|
নির্বাচন সংক্রান্ত নতুন ঘোষণা বাংলাদেশেঃ
তৎপর আওয়ামী-লীগ

জাতীয়
সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার এক দিনের মাথায় সোমবার সন্ধ্যায়
সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জরুরী বিধিমালা ২০০৭ এর ৫
ও ৬ ধারা বিলুপ্ত করেছে।
এর মধ্য দিয়ে জরুরী
অবস্থা শিথিল করা হলো।
এদিকে
সরকারী ঘোষণাকে ঘিরে দেশের অন্যতম প্রধান দল আওয়ামী-লীগের মধ্যে নতুন করে তৎপরতা
লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তবে অপর প্রধান দল
বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ঘোষণা না আসার কারণে পর্যবেক্ষক মহলে কিছুটা
সংশয় বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, সরকারের পক্ষ থেকে আসা সোমবারের ঘোষণাটি ফলে প্রার্থীদের নির্বাচনী
প্রচারণায় তত্ত্বগতভাবে আর বাধা থাকছে না।
গণ-মাধ্যমের ওপর সরকারের
নিয়ন্ত্রণও তুলে নেওয়া হয়েছে।
তবে মিছিল-সমাবেশ
অনুষ্ঠান বা তাতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে গণ-প্রতিনিধিত্ব আদেশ ও স্থানীয় সরকার
(উপজেলা পরিষদ) অধ্যাদেশের বিধান মেনে চলতে হবে।
ফলে জাতীয় সংসদ ও উপজেলা
নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হলেও এ-মুহূর্তে মিছিল-সমাবেশ করতে পারবেন না প্রার্থীরা।
ভৌট-গ্রহণের ২১ দিন বাকী
থাকতেই কেবল আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করা যাবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সোমবার সন্ধ্যায় জরুরী বিধিমালা
শিথিলের কথা জানানো হয়।
বিধি-মালার ৫ ধারার
মাধ্যমে যে-কোনো সভা-সমাবেশ, মিছিল, অবরোধ, বক্তৃতা, বিবৃতি, বিক্ষোভ উত্তেজক
কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত তথ্য বা সংবাদ প্রকাশ; সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক সংবাদ,
সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয়, কার্টুন প্রকাশ বা আলোচনা অনুষ্ঠান সম্প্রচার এতোদিন
নিষিদ্ধ ছিলো।
এছাড়া, বিধিমালার ৬ ধারায় সরকার
বা সরকারী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে উস্কানিমূল বক্তব্য বা কাজে বাধা দেওয়া, সরকারের
কার্যক্রম নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র বা কার্টুন আঁকা, প্রকাশ, প্রদর্শন বা প্রচার এবং
কুশপুত্তলিকা তৈরী বা দাহ করা নিষিদ্ধ করা হয়।
এ-দুই
ধারার মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সব ধরণের গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ
আরোপ করা হয়েছিলো।
২০০৭ এর ১১ জানুয়ারী
সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দেশে জরুরী অবস্থা
জারীর ঘোষণা দেন।
এর দু-দিন পর জরুরী ক্ষমতা
অধ্যাদেশ ২০০৭ জারী করা হয়।
দেশের চার সিটি
কৌর্পোরেশন ও নয়টি পৌরসভায় নির্বাচন সামনে রেখে এর আগে চলতি বছরের ২০ জুন নির্বাচনী
এলাকাগুলোতে জরুরী অবস্থা শিথিল করে সরকার।
এর আওতায় ওইসব এলাকায়
নির্বাচনী সভা, সমাবেশ ও মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিলো।
এদিকে এক বছর ১০ মাস পর
মাঠ পর্যায় থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন
আহম্মেদ সোমবার দুপুরে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন।
এদিকে,
অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেয়ার কোন
স্পষ্ট ঘোষণা না আসার ব্যাপারটি নিয়ে ঢাকার পর্যবেক্ষকদের মধ্যে সংশয় বিরাজ করছে।
আগামী বুধবার জোটের বৈঠক
শেষে তারা এ-ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বলে জানিয়েছে।
অপর
প্রধান দল আওয়ামী-লীগ অবশ্য নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়ে ফেলেছে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
করায় আওয়ামী-লীগ সভানেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার ঘোষণা
দিয়েছেন।
সোমবার আওয়ামী-লীগের পক্ষ থেকে
জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনা ৬
নভেম্বর
দেশে ফিরবেন।
এর আগে তিনি ১০
ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন
বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছিলো।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার
দিন আওয়ামী-লীগ ব্যাপক জমায়েতের মাধ্যমে নির্বাচনী শো-ডাউন করবেন বলে দলের শীর্ষ
নেতারা জানিয়েছেন।
দলের
সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু ইউকেবেঙ্গলির এ-প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, নেত্রী
(শেখ হাসিনা) দেশে ফেরার দিন বিমানবন্দর থেকে ধানমণ্ডির সুধা সদন পর্যন্ত ‘মানব
মাল্য’ তৈরী করার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে
ফিরবেন আর আওয়ামী-লীগের নেতা-কর্মীরা
বাসায় থাকবেন-এটা কখনও হতে পারে না।
এদিকে
আওয়ামী-লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ইউকেবেঙ্গলিকে বলেন,
'শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিন তাকে স্বাগত জানানো এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার কিছু বিষয়
চূড়ান্ত করতে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আওয়ামী-লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক হবে।'
পরে একই কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী-লীগ, সব সহযোগী সংগঠন এবং ঢাকার আশেপাশের
জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বর্ধিত সভা হবে বলে জানান তিনি।
প্রধান
নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা গত রোববার জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের
তফশিল ঘোষণা করেন।
এ-তফশিল অনুযায়ী আগামী ১৮
ডিসেম্বর সংসদ ও ২৮
ডিসেম্বর উপজেলা
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা
থেকে আবদুর রহিম হারমাছি
৩
নভেম্বর ২০০৮ |