|
অলিম্পিক প্রসঙ্গে
পশ্চিমা মিডিয়ার কড়া সমালোচনায়
ফিদেল ক্যাস্ত্রৌ
পশ্চিমা
মিডিয়ার তথ্য-বিকৃতি প্রবণতার কড়া সমালোচনা করেছেন কিউবার সাবেক নেতা ফিদেল
ক্যাস্ত্রৌ।
হাভানা থেকে প্রচারিত গ্রানমা
পত্রিকার নিয়মিত কলামে প্রকাশিত মঙ্গলবারের লেখাতে সদ্য-সমাপ্ত বেইজিং অলিম্পিক
নিয়ে তার লেখালেখি কীভাবে পশ্চিমা মিডিয়াতে বিকৃত করা হয়েছে তার বিস্তৃত প্রমাণ
হাজির করেছেন ক্যাস্ত্রৌ।
তার লেখার ভিত্তিতে
প্রণীত ইউকেবেঙ্গলির খবরটি পড়ুন নিচে।
'কিউবা
প্রসঙ্গে যে কথাগুলো বলা হয়নি' শীর্ষক লেখার শুরুতে ক্যাস্ত্রৌ উল্লেখ করেন, গত
রোববার চীন অলিম্পিক সম্পর্কে গ্রানামার লেখাতে যেসব অভিমত প্রকাশ করেছিলেন,
সেগুলোর ব্যাপারে পশ্চিমা সংবাদ-মাধ্যমে কী ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, সেদিকে
তিনি সতর্ক নজর রেখেছেন।
ক্যাস্ত্রো জানিয়েছেন,
'সত্যিকার অর্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাহ্য করে বিশ্ব-লুটেরা ও শোষণকারীদের
বাদ্য-বাজিয়ে সমর্থক মিডিয়া যথেচ্ছভাবে অন্য বিষয়গুলো নিয়ে মাতামাতি করেছে।'
এ-প্রসঙ্গে,
গত কয়েকদিনে পশ্চিমা
পত্র-পত্রিকাতে কীভাবে তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে তার কিছু নজির পেশ করেছেন
ক্যাস্ত্রৌ।
একটি পত্রিকাতে বলা হয়,
'অলিম্পিকে কিউবার হতাশাকর ফলের জন্য গেইমসের বিচারক ও মাফিয়াদের দায়ী করেছেন ফিদেল
ক্যাস্ত্রৌ।
এছাড়া রেফারীকে মাথায় আঘাত করার
দায়ে গেইমস থেকে স্থায়ীভাবে বহিষকার হওয়া কিউবান তায়ে কৌন দো খেলোয়াড় এনজেল
ভোলোদিয়া মাতোসে কার্যকলাপকে সমর্থন দান করা ছাড়াও তার সাথে পূর্ণ একাত্মতা ঘোষণা
করেছেন ক্যাস্ত্রৌ।'
একই রকমের বক্তব্য
সম্বলিত আরও চারটি খবর তথ্য-বিকৃতির নজির হিসাবে হাজির করেছেন ক্যাস্ত্রৌ।
উল্লেখিত
কয়েকটি ছাড়া,
একই রকমের অসংখ্য খবর পাওয়া
যাচ্ছে উল্লেখ করে কিউবার সাবেক নেতা জানান, তিনি পশ্চিমা সংবাদ-মাধ্যমের কাছ থেকে
অন্য কিছু আশা করেননি।
ক্যাস্ত্রৌ লিখেছেন,
'সেখানে [বেইজিং]
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা আশি ভাগ দেশে ক্ষুধা,
অপুষ্টি,
ওষুধ-পত্র,
ক্রীড়া-সামগ্রীর ও
সুযোগ-সুবিধার অভাব নিয়ে যে একটি শব্দও লেখা হবে না, তা আমি জানতাম।'
রোববার লেখার বিষয়বস্তু
উল্লেখ করে ক্যাস্ত্রৌ সোমবারের লেখাটিতে জানান, 'আমি অলিম্পিক আয়োজনকারী দেশটির
মেধার মানের প্রশংসা করেছি।
অনন্যসাধারণ
ক্রীড়াবিদদের নৈপুন্যের প্রশংসা করতে আমি কার্পণ্য করিনি।
পদক জয়ীদের মাধ্যমে
যেভাবে বহু-মিলিয়ন মানুষের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস,
অনুরাগ ও মানবিক
অনুভূতির বিস্তার হয়েছে, আমি তাকে বাহবা দিয়েছি।'
ধ্বংস-যজ্ঞ ও গণহত্যা-সহ
নানাবিধ তাণ্ডবের মুখে অলিম্পিকের মাধ্যমে শান্তির যে-বার্তা প্রচারিত হয়, সে-সবের
প্রশংসা করার কথাও উল্লেখ করেন ক্যাস্ত্রৌ।
কিউবার
সাবেক নেতা আক্ষেপ করে জানান, পশ্চিমা সংবাদ-মাধ্যমগুলো তার বক্তব্যকে নিজেদের
ইচ্ছামতো সাজিয়ে গুছিয়ে নিলেও,
কিউবাকে নিয়ে
ইতিবাচকভাবে বলার মতো একটি কথাও বলতে সক্ষম হয়নি।
ক্যাস্ত্রৌ কিউবার
ক্রীড়া-সুবিধাদির বিস্তৃত বিবরণ পেশ করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন
যে, এবারেই শেষ নয়,
২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের
সময়ও পশ্চিমা সংবাদগুলো সমাজতান্ত্রিক কিউবার বিরুদ্ধাচারণ অব্যাহত রাখবে।
লন্ডনঃ ২৭
অগাস্ট, ২০০৮ |