|
জেইল-হত্যা মামলার রায়ের প্রতি
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে
১৯৭৫ সালে কারারুদ্ধ চার নেতাকে হত্যা করার মামলায়
আজ (বৃহস্পতিবার)
হাইকৌর্টের দেয়া রায়ের
ব্যাপারে লন্ডনে ইউকেবেঙ্গলির সাথে কথা বলেন বিশিষ্ট
সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল
গাফ্ফার চৌধুরী।
রায়ের ব্যাপারে
প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত-করে
তিনি বলেন, 'এ-রায় আমার কাছে আদৌ বিস্ময়কর
মনে হয়নি।'
তিনি বলেন,
'লক্ষ্য করার ব্যাপার
হলো,
বর্তমানে বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা একদিকে পনেরো অগাস্টকে শোক-দিবস ঘোষণা
করছেন,
অন্যদিকে জেইল-হত্যাকান্ডের
সাথে জড়িতদের মুক্ত করে দিচ্ছেন।'
পুরো প্রক্রিয়াটিকেই
সাজানো এক নাটক হিসাবে চিহ্নিত করেছেন আবদুল গাফফার চৌধুরী।
আদালতের
রায়ের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে চৌধুরী বলেন,
'একদিকে
সৈয়দ ফারুকের মতো লোককে জেইল-হত্যাকাণ্ডের দায় থেকে মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে,
অপর
দিকে পলাতক আসামীদের জন্য নিম্ন-আদালতের রায় বহাল রাখা হচ্ছে।
এসবের চেয়ে হাস্যকর আর
কী হতে পারে?' হাইকৌর্টের রায়টিকে সভ্য-জগতের রীতিনীতির পরিপন্থী হিসাবে আখ্যায়িত
করেছেন তিনি।
আবদুল
গাফ্ফার
চৌধুরী আরও বলেন, 'বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগকে সরকারী নিয়ন্ত্রণ-মুক্ত
করার যে-সব কথাবার্তা জনগণকে শোনানো হচ্ছে, তা এতোটুকু ঠিক নয়।
জেইল-হত্যার সাথে
জড়িতদের মুক্ত করে দেয়ার মাধ্যমে বরং এ-কথাই প্রমাণিত হয় যে,
বাংলাদেশের বিচার বিভাগ
বর্তমানে অতীতের তুলনায় অধিক পরিমাণে ক্ষমতাসীনদের কুক্ষীগত অবস্থায় আছে।'
জেইল-হত্যা মামলা সংক্রান্ত হাইকৌর্টের রায়টির বিরুদ্ধে সরকার-পক্ষ সুপ্রীম কৌর্টে
যাবে বলে যে-খবরটি দেয়া হয়েছে, সে-ব্যাপারেও
সন্দেহ প্রকাশ করেছেন চৌধুরী।
সুপ্রীম কৌর্টের মাধ্যমে
পনেরো
অগাস্ট ও জেইল-হত্যাকাণ্ডের আসামীদের মুক্ত করিয়ে নিয়ে আসা হতে পারে বলেও
আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
মনে করেন, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে নিয়ন্ত্রণকারী সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে
পাকিস্তানী গোয়েন্দা-সংস্থা আইএসআই-এর লোকেদের প্রভাবেই উচ্চ-আদালতের পক্ষ থেকে
বৃহস্পতিবারের রায়টির মতো একটি ঘৃণিত রায় আসাটা সম্ভবপর হয়েছে।
লন্ডনঃ ২৯
অগাস্ট, ২০০৮
|