|
পারস্পরিক
বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে ভারত ও
ইরানে
চুক্তি চূড়ান্ত
বিদ্যমান
বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে গভীরতর করার লক্ষ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়ানোর
সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইরান ও ভারত।
এ-লক্ষ্যে শনিবার উভয় দেশের মধ্যে ডাবল ট্যাক্সেশন
এ্যাভয়েডেন্স
এ্যাগ্রীমেন্ট
(ডিটিএএ) শিরোনামের
একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে উভয় দেশ।
এছাড়াও পারস্পরিক
বাণিজ্য-বিনিয়োগ সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্যে যত দ্রুত সম্ভব একটি চুক্তি স্বাক্ষরের
ব্যাপারে একমত হয়েছে উভয় পক্ষ।
ভারতের বিদেশ-মন্ত্রী
প্রণব মুখার্জী বর্তমানে ইরান সফর করছেন।
শনিবার
প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদেনজিদ ও তেল-মন্ত্রী গোলাম হোসেইন নোজারির সাথে আলাপ-কালে
ডিটিএএ চূড়ান্ত করা ছাড়াও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত ২০০৫ সালে
স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি
বাস্তবায়নের জন্য ভারতের পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি আহবান জানান প্রণব মুখার্জী।
এছাড়াও তিনি জানান ৭.৪
বিলিয়ন ডলার ব্যয় সাপেক্ষ ইরান-পাকিস্তান-ভারত গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনে অর্থ-যোগান
দেয়া সংক্রান্ত পূর্ব-অঙ্গীকার থেকে সরে আসবে না ভারত।
এছাড়াও ইরানের
পেট্রৌলিয়াম খাতে বড় অঙ্কের ভারতীয় বিনিয়োগের ব্যাপারেও আগ্রহ প্রকাশ করেন মুখার্জী।
ভারতের বিদেশ-মন্ত্রী
আগ্রহের ব্যাপারে তেহরানের পক্ষ থেকে পুরো সম্মতি জ্ঞাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে
সংবাদ-মাধ্যম।
ভারতের
ক্রমবর্ধমান জ্বালানী চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ এক বান্ধব আখ্যা
দেয়া ছাড়াও মুখার্জী জানান ইরানের তেল-শিল্পে বড়ো ধরণের ইতিবাচক ভূমিকা রাখার মত
সামর্থ ও যোগ্যতা উভয়টিই ভারতের আছে।
এক্ষেত্রে ভারতের
বেসরকারী বিনিয়োগকারীদের ইরানে বিনিয়োগে আগ্রহের ব্যাপারটি তেহরানকে জ্ঞাত করেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক-বিষয়ে ইরানের ইকৌনমিক
এ্যাফেয়ার্স
মিনিস্টার শামসেদিন হুসেইনি বলেন, 'ভারতীয়
বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ইচ্ছাকে আমরা স্বাগত জানাই।'
রেইলওয়ে, আরবান রেইল যোগাযোগ, জাহাজ-শিল্প, বন্দর-নির্মাণ, সড়ক, ইস্পাত-শিল্প, পেট্রৌ-কেমিক্যাল শিল্পে
ভারতীয় বিনিয়োগের সুযোগ আছে বলে জানিয়েছেন ইরানী মন্ত্রী।
দ্বিপাক্ষিক
বাণিজ্য-সম্পর্কের ব্যাপক উন্নয়ন ছাড়াও ইরানের বহুল-আলোচিত পরমাণু প্রকল্পের
ব্যাপারও ইতিবাচক মত প্রদান করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রনব মুখার্জী শনিবার
জানান শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য পরমাণু প্রযুক্তি বিকশিত করার
পূর্ণ-অধিকার ইরানের আছে।
উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ
পুরো পাশ্চাত্য-বিশ্ব ইরানের পরমাণু-প্রকল্পের কড়া-বিরোধিতা করছে।
এমন এক পরিস্থিতিতে
অধুনা অন্যতম মিত্র ভারতের পক্ষ থেকে ইরানের পরমাণু প্রকল্পের পক্ষে বক্তব্য
প্রদানকে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন কীভাবে গ্রহণ করে, সেদিকে আগ্রহের সাথে তাকিয়ে আছেন
পর্যবেক্ষকরা।
লন্ডনঃ ২
নভেম্বর ২০০৮ |