|
সীমান্ত-বিরোধঃ
বঙ্গোপসাগরে রণতরী পাঠিয়েছে
বাংলাদেশ ও বার্মা
তেল-অনুসন্ধানের
জলসীমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বঙ্গোপসাগরে রণতরী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ও
মায়ানমার (বার্মা) ।
শেষোক্ত দেশটির পক্ষ থেকে
বঙ্গোপসাগরে একটি গ্যাস অনুসন্ধাকারী জাহাজ পাঠানোর পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে
উঠেছে।
বাংলাদেশে বতর্মানে একটি
সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আছে।
পক্ষান্তরে দীর্ঘ কয়েক
দশক ধরেই সেনাবাহিনী মায়নমার শাসন করছে।
বার্তা-সংস্থাগুলো জানিয়েছে,
মঙ্গলবার সেইন্ট মার্টিন
দ্বীপ থেকে ৩০ মাইল দক্ষিণে বিএনএস কপোতাক্ষ নামের ব্রিটেইনে নির্মিত একটি রণতরী
মোতায়েন করেছে বাংলাদেশ।
কপোতাক্ষের আগে উল্লেখিত
এলাকায় আরও গোটা তিনেক রণতরী মোতায়েন করেছে বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য,
সেইন্ট মার্টিন থেকে ৫০
নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে মায়নামারের একটি গ্যাস অনুসন্ধানকারী জাহাজ মোতায়েনের
পর থেকে পরিস্থিতি সঙ্কটময় হয়ে উঠেছে।
মায়নামারের ধারণা আলোচ্য
জলসীমাতে আনুমানিক ১৪ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফুট গ্যাস মজুত আছে।
এদিকে বাংলাদেশের
সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার জানিয়েছেন তারা
'সম্ভাব্য
সকল উপায়ে'
দেশের সম্পদ রক্ষা করবেন।
উদ্ভূত সঙ্কটময়
পরিস্থিতি সামাল দেয়ার লক্ষ্য থেকে একাধিক কূটনীতিককে ইয়াঙ্গুন পাঠিয়েছেন ঢাকা।
এদিকে,
সরাসরি সেনা-শাসিত
মায়নমারের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে কড়া হুমকি জারী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,
ছোটো-ছোটো কয়েকটি রণতরীর
পাহারায় গত সপ্তাহে একটি গ্যাস অনুসন্ধান জাহাজ বঙ্গোপসাগরে পাঠায়।
ঢাকা জানিয়েছে,
মায়নামারের পাঠানো
জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করেছে।
কিন্তু ইয়াঙ্গুন ঢাকার
দাবীটিকে কড়াভাবে প্রত্যাখান করেছে।
ঢাকা
বলেছে,
আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জলসীমা
সংক্রান্ত বিরোধটি মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত মায়নমারের জাহাজটিকে সরিয়ে নিয়ে যেতে
হবে।
এদিকে ইয়াঙ্গুন অনুসন্ধানকারী
জাহাজটিকে বর্তমান অবস্থানে রেখে দেয়ার ব্যাপারে অনড় মনোভাব ব্যক্ত করা হয়েছে।
দেশটি জানিয়েছে,
আলোচ্য এলাকাটি
একান্তভাবেই মায়নমারের জলসীমাতে অবস্থিত।
সেখান থেকে
অনুসন্ধানকারী জাহাজটিকে কোনোভাবেই ফিরিয়ে নিয়ে আসার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে
দেশটি।
লন্ডনঃ ৪
নভেম্বর ২০০৮ |