London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

ব্রিটেইন হবে ইউরৌপের জনবহুলতমঃ লেবারকে সমালোচনা টোরীর

আর বছর পঞ্চাশেকের মধ্যে ইউরৌপের মধ্যে সর্বোচ্চ জনসংখ্যা-সমপন্ন দেশে পরিত হতে যাচ্ছে ব্রিটেইন ইউরৌপীয়ান ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বুধবার দেয়া তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, আগামী ২০৬০ সাল নাগাদ এ-দ্বীপ-রাজ্যটির জনসংখ্যা ৭৭ মিলিয়নে দাঁড়াবেএদিকে ব্রিটেইনের জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা সংক্রান্ত খবরটিকে ঘিরে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির উপরে সমালোচনা ধার বাড়িয়েছে প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি

ইইউ জানিয়েছে ৮২ মিলিয়ন জনসংখ্যা নিয়ে বর্তমানে জার্মানী হচ্ছে ইউরৌপের জনবহুলতম দেশকিন্তু ইইউর হিসাবে মতে, জন্ম-হারের বর্তমান নিম্মগতি অব্যাহত থাকলে আগামী অর্ধ-শতকের মধ্যে দেশটির জনসংখ্যা ৭১ মিলিয়নে এসে ঠেকবেউল্লেখ্য, বর্তমানে ইইউ-ভুক্ত ২৭টি দেশের সর্বমোট জনসংখ্যা বর্তমানে ৪৯৫ মিলিয়ন২০৩৫ সাল নাগাদ এ-সংখ্যা যথাক্রমে ৫২১ মিলিয়ন ঠেকবে বলে মনে করা হচ্ছেতবে ২০৬০ সালের দিকে এসে ইইউর জনসংখ্যা কমে ৫০৬ মিলিয়নে দাঁড়াবে

সর্বশেষ হিসাব-মতে, ২০১৫ সাল থেকে ইইউর ১৩টি দেশের জন্মহারের চেয়ে মৃত্যু-হার বেড়ে যাবেএতে-করে ইতালী এবং পৌল্যান্ডের মতো দেশের জনসংখ্যা কমতে শুরু করলেও, ব্রিটেইনের জনসংখ্যা বাড়তে থাকবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের দিক থেকে ব্রিটেইনের থেকে এগিয়ে থাকবে শুধুমাত্র সাইপ্রাস, আয়ারল্যান্ড ও লুক্সেমবার্গ ইইউ জানিয়েছে, ব্রিটেইন ইতিমধ্যে ইউরৌপের সর্বাধিক ঘনবসতি দেশে পরিণত হয়েছেআশঙ্কা করা হচ্ছে যে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যটির ফলে অভিবাসনের মোট সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের উপরে নুতন করে চাপ তৈরী করতে পারেউল্লেখ্য, এ-ব্যাপারে প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে সরকারের উপরে দীর্ঘদিন থেকেই ব্যাপক চাপ তৈরী করা হচ্ছে

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ বা স্থগিত করে দেয়ার পক্ষের দলগুলো, গত সপ্তাহে প্রকাশিত একটি হিসাবকেও আক্রমণের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছেব্রিটিশ জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অভিবাসীদের ভূমিকা সংক্রান্ত খবরটি বেরুতে না বেরুতেই লেবার পার্টিকে আক্রমণ করে বসেছে টৌরীরাশ্যাডৌ হৌম সেক্রেট্যারী ডৌমিনিক গ্রীভের মতে, ব্রিটিশ জনসংখ্যা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, অভিবাসনের নতুন প্রবনতা ও পরিবারের আয়তন নিয়ে কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে লেবার সরকার ব্যর্থ হয়েছেতার দাবী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবার থেকে সীমান্ত, আবাসন থেকে দক্ষতা, কর্ম-পরিকল্পনা থেকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ- এসব কিছুকে সমন্বিত করে কৌশল প্রনয়ণ করতে হবে

ব্রিটিশ পরিসংখ্যান অফিসের দেয়া হিসাবটিতে বলা হয়, ব্রিটেইনের জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৬১ মিলিয়নে পৌঁছার পেছনে অভিবাসন ও অ-ব্রিটিশ মায়েদের উচ্চহারে সন্তান জন্মদান প্রবণতার ভূমিকা আছেপরিসংখ্যান অফিসের হিসাব-মতে, ২০৩১ সাল নাগাদ ব্রিটেইনের জনসংখ্যা হবে ৭০ মিলিয়নকর্তৃপক্ষের দাবী অনুসারে, জনসংখ্যার এ-বৃদ্ধির ৭০ শতাংশের সাথে অভিবাসনের সরাসরি সম্পর্ক থাকবেএছাড়াও অন্য দেশে জন্ম নেয়া ব্রিটিশ নারীদের মধ্যে সন্তান জন্মদানের উচ্চহারের কারণটিকেও এক্ষেত্রে যুক্ত চিহ্নিত করা হয়েছে

পরিসংখ্যান অফিস জানিয়েছে বর্তমানে ব্রিটেইনে শিশুর চেয়ে পেনশনভোগী মানুষ-জনের সংখ্যা বেশি অনেকে একে "পাকা চুলের মানুষে ভরা" এক ব্রিটেইনের সম্ভাবনা হিসাবে দেখতে চাইছেনতবে বুধবার ইইউ জানিয়েছে, ইউরৌপের অন্যান্য দেশের তুলনায় ব্রিটেইনের পরিস্থিতি বেশ ভালোবিশেষ করে বিদ্যমান জন্ম-হার ও বিদেশ থেকে তরুণ-কর্মীদের আগমনের কারণে সামনের দিনগুলোতে পুরো ইইউর ভেতরে ব্রিটেইনেই থাকবে অন্যতম সর্বোচ্চ সংখ্যক তরুণ সম্প্রদায়ের মানুষ-জনহিসাব-মতে, ২০৬০ সালে ব্রিটিশ জনসংখ্যার ২৪ দশমিক সাত শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বা তদূর্ধ্বপৌল্যান্ডে এ-হার হবে ৩৬ দশমিক ২ শতাংশ উল্লেখিত সময়-কালে, পুরো ইইউতে ৩০ শতাংশ মানুষ উপরোক্ত বয়ঃসীমাতে অবস্থান করবেনবর্তমানে এ-হার ১৭ শতাংশব্রিটেইনে বর্তমানে মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক পাঁচ শতাংশের বয়স ৮০ বা তার উপরে২০৬০ সালের এ-হার ৯ শতাংশে পৌঁছুবে বলে হিসাব দেয়া হয়েছেউক্ত সময়ে ইউরৌপের ক্ষেত্রে এ-হার হবে ১২ শতাংশ

লন্ডনঃ ২৭ অগাস্ট, ২০০৮

 

আজকের প্রধান খবর8

জুলাই আর্কাইভ 8

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.