|
লন্ডন থেকে ঢাকায় শেখ হাসিনাঃ নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়তে কর্মীদের
আহ্বান
পাঁচ মাস পর দেশে ফিরেছেন
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে
যুক্তরাজ্য হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার কিছু সময় আগে দেশে ফিরে বিমান-বন্দরে এক
সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ১৮ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে
ঝাঁপিয়ে পড়তে দলীয় নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা
।
একইসঙ্গে তিনি এ-নির্বাচন যাতে
কোনোক্রমেই বানচাল না হয় সেজন্য নেতা-কর্মীদের যথা-সম্ভব সংযত হওয়ারও আহ্বান
জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, 'ঘোষিত
তারিখেই নির্বাচন হতে হবে।
এ-নির্বাচন যেনো
কোনোভাবেই বানচাল না হয়।
জাতিকে দুঃসময় থেকে
রক্ষা করতে যা করা দরকার আওয়ামীলীগ তাই করবে।'
শেখ হাসিনা আরও বলেন, 'দেশের
মানুষ খুবই কষ্টে রয়েছে।
খুব দুঃসহ জীবন যাপন
করছে তারা।
মানুষের এখন কোনো কাজ নেই।
ক্ষুধার যন্ত্রণায় রয়েছে
তারা।
তাদের মনে হতাশা দেখা দিয়েছে।
দেশ এখন দুঃসময় ও
সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
সঙ্কটময় এ মুহূর্তে
সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।'
সাময়িক 'মুক্তি'র আওতায় বিদেশে
'চিকিৎসা' নিয়ে ফিরে এসে হাসিনা বলেন,
'নির্বাচনের যে-তারিখ
ঘোষণা করা হয়েছে সে-তারিখেই নির্বাচন হতে হবে।
এটি যেনো কোনোভাবেই
বানচাল করা না হয়।
কোনো ধরণের ষড়যন্ত্র করে
যেনো নির্বাচন পেছানো না হয়।
নির্বাচিত সরকার ছাড়া
দেশকে এ-সঙ্কট থেকে কেউ উদ্ধার করতে পারবে না।
জনগণ ভৌট দিতে পারলে
আওয়ামী লীগ জয়ী হবে এমন আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'আওয়ামী
লীগ ক্ষমতায় এলে নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানো হবে এবং তা জনগণের ক্রয়ক্ষমতার
মধ্যে আনা হবে।
ষড়যন্ত্র আছে, তবে তা মোকাবিলা করেই
চলতে হবে।'
তিনি বলেন, 'আমরা
হানাহানির রাজনীতি চাই না।
আমরা এ-ধরণের রাজনীতিতে
বিশ্বাসও করি না।
আমরা অশান্তি চাই না।
আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে থাকতে
চাই।
নির্বাচনী 'মহাজোট' বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি
বলেন,
'মহাজোট
হবে।
তবে যারা জাতি, দেশ, জনগণ ও স্বাধীনতার
শত্রু, তারা এ-জোটে থাকবে না।'
ক্ষমতায় গেলে বর্তমান
সরকারের কর্মকাণ্ডের বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এ-বিষয়টি
সংসদেই নির্ধারণ করতে হবে।
এ-সংক্রান্ত
অধ্যাদেশগুলোকে আগে আইনে পরিণত করতে হবে।
আসলে, জনপ্রতিনিধিরাই ঠিক
করবেন কী করতে হবে।'
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের রাজধানী
ঢাকা
ছিলো আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের দখলে।
দলীয় সভানেত্রীকে এক
নজর
দেখতে বিমান-বন্দর থেকে ধানমণ্ডি সুধা সদন পর্যন্ত
ছিলো
মানুষের
ঢল।
সকাল ৮ টায় শেখ
হাসিনাকে
বহনকারী
ফ্লাইটটি
বিমান-বন্দরে অবতরণের কথা
থাকায় ভোর থেকেই
আওয়ামীলীগ ও
অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রাস্তার দু-পাশে লাইনে
দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে
নেত্রীর জন্য।
আর
এ-কারণে নগরীতে দেখা দেয়
তীব্র যানজট।
সেনা-নিয়ন্ত্রণ তত্ত্বাবধায়ক
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ ফখরুদ্দীন আহমদের
সকাল সাড়ে ১০ টায় দেশটির রপ্তানি আয়ের
প্রধান খাত তৈরী
পোশাকের সর্ববৃহৎ প্রদর্শনী বাটেক্সেপো উদ্বোধনের কথা
ছিলো।
যানজটের কারণে প্রধান
উপদেষ্টার সোনারগাঁও হোটেলে
পৌছতে দেরী হওয়ায় সে-অনুষ্ঠান শুরু হয় ১১ টা ৩০ মিনিটে।
বৃহস্পতিবার সকাল ন'টার একটু পর
এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমান থেকে দেশের মাটিতে পা রাখেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী
শেখ হাসিনা।
বিমান-বন্দরের বাইরে রং-বেরংয়ের
ব্যানার, ফেস্টুন, পতাকা ও ক্যাপ নিয়ে
উপস্থিত ছিলেন দলের হাজার-হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক।
বিমান-বন্দর থেকে সুধা
সদন পর্যন্ত পুরো পথে শেখ হাসিনার গাড়িবহরের সামনে ছিলো কয়েকশো মটর সাইকেল।
গাড়িবহরে ১০-১২টি ট্রাকে
হারমোনিয়াম-তবলা নিয়ে দলীয় ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র'র গণসঙ্গীত পরিবেশন করে
আওয়ামী লীগ সমর্থক সংস্কৃতি কর্মীরা।
শেখ হাসিনার গাড়িবহর
ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বের হওয়া মাত্র বিমান-বন্দর গোলচত্বরে সমবেত নেতা-কর্মীরা
পুলিসের ব্যারিকেড ভেঙ্গে বিমানবন্দরে ঢুকে পড়ে।
শেখ হাসিনা গাড়ি থেকে
সমবেত হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়তে থাকেন।
জিল্লুর রহমান-সহ আওয়ামী লীগের
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা এবং নবনির্বাচিত চার মেয়র হাসিনাকে বিমান-বন্দরে
স্বাগত জানান।
বিমান-বন্দর থেকে
ধানমণ্ডির বাড়ী ফিরতে জনস্রোত ঠেলে দু-ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে তার।
সেনা নিয়ন্ত্রিত
তত্বাবধায়ক সরকার ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে বিশেষ কারাগারে
পাঠায়।
২০০৮ সালের ১১ জুন বিদেশে
'চিকিৎসা'র জন্য তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়।
১২ জুন তিনি
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
এদিকে বিএনপি নেতৃত্বধীন চার
দলীয় জোট ১৮ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ নেবে কি-না, সে-ব্যাপারে এখনও পরিস্কার করে
কোনো ঘোষণা দেয়নি।
বুধবার গভীর রাতে বিএনপি
চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে তার বাসভবনে চার দলের
নেতাদের বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে
৮টা পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ গ্রহণের ব্যাপারে বিএনপি বা চার দলীয় জোটের কোনো
সুস্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।
ঢাকা থেকে
আবদুর রহিম হারমাছি
ছবিঃ তারেক
চোধুরী, লন্ডন
৬
নভেম্বর,
২০০৮
|