|
ডায়াবেটিসের পিছনে এনএইচএসের
ব্যয় ঘন্টায় এক মিলিয়ন পাউন্ড
ডায়াবেটিস
ও ডায়বেটিস কারণে সৃষ্ট অন্যান্য জটিলতার পেছনে ব্রিটেইনের সরকারী স্বাস্থ্য-বিভাগ
ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) প্রতি ঘন্টায় খরচ হয় ১ মিলিয়ন পাউন্ড।
এ-খরচ এনএইচএসের সর্বমোট
বার্ষিক খরচের ১০ শতাংশ।
সদ্য-প্রকাশিত এক
প্রতিবেদনে জানা গেছে এ-তথ্য।
ডায়াবেটিস সংক্রান্ত
পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে
বুধবার
ডায়বেটিস ইউকে কর্তৃক প্রকাশিত 'সাইলেন্ট
এাসাসিন'
শীর্ষক প্রতিবেদনে জানা যায়, বর্তমানে ব্রিটেইনে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির
সংখ্যা ২ দশমিক সাত পাঁচ মিলিয়ন।
এদের মধ্যে ২ মিলিয়ন
আবার 'টাইপ টু' পরিস্থিতির শিকার, যা কি-না মুটিয়ে যাওয়া-সহ অন্যান্য লাইফ-স্টাইল
ফ্যাক্টরের সাথে যুক্ত।
এর বাইরে আড়াই লক্ষ
মানুষ আছেন, যারা 'টাইপ ওয়ান' ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।
উল্লেখ্য, 'টাইপ ওয়ান'
আক্রান্ত ব্যক্তিরা শিশুকালেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।
এক সময় ডায়াবেটিসকে
চল্লিশ-ঊর্ধ্ব মানুষের রোগ মনে করা হলেও, এখন ব্রিটেইনে কম বয়েসীদের মধ্যেও এ-রোগের
বিস্তার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, বর্তমান
হার অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সাল নাগাদ ব্রিটেইনে ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৪
মিলিয়নে দাঁড়াতে পারে।
অস্বাস্থ্যকর জীবন-যাপন প্রনালী ও শরীর-চর্চাহীনতাকে 'টাইপ টুতে' আক্রান্ত লোকের
সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন-মতে, বর্তমানে
ইংল্যান্ডে বিশ থেকে ঊনআশি বছর বয়সীমার যতো লোক মারা যান, তাদের মধ্যে প্রতি ১০ জনে
১ জন ডায়াবেটিস সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
২০১০ সাল নাগাদ এ-হার
প্রতি ৮ জনে ১ জন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সর্বশেষ
প্রতিবেদনে প্রাপ্ত হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ডায়াবেটিস ও ডায়াবেটিসের পরিণতিতে সৃষ্টি
হওয়া বিভিন্ন সমস্যা যেমন অন্ধত্ব, কিডনী নষ্ট হয়ে যাওয়া, হৃদরোগ বা অঙ্গহানির মতো
সমস্যাগুলো মিলিয়ে এনএইচএসকে বছরে ৯ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ করতে হয়।
প্রতিবেদন প্রকাশকারী
সংস্থা ডায়াবেটিস ইউকে'র পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপনের ব্যাপারে সচেতন হয়ে
ওঠার জন্য ব্রিটিশদের - বিশেষ করে ওজন বেশি হয়ে যাওয়া বা মুটিয়ে যাওয়া লোকজনের -
প্রতি বিশেষ আহবান জানানো হয়েছে।
আশঙ্কার ব্যাপার হচ্ছে,
ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার উন্নততর ব্যবস্থা সত্ত্বেও আক্রান্ত ব্যক্তির
সংখ্যা ব্রিটেইন জুড়ে পাল্লা দিয়েই বেড়ে চলেছে।
লন্ডনঃ ৮
অক্টোবর, ২০০৮
|