|
অভিনন্দনের স্রোতে ভাসছেন মার্কিন
প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট বারাক ওবামা
মার্কিন
প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত বারাক ওবামাকে পৃথিবীর সর্ব-প্রান্ত থেকে অভিনন্দন
জানিয়েছেন সরকার ও রাষ্ট্র-প্রধানবৃন্দ।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর
পক্ষ থেকেও অভিনন্দন জানানো হয়েছে সদ্য নির্বাচিত ওবামাকে।
বিদায়ী
প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ মঙ্গলবার
রাতে টেলিফৌন করে বারাক ওবামাকে অভিনন্দন জানান।
ওয়াইট হাউস থেকে
সংবাদ-মাধ্যমে সরবরাহকৃত ট্র্যান্সক্রিপ্ট অনুসারে বুশ ফৌন করে বলেন, 'মিঃ
প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট আমি আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
আজকের রাতটি আপনার জন্য
কতো না দারুন।'
আগের রাতের ফৌনের পর বুধবার ওয়াইট হাউস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওবামাকে অভিনন্দন জানান
বুশ।
এছাড়াও ক্ষমতা হস্তান্তরের
ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানেরও ঘোষণা দেন তিনি।
নির্বাচনী ফলের ব্যাপারে
প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বুশ বলেন, 'ভৌটার কে কীভাবে তাদের ভৌটাধিকার প্রয়োগ করছেন তা বড়
ব্যাপার নয়; গতকাল যে-ইতিহাস তৈরী হয়েছে তা, নিয়ে সকল আমেরিকান গর্বিত হতে পারে।'
বুশ জানান, ওবামা ও তার পরিবারকে ওয়াইট হাউসে বরণ করে নেয়ার জন্য তিনি ও ফার্স্ট
লেইডী লরা বুশ আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করে আছেন।
ওয়াইট হাউস ছেড়ে দেয়ার
পরে এখানকার স্মৃতিগুলোকে সম্বল করে টেক্সাসে নিজেদের বাড়ীতে ফিরে যাবেন বলে
জানিয়েছেন বুশ।
বিদায়ী
মার্কিন সেক্রেটারী কন্ডৌলিৎসা রাইসের পক্ষ থেকেও এসেছে বারাক ওবামার জন্য অভিনন্দন।
তিনি বলেন, 'আমেরিকান
গণতন্ত্র চমক উপহার দিয়ে চলেছে।
এটি নিজেকে নবায়িত করে
চলেছে।
একজন আফ্রৌ-আমেরিকান হিসাবে,
আমি বিশেষভাবে গর্বিত।'
নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্ত হবার পর থেকেই সারা বিশ্ব থেকে অভিনন্দন বার্তা আসতে শুরু
করে।
প্রেরিত বার্তাগুলোতে নিছক
অভিনন্দন জানানো ছাড়াও বারাক ওবামার কাছে তাদের আশা-প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেছেন
বিশ্ব-নেতৃবৃন্দ।
প্রেরিত
বার্তাতে চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও বারাক ওবামার আমলে দু-দেশের মধ্যে সংলাপ ও
যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার মাত্রা বাড়ানোর
ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চীনের প্রধানমন্ত্রী
ওয়েন জিনতাওর প্রেরিত অভিনন্দন-বার্তাতেও চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সু-সম্পর্কের উপরে
গুরুত্বারোপ করা হয়।
এশিয়া-প্রশান্ত
মহাসাগরীয় অঞ্চল-সহ সারা বিশ্বের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির জন্য দু-দেশের
সু-সম্পর্কের ব্যাপারটি জরুরী বলে উল্লেখ করেন জিনতাও।
বারাক
ওবামাকে অভিনন্দন জানিয়ে ব্রিটেইনের প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন বলেন, 'আমাদের
অগ্রগতি ও নিরাপত্তার জন্য ব্রিটেইন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকার
ব্যাপারটি একান্ত গুরুত্বপূর্ণ; বারাক ওবামা একটি উদ্দীপনাময় নির্বাচনী
প্রচারাভিযান পরিচালনা করেছেন, তার প্রগতিশীল মূল্যবোধগুলো দিয়ে রাজনীতির প্রেরণার
সঞ্চার করেছেন।'
আগামী মাস ও বছরগুলোতে ওবামার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত
করেছেন ব্রাউন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকৌলাস সারকৌজি বলেন, 'আপনাকে [জনগণের] বেছে নেয়ার মানে
হচ্ছে, পরিবর্তনের পক্ষে মার্কিন জনগণের আশাবাদের প্রকাশ।'
ওবামার বিজয়ে ফ্রান্স, ইউরৌপ-সহ সারা বিশ্বজুড়ে বিপুল আশার সঞ্চার করেছে বলে উল্লেখ
করেন সারকৌজি।
জার্মানীর চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মার্কেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরৌপের মধ্যে একটি
ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও আস্থাশীল সহযোগিতার ভিত্তিতে নতুন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা
এবং আমাদের বিশ্বে যে-অসংখ্য সম্ভাবনাগুলোর উদয় হয়েছে তার সুফল ভোগ করা সম্ভব বলে
আমি মনে করি।
ভারতের
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ বার্তাতে বলেন, 'ওয়াইট হাউস অভিমুখে আপনার অভিযাত্রার
ঘটনাটি শুধু আপনার দেশের জনগণ নয়, বরং সারা দুনিয়ার মানুষ-জনকেই উৎসাহিত করবে।'
কেনিয়ার
প্রধানমন্ত্রী রাইলা ওডিংগা বলেন, 'এই বিজয়ের গুরুত্ব বিশ্বের শতো-মিলিয়ন মানুষের
মনে অনুরণন তুলবে।
প্রকৃত অর্থে এটা হচ্ছে
বৈশ্বিক-নবায়নের একটি ক্ষণ।'
কেনিয়ার জনগণের পক্ষ থেকে বারাক ওবামা ও মার্কিন জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ওডিঙ্গা।
উল্লেখ্য, বারাক ওবামার
পিতা কেনিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র এসেছিলেন গত শতকের ষাটের দশকে।
ইরাক
সরকারের মুখপাত্র আলী আল-দাবাগ অভিনন্দন-বার্তায় বলেন, 'দুই দেশের সর্বোচ্চ
স্বার্থে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং ইরাকের জনগণের স্বার্থরক্ষাকারী
পূর্ণ-সার্বভৌমত্বের প্রয়োজন থেকেই [যুক্তরাষ্ট্রে] প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিতর সাথে
কাজ করা ও সহযোগিতা করার একটি সত্যিকারের আকাঙ্খা ইরাক সরকারের আছে।'
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের পক্ষ থেকে প্রেরিত বার্তাতে ফিলিস্তিন
সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে বারাক ওবামার দ্রুত যুক্ত হবার আশা প্রকাশ করা হয়।
এছাড়াও সমস্যা সমাধানের
ক্ষেত্রে ওবামা 'দুই রাষ্ট্র' ভিত্তিক সমাধানের পথে হাঁটবেন বলেই আশা প্রকাশ করা হয়।
ইসরায়েলে
নতুন জোট-সরকার গঠনের সাথে-সাথে বিদায় নেয়ার ঘোষণা দিয়ে-রাখা প্রধানমন্ত্রী এহুদ
ওলমার্ট বলেন, 'আরও একবার, আমেরিকা প্রমাণ করেছে, বাস্তবিকই সে সর্বশ্রেষ্ঠ
গণতন্ত্র এবং বিশ্বের অন্য সকল গণতন্ত্রের জন্য উদাহরণস্বরূপ।'
যৌথ-মূল্যবোধ ও স্বার্থের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত বলে
উল্লেখ করেন ওলমার্ট।
ইউরৌপীয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট খোসে ম্যানুয়েল বারোসো বলেন, 'এটা হচ্ছে ইউরৌপ ও
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অঙ্গীকার নবায়নের সময়।'
বারোসো জানান, চলমান সঙ্কটকে নতুন সম্ভাবনাতে রূপান্তরের করাটাই হচ্ছে এখনকার
প্রয়োজন।
দক্ষিণ
আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা, আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু, জাতিসংঘ
মহাসচিব ব্যান কী মুন, পৌপ ষোড়শ বেনেডিক্টের পক্ষ থেকেও বারাক ওবামাকে অভিনন্দন
জানিয়ে বার্তা প্রেরণ করা হয়েছে।
লন্ডনঃ ৫
নভেম্বর ২০০৮
|