কমতি লক্ষ্য করা যায়।
ইরাক-আফগানিস্তান-সহ অভ্যন্তরীন নানান বিষয়ে ভয়ানক চাপের মধ্যে থাকার ফলে বুশের
পক্ষ
থেকেও এ-ব্যাপারে আর তেমন কোনো মনোযোগ দেখানো সম্ভব হয়নি।
এখন
বিদায়-বেলাতে তার পক্ষে কোনো ভূমিকা রাখা-যে একেবারেই সম্ভব নয়,
তাও স্পষ্ট।
বুশের আমলে আর
কিছু ঘটার সম্ভাবনা না থাকলেও বৃহস্পতিবার ওয়াইট হাউসের ঘোষণাতে দুই-পক্ষের মধ্যে
আলাপ-আলোচনার গতি ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার উপরে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ওয়াইট
হাউস থেকে ঘোষণা আসার কিছু সময় আগে সেক্রেট্যারী অফ স্টেইট কন্ডোলিৎসা রাইসের পক্ষ
থেকেও এ-বছরের মধ্যে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলের শান্তি-প্রক্রিয়ার কোনো সম্ভাবনা না
থাকার কথা জানানো হয়েছে।
তিনি
আরও জানান,
আগামী ফেব্রুয়ারীর ২০ তারিখে ইসরায়েলে অনুষ্ঠিতব্য পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে
আলোচ্য বিষয়ে পরিবর্তন আসার আর কোনো সম্ভাবনা নেই।
লন্ডনঃ ৬
নভেম্বর ২০০৮ |