|
অবশেষে বাংলাদেশে
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হলো
অবশেষে
বহুল প্রতিক্ষিত নবম জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ
নির্বাচন কমিশন।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির
উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা (সিইসি) একইসঙ্গে
জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের এই তফসিল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত
তফসিল অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের
মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৩ নভেম্বর। মনোনয়ন-পত্র বাছাই করা
হবে ১৬ ও ১৭ নভেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের
শেষ তারিখ ২৪ নভেম্বর। আর ১৮ ডিসেম্বর সংসদ
নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
অনুষ্ঠিত হবে একইদিনে ২৮ ডিসেম্বর।
এর আগে ১৩ নভেম্বরের
মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে।
বাছাই ১৯ ও ২০
নভেম্বর
এবং প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৭ নভেম্বর।
এর আগে
গত ২০ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্বাবধায়ক সরকারের
প্রধান উপদেষ্টা ডঃ ফখরুদ্দীন আহমদ ১৮ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন এবং ২৪ ও ২৮
ডিসেম্বর দু-পর্যায়ে উপজেলা নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।
নির্বাচন
কমিশনের ঘোষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছে দেশটির অন্যতম
প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ।
তবে দলটি উপজেলা
নির্বাচন কমপক্ষে এক মাস পেছানোর জন্য কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে।
অন্য প্রধান রাজনৈতিক দল
বিএনপি রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কমিশনের ঘোষিত তফসিল সম্পর্কে কোনো প্রতিক্রিয়া
জানায়নি।
এ-রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিএনপি
চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে তার বাসভবনে বিএনপি
নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের বৈঠক চলছিলো।
সন্ধ্যায়
সিইসি তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
টেলিফৌনে ইউকেবেঙ্গলির এ-প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপ-কালে বলেন, 'জাতীয়
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানাই।
এই ঘোষণার মাধ্যমে আমরা
নির্বাচনের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেলাম।
আমি দেশবাসীর প্রতি
আহবান জানাবো, সবাই যেনো স্বতঃস্ফূর্তভাবে
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।'
তবে উপজেলা নির্বাচন
প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
'২৮
তারিখে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি দেখা দেবে বলে আমরা মনে করি।
একইসঙ্গে দুটি
নির্বাচনের প্রক্রিয়া চললে জাতীয় ও উপজেলা নির্বাচন দু'টিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।'
তফসিল
ঘোষণা করতে গিয়ে জাতির উদ্দশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, 'সনাতন
পদ্ধতির ভোটার তালিকা নিয়ে জনমনে সব-সময়ই সন্দেহ ছিলো।
অতীতে অনেক যোগ্য নাগরিক
ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, আবার অনেক ভূয়া ব্যক্তিও
তালিকাভূক্ত হয়েছেন।
আবার একই ব্যক্তি একাধিক
ঠিকানায় ভোটার হয়েছেন।
এই অব্যবস্থা নিরসনের
লক্ষ্যে কমিশন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের এক দুরূহ পরিকল্পনা
নেয়।'
এ-প্রসঙ্গে তিনি আগের ভোটার
তালিকার অতিরিক্ত ভৌটারের সংখ্যা তুলে ধরেন।
ছবি-সহ জাতীয় পরিচয়পত্র
দেশের হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর 'ক্ষমতায়নের সূত্র' হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে
বলেও দাবী করেন সিইসি।
নির্বাচন
পরিচালনায় নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে
শামসুল হুদা বলেন,
'সরকারী, আধাসরকারী ও অন্য
প্রতিষ্ঠানের যেসব কর্মী নির্বাচনে বিভিন্ন স্তরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়িত্ব
পালন করছেন ও করবেন, তাদের উদ্দেশে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সব ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে
আপনাদের উপর ন্যস্ত পবিত্র দায়িত্ব পালন করুন।
সব অনভিপ্রেত প্রভাব ও
অন্যায় দাবীকে উপেক্ষা করুন।'
নির্বাচনে
দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তাদের সব ধরণের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
ভোটকেন্দ্রগুলো নিরাপদ রাখার আশ্বাস দিয়ে সিইসি বলেন, 'ভৌটারদের
আমি আজ এটুকুই আশ্বাস দিতে চাই, আপনারা ঘর থেকে বেরিয়ে
যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে এবং ভোট দিয়ে আবার নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরে আসতে পারেন
সে ব্যাপারে যা যা করা দরকার আমরা তাই করবো।
শান্তিপূর্ণভাবে
নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পুলিশ, বিডিআর, আনসার ও ভিডিপির
পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদেরকেও নিয়োগ করা হবে।'
বাংলাদেশে প্রথম থেকে অষ্টম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে যথাক্রমে- ১৯৭৩ সালের ৭
মার্চ, ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী, ১৯৮৬ সালের ৭ মে, ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ, ১৯৯১ সালের ২৭
ফেব্রুয়ারী, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন এবং
২০০১ সালের ১ অক্টোবর।
ঢাকা
থেকে আবদুর রহিম হারমাছি
২
নভেম্বর ২০০৮ |