|
কেনো আমি শ্যাভেসের দিকে
সহায়তার হাত বাড়ালামঃ লিভিংস্টৌন
ভেনিজুয়েলার
প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেসের বিরুদ্ধে পশ্চিমের অন্যান্য দেশের মতো ব্রিটেইনের
মূল-ধারাতেও প্রচারণা অব্যাহত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমা কর্তৃত্বের
বিরোধিতার কারণে পশ্চিমের মূলধারাতে শ্যাভেস হয়ে উঠেছেন এক খলনায়ক।
তবে অব্যাহত এ-প্রচারণার
মধ্যেই দীর্ঘদিন থেকে শ্যাভেসের সাথে প্রকাশ্য সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছেন লন্ডনের
সাবেক মেয়র কেন লিভিংস্টৌন।
মেয়র থাকা-কালে লন্ডনের
সাথে ভেনিজুয়েলার নানাবিধ আদান-প্রদানক তৎপরতার কারণে তার সমালোচনায় নেমেছিলো
ব্রিটেইনে মূলধারা মিডিয়া ও তার দল লেবার পার্টির উঁচু পর্যায়ের লোকজন।
শ্যাভেসের সাথে সহযোগিতা
প্রসঙ্গে লিভিংস্টৌন শুক্রবার একটি প্রবন্ধ লিখেছেন গার্ডিয়ান পত্রিকাতে।
'কেন
আমি শ্যাভেসের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়েছি'
শীর্ষক লেখাটির বিবরণ
পড়ুন নিচেঃ
লিভিংস্টৌন মনে করেন এমন কিছু দেশ আছে যাদের বাস্তবতা মিডিয়ার একটি অংশের মাধ্যমে
বিকৃত হয়।
এবং কিছু দেশের ব্যাপারে সরাসরি
মিথ্যা কথা লেখা হয়।
রাজধানী কারাকাসে প্রথম
সফরের পর লিভিংস্টৌনের মনে হয়েছে ভেনিজুয়েলা স্পষ্টতঃ দ্বিতীয় প্রকরণের দেশগুলোর
মধ্যে পড়ে।
লিভিংস্টৌন লিখেছেনঃ
ভেনিজুয়েলাকে একনায়কত্বের দেশ হিসাবে আখ্যায়িত করাটাই হচ্ছে বিরক্তিকর একটি ব্যাপার।
যারা ভেনিজুয়েলাকে নিয়ে
এ-ধরণের বক্তব্য প্রচার করে চলেছেন, তাদের উদ্দেশ্য করে প্রাক্তন লন্ডন-মেয়র জানান,
ভেনিজুয়েলা হচ্ছে এমন এক
'একনায়কত্বের'
দেশ যেখানে প্রেসিডেন্ট
গণভৌটে পরাজয় মেনে নেন,
যেখানে সত্যিকার অর্থেই
পৃথিবীর যে-কোনো দেশের তুলনায় অধিক সংখ্যক জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়,
আর যে-দেশের রাজধানীর
দেয়াল আর ল্যাম্প-পৌস্টগুলো প্রেসিডেন্ট-বিরোধীদের ফেস্টুনে-ফেস্টুনে আবৃত থাকে।
এসব বাস্তবতা সাপেক্ষে
লিভিংস্টৌনের অভিমত, ভেনিজুয়েলা কোনো একনায়কের দেশ নয়।
একনায়কত্বের দেশের
উদাহরণ হিসাবে সৌদি আরবের মতো দেশের নাম উল্লেখ
করেন তিনি।
সৌদি নেতা লন্ডনে এলে
তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানের সাথে ভরপুর ভোজ খাওয়ানোর কথাও উল্লেখ করেছেন লিভিংস্টৌন।
ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের দীর্ঘকালের বাস্তবতার বর্ণনাতে লিভিংস্টৌন জানান,
শহরটি ওয়েস্ট সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টে যেসব পুরোনো এলিট আর উচ্চ-মধ্যবিত্তরা বসবাস
করেন, তাদের বাড়ীঘরের মান লন্ডনের বেশির আপ-মার্কেট সাবার্বের তুলনায় উন্নত।
'বড়লোকদের'
এলাকাটির চারপাশ ঘিরে
মৌলিক সুযোগ-সুবিধাহীন মিলিয়নকে-মিলিয়ন মানুষ কোনো রকমে গড়ে তোলা বস্তিগুলোতে বাস
করেন।
শ্যাভেসের আগে যারা ক্ষমতায়
ছিলেন, তারা কারাকাসের ম্যাপে গরীবদের এলাকাগুলোর কোনো নিশানা পর্যন্ত রাখতেন না।
শ্যাভেসের আগের শাসকের জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলোর নুন্যতম পূরণের দিকে এতোটুকু নজর
দিতে আগ্রহী ছিলেন না, অথচ শাসকদের হাত ধরেই প্রতি বছর তেল-সম্পদ থেকে প্রাপ্ত
শত-বিলিয়ন ডলার চলে যেতো ভেনিজুয়েলার বাইরে।
লিভিংস্টৌন জানাচ্ছেন, শ্যাভেজের আমলে এসে আগের সে-পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।
এখন যে-কেউ ভেনিজুয়েলাতে
গেলেই দেখতে পাবেন,
মিলিয়ন-মিলিয়ন মানুষ বর্তমানে
বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ভোগ করছেন এবং সাক্ষরতার হার উন্নীত হয়ে ইউনেস্কৌর
নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়াও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে অন্যান্য
পর্যায়ের শিক্ষা।
বর্তমানে ভেনিজুয়েলার শহরগুলোর
ভৌত অবকাঠামো সুবিধা আমূল পাল্টে দেয়ার কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার তালিকায় স্থান দেয়া
হয়েছে।
এছাড়াও চলছে দরিদ্র মানুষদের
বসবাসের এলাকাগুলোতে টিউব ও রেইল লাইন বসানোর কাজ।
লিভিংস্টৌন আরও
জানিয়েছেন, পরিবেশ সুরক্ষার দিকেও এখন মনযোগ দিচ্ছে ভেনিজুয়েলা।
শ্যাভেসের পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণ ব্যক্ত করে সাবেক লন্ডন মেয়র আরও বলেন,
ভেনিজুয়েলার সব-সময়ই সম্পদ ছিলো, আর
এখন তার সাথে যুক্ত
হয়েছে দেশটির রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
লন্ডনঃ ২৯
অগাস্ট, ২০০৮ |