|
মানবাধিকার
লঙ্ঘিতঃ যুক্তরাষ্ট্রে অনুমতিহীন বাসকারীদের
গ্রেফতার
বসবাসের
অনুমতি নেই কিন্তু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ-কর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করছে এমন
লোকজনের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধর-পাকড় অভিযান শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
খবরে প্রকাশ,
সোমবার মিসিসিপি
অঙ্গরাজ্যের লরেল এলাকার একটি কারখানাতে অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে সাড়ে তিনশো মানুষকে
গ্রেফতার করার খবর দেয়া হয়েছে।
এদিকে,
একটি মানবাধিকার গ্রুপ
অভিযানের সমালোচনা করেছে বলেছে ভাবতেও অবাক লাগে যে,
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে
এমন ঘটনা ঘটে চলেছে।
খবরে
প্রকাশ,
সোমবার রাতে ইমিগ্রেশন
এান্ড
কাস্টমস এনফৌর্সমেন্ট (আইসিই) বিভাগের বিপুল সংখ্যক অফিসার পূর্ব-সতর্কতা ছাড়াই
লরেল এর হাওয়ার্ড ইন্ডাস্ট্রিসে প্রবেশ করে।
ইলেকট্রিক্যাল
ট্রান্সফরমার-সহ নানান ধরণের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটিতে শতো-শতো
বিদেশী লোক কাজকর্ম করেন।
অভিযান পরিচালনাকারী
টীমের মুখপাত্র বারবারা গঞ্জালেস সংবাদ-মাধ্যমকে জানান গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোন
ধরণের ক্রিমিনাল চার্জ আনা হয়নি।
তবে তিনি বলেন
'গ্রেফতারিতদের পরিচয় চিহ্নিত করা হয়েছে,
ফিঙ্গার-প্রিন্ট নেয়া
হয়েছে,
ফটৌ তুলে রাখা হয়েছে,
এবং তাদেরকে জেরা করা
হয়েছে।'
এদেরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে
বের-করে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মুখপাত্রটি।
জানা
গেছে,
আইসিই'র অভিযান চলাকালে
হাওয়ার্ড ইন্ডাস্ট্রিস-সহ আশেপাশের পুরো এলাকাজুড়ে ভয়ের আবহ ছড়িয়ে পড়ে।
গ্রেফতার হওয়া লোকজনের
পরিবারের সদস্যরা হৃজনের খোঁজে পাশের একটি চার্চের সামনে এসে জমা হন।
এক পর্যায়ে
গ্রেফতারকৃতদের পরিবারের নারী ও শিশুদের সাথে আইসিই অফিসাররা কথা বলতে চাইলে একজন
পাদ্রী বাধা দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ-পাদ্রী
বলতে থাকেন,
'মানুষ
ভয় পাচ্ছে।
আমাদের দরকার তাদেরকে শান্ত করা।
এখানে মা ও শিশুরা আছে।'
উল্লেখ্য,
মে মাসে আইওয়া
অঙ্গরাজ্যের পৌস্টভিলের একটি মীট-প্যাকিং প্ল্যান্টের পরে সোমবারের মতো এতো বড়ো
অভিযান আর চালানো হয়নি।
সে-অভিযানে চারশোর মতো
অবৈধ বিদেশীকে গ্রেফতার করেছিলো মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
খবরে প্রকাশ,
এবারের অভিযানটির
ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার হচ্ছে।
কেনো-না আগের কয়েকটি
অভিযানে গ্রেফতারিতদের সাথে যে-ধরণের আচরণ করা হয়েছিলো, তার জন্য ব্যাপক সমালোচনা
সম্মুখীন হয়েছিলো কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য,
আগের কয়েকটি অভিযানে
গ্রেফতারিতদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়ার আগে ভূয়া কাগজ-পত্র ব্যবহারে অভিযোগে কয়েক
মাস জেলা খাটিয়ে নেয়া হয়েছিলো।
পৌস্টভিল অভিযানে
আটককৃতদের সাথে যে-ধরণের ব্যবহার করা হয়েছিলো তা নিয়েও সমালোচনার মধ্যে পড়েছিলো
কর্তৃপক্ষ।
আটককৃতদের বিচারের জন্য চালু
করা অস্থায়ী আদালতের একজন দোভাষী জানান কী-ধরণের অভিযোগ আনা হচ্ছে-না-হচ্ছে, তা
অভিযুক্তরা অনেক সময় বুঝতেও পারেননি।
সোমবারের
অভিযানটির ব্যাপারে মিসিসিপির রাজধানী জ্যাকসন-ভিত্তিক একটি ইমিগ্র্যান্ট রাইটস
গ্রুপের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে।
মিসিসিপি ইমিগ্র্যান্টস
রাইটস
এালায়েন্স
(আইআরএ) মুখপাত্র শুইয়া ওহনৌ সংবাদ-মাধ্যমকে বলেন, 'এটা অত্যন্ত ভয়াবহ ব্যাপার যে,
আইসিই [অভিবাসী] পরিবার
ও কমিউনিটিগুলোর সাথে এমনটি করছে।
এটা ভাবতে কষ্ট হয় যে,
ইউনাইটেড স্টেইস্ট অফ আমেরিকাতে এ-রকম ব্যাপার ঘটছে।'
গ্রেফতারিতদের জেরা
করার সময় কোন আইনজীবী উপস্থিত না থাকারও সমালোচনা করেছে সংগঠনটি।
আইআরএর
পক্ষ থেকে লরেলের এর অভিযানের ঘটনাকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
সংগঠনের নির্বাহী
পরিচালক বিল চ্যান্ডলার উল্লেখ করেন,
'কঠোর
পরিশ্রম ও পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা-পোষণ করে যে-সব কথাবার্তা বলা হয়,
সোমবারের অভিযানটি
সমপূর্নভাবে তার পরিপন্থী।'
প্রশাসনের সমালোচনা করে
তিনি বলেন,
'শ্রমিকদের
পিছনে লাগার মধ্য দিয়ে তারা নিজেরাই নিজেদের মতো করে সন্ত্রাসবাদের জন্ম দিচ্ছে।'
লন্ডনঃ ২৬
অগাস্ট, ২০০৮ |