|
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের
শেষ প্রচার-দিনে ওবামা ও ম্যাককেইন

চাপা
উত্তেজনা আর নানা সংশয়ের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের আগের দিনটি অতিবাহিত করেছেন মার্কিন
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দু-প্রার্থী বারাক ওবামা (৪৭) ও জন ম্যাককেইন (৭২)।
জনমত জরীপে ওবামা এগিয়ে
থাকলেও ম্যাককেইন-শিবির থেকে শেষ মুহূর্তে চমক দেখানো অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন কংগ্রেসে সেনিটর নির্বাচিত হবার মাত্র চার বছরের মাথায় দীর্ঘ
রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম আফ্রৌ-আমেরিকান প্রেসিডেন্ট
হবার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন ওবামা।
সাম্প্রতিক জনমতগুলো
ভৌটের বাক্সে প্রতিফলিত হলে আগামী জানুয়ারী বিশ তারিখে ওয়াইট হাউসের দায়িত্ব গ্রহণ
করবেন ওবামা।
পক্ষান্তরে রিপাবলিকান পার্টির
বাহাত্তর বছর বয়েসী আরিজোনা অঙ্গরাজ্যের সেনিটর জন ম্যাককেইনের জন্য এবার
নির্বাচনকে ধরে নেয়া যায় ওয়াইট হাউসে যাবার শেষ সুযোগ।
উল্লেখ্য, আট বছর আগে
দলীয় মনোনয়ন লাভের জন্য তুমুল প্রচেষ্টা চালিয়ে জর্জ বুশের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন জন
ম্যাককেইন।
এবার জিততে পারলে ম্যাককেইন
হবেন সবচেয়ে বেশি বয়েসে নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সোমবার
ফ্লৌরিডার জ্যাকসনভিল ভেটেরান্স
মেমৌরিয়াল এরিনাতে হাজার-হাজার হর্ষোৎফুল্ল সমর্থকের সামনে শেষ মুহূর্তের ভাষণে
ওবামা বলেন, 'ফ্লৌরিডা তোমার জন্য বলার মতো আমার একটিমাত্র শব্দ আছেঃ আগামীকাল।'
ওবামার বক্তব্যের সময়ে সমর্থকরা 'ইয়েস উই ক্যান' স্লৌগানে সমাবেশ-স্থল মুখরিত করে
তোলেন।
ওবামা আরও বলেন, 'ইউনাইটেড
স্টেটস অফ আমেরিকাকে পাল্টে দেয়ার সময় থেকে আমরা মাত্র একটি দিন দূরে আছি।'
প্রচারণার শেষ-দিনে ফ্লৌরিডা, ভার্জিনিয়া, নর্থ ক্যারৌলিনা অঙ্গরাজ্য বিভিন্ন
স্থানে প্রচারণা চালান ওবামা।
জনমত জরীপে তাকে এগিয়ে
থাকতে দেখে আত্মতৃপ্তিতে না ভূগে দলে-দলে ভৌট-কেন্দ্রে যেয়ে ভৌট দিয়ে আসার জন্য
সমর্থকদের প্রতি আহবান জানান ওবামা।
ওবামার রানিং মেইট জৌসেফ
বিডেন ও তার স্ত্রী মিশেল ওবামা পৃথক-পৃথকভাবে মিশৌরি, নেভাদা, কলোরাডৌ ও ওহিওতো
প্রচারাভিযান পরিচালনা করেন।
অপরদিকে,
এক-সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারী ক্লিন্টন সোমবার বারাক ওবামার পক্ষে প্রচারণা
চালিয়েছেন মন্টানাতে।
এদিকে,
টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ব্লন্টভিলে দেয়া শেষ-পর্যায়ের ভাষণে ম্যাককেইন বলেন, আমরিকার
নতুন এক নির্দেশনার পথে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থেকে আমরা একটি মাত্র দিন দূরে আছি।
এর আগে ফ্লৌরিডার
টাম্পাতে দেয়া এক ভাষণেও মঙ্গলবারের নির্বাচনে জয়ী হবার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয়
ব্যক্ত করেন।
জনমত জরীপ দ্বারা প্রভাবিত
বিশ্লেষকবৃন্দ ও ডেমৌক্র্যাটিক পার্টিকে উদ্দেশ্য করে ম্যাককেইন বলেন, 'পণ্ডিতেরা
হয়তো জানেন না এবং ডেমৌক্র্যাটরা হয়তো জানেন না, কিন্তু এটাই বাস্তবতা যে 'ম্যাক ইজ
ব্যাক'।
আমরা নির্বাচনে জিততে যাচ্ছি।
উল্লেখ্য, দু-দিন আগে
ম্যাককেইনের সমর্থনে প্রচারণায় নেমে ক্যালিফৌর্নিয়ার গভর্ণর আরনল্ড শৌয়ার্জনেগার
'ম্যাক ইজ ব্যাক' বাক্যটি ব্যবহার করেন।
তারপর থেকেই জরীপে
পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও ম্যাককেইনের জয়ী হবার সম্ভাবনা বুঝানোর জন্য রিপাবলিকান শিবির
থেকে 'ম্যাক ইজ ব্যাক' কথাটি সর্বক্ষণ ব্যবহার করা হচ্ছে।
সোমবার দিন-জুড়ে
ফ্লৌরিডা, ভার্জিনিয়া, পেনসেলভেনিয়া, টেনেসি, ইন্ডিয়ানা, নিউ মেক্সিকৌ ও নেভাদা
অঙ্গরাজ্য সফর করেন।
নির্বাচনের দিন তিনি নিজ
অঙ্গরাজ্য আরিজৌনাতেই থাকবেন বলে জানা গেছে।
লক্ষ্য
করার ব্যাপার, বারাক ওবামার প্রচারণাতে এক সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারী ক্লিন্টন
থেকে শুরু করে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনকে দেখা গেলেও, ম্যাককেইনের শেষ
মুহূর্তের প্রচারণাতেও প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ বা ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনীর মতো
কাউকে না দেখার যাবার ব্যাপারটি নিয়ে নানা-রকমের কথাবার্তা চলছে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে
করেন, ইরাক পরিস্থিতি থেকে শুরু করে দেশের অর্থনীতিকে ভয়াবহ দূর্গতির দোরগোড়ায়
পৌঁছে দেয়ার মধ্য দিয়ে ব্যাপকভাবে অ-জনপ্রিয় হয়ে পড়া বুশ-চেনি জুটিকে সচেতনভাবেই
প্রচারণা-সহায়তার জন্য অনুরোধ করেননি ম্যাককেইন।
নির্বাচনের আগের দিনের জরীপে দেখা যাচ্ছে, প্রতিদ্বন্দ্বী জন ম্যাককেইনের তুলনায় ১১
পয়েন্ট এগিয়ে আছেন বারাক ওবামা।
গ্যালাপ-ইউএসএ পরিচালিত
জরীপে ওবামা ও ম্যাককেইনের পক্ষে যথাক্রমে ৫৫ ও ৪৪ শতাংশ সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে।
ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল ও
এনবিসি নিউজের জরীপে ম্যাককেইনের (৪৩ পয়েন্ট) তুলনায় ৭ শতাংশ এগিয়ে আছেন ওবামা (৪৩
শতাংশ)।
সিএনএন,
ওয়াশিংটন পৌস্ট-এবিসি নিউজ ও গবেষণা-সংস্থা রাসমুসেন
পরিচালিত সর্বশেষ জরীপগুলোতে ওবামাকে ৬ থেকে ১১ শতাংশ পর্যন্ত এগিয়ে রাখা হয়েছে।
কোনো-কোনো পর্যবেক্ষক
মনে করেন, জরীপে বেশ খানিকটা পিছিয়ে থাকার কারণে রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে
ভৌট-কেন্দ্রে আসার ব্যাপারে আগ্রহের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যেতে পারে।
জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে
দিতে পারে এমন কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও বারাক ওবামার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তরদাতার
সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে।
এসব অঙ্গরাজ্যের মধ্যে
ওহিও, পেনসেলভেনিয়া, ফ্লৌরিডার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোও আছে।
লক্ষ্য করার ব্যাপার
হচ্ছে, নির্বাচনের আগের দিনটিতে উভয় প্রার্থী মূলতঃ রিপাবলিকান সমর্থন-পুষ্ট
অঙ্গরাজ্যগুলোতেই সমর্থকদের সামনে উপস্থিত হয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট হতে হলে বারাক ওবামা বা জন ম্যাককেইনের যে-কোনো একজনকে
ইলেক্টৌরাল কলেইজের কমপক্ষে ২৭০টি
ভৌট জিতে নিতে হবে।
ইলেক্টৌরাল কলেইজের মোট
ভৌট-সংখ্যা ৫৭০।
উল্লেখ্য, মার্কিন ব্যবস্থা
অনুসারে মঙ্গলবারের ভৌটের মধ্য দিয়ে ভৌটাররা মূলতঃ প্রেসিডেন্ট নয় বরং পঞ্চাশটি
অঙ্গরাজ্যজুড়ে ইলেক্টৌরাল কলেইজের ইলেক্টরদের নির্বাচিত করবেন।
এ-ইলেক্টরেরা
মধ্য-ডিসেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে ভৌট দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবেন।
তবে দল-ব্যবস্থার
প্রাধান্য এবং ইলেকটৌরেট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের প্রাধান্য থাকার কারণে
জনগণ যে-প্রার্থীর পক্ষে ভৌট দেবেন, ইলেকটৌরেটরাও উক্ত প্রার্থীকেই ভৌট দেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুসারে কোনো একটি অঙ্গরাজ্যে জনগণের কাছ থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ
ভৌট পাওয়া প্রার্থীটি উক্ত অঙ্গরাজ্যের জন্য বরাদ্দ সবকটি ইলেকটৌরাল কলেজ ভৌট পেয়ে
যাবেন।
এর অর্থ হচ্ছে অঙ্গরাজ্যটিতে
পরাজিত প্রার্থীটি যদি বিজয়ী প্রার্থীর তুলনায় একটি মাত্র ভৌট কম পেলেও ইলেকটৌরাল
কলেজের কোনো ভৌটই তার পক্ষে পড়বে না।
এ-ধরণের ব্যতিক্রম
ব্যবস্থার সুযোগে ২০০০ সালের নির্বাচনে জন কেরির তুলনায় পাবলিক ভৌট কম পেয়েও
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন জর্জ বুশ।
লন্ডনঃ ৩
নভেম্বর ২০০৮ |