|
পরমাণু-স্থাপনা নিদ্ধিক্রয়করণ কর্মসূচি স্থগিত করেছে উত্তর কোরিয়া
পরমাণু-স্থাপনা
নিদ্ধিক্রয়করণ কর্মসূচি বন্ধের ঘোষণা করেছে উত্তর কোরিয়া। মঙ্গলবার পিয়ংইয়ং
জানিয়েছে পূর্ব-অঙ্গীকার মোতাবেক মার্কিন প্রশাসনের 'সন্ত্রাসবাদী'
রাষ্ট্রের তালিকা থেকে
উত্তর কোরিয়ার নাম বাদ না পড়ার কারণেই এ-ধরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
দেশটি আরও জানিয়েছে,
পরমাণু কর্মসূচি নতুন
করে শুরু করার ব্যাপারেও সক্রিয়ভাবে চিন্তা-ভাবনা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
উত্তর
কোরিয়া জানিয়েছে, পরমাণু কর্মসূচি স্থগিতকরণের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ছয়-জাতির মধ্যে
যে-বুঝাপড়া হয়েছিলো, তার সরাসরি লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য,
যুক্তরাষ্ট্র,
রাশিয়া,
চীন,
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার
সাথে সুদীর্ঘ সংলাপের ভিত্তিতে পরমাণু কর্মসূচিতে যতি টানার ব্যাপারে রাজী হয়েছিলো
উত্তর কোরিয়া।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
যুক্তরাষ্ট্রের কার্যকলাপের পাল্টা-জবাব স্বরূপ গত ১৪ আগস্ট থেকে প্লুটৌনিয়াম
উৎপাদনের জন্য বহুল-আলোচিত ইয়ংবিয়ং
কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ার য-কর্মকাণ্ড চলছিলো, তা স্থগিত করে দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য,
ছয়-জাতি সংলাপের অংশ
হিসাবে কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেয়ার ব্যাপারে রাজী হয়েছিলো উত্তর কোরিয়া।
পররাষ্ট্র-মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র আরো জানান
ইয়ংবিয়ং কেন্দ্রটিকে
আগের অবস্থাতে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও সক্রিয়ভাবে চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।
এদিকে
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, 'সন্ত্রাসবাদী'
রাষ্ট্রের তালিকা থেকে
বাদ পড়তে হলে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার ব্যাপারে উত্তর কোরিয়া জুন মাসে যে-ঘোষণা
দিয়েছে, সেগুলোর সপক্ষে যথেষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ দিতে হবে।
উল্লেখ্য,
যতোক্ষণ পর্যন্ত
'সন্ত্রাসবাদী'
রাষ্ট্রের তালিকা থেকে নাম
না-কাটা হবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার উপরে মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ বলবৎ
থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবীকে উড়িয়ে
দিয়ে উত্তর কোরিয়া বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে [পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের প্রমাণ
বের করার লক্ষ্যে] উত্তর কোরিয়ার ঘরে-ঘরে তল্লাশী চালানো যাবে, তাহলে তা হবে বড়ো এক
ভুল।
উল্লেখ্য,
উত্তর কোরিয়া ঘোষণা
মোতাবেক কাজকর্ম করছে কি-না,
তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে
আচমকা প্রতিনিধি দল প্রেরণ বা উল্লেখ করা হয়নি এমনি কিছু স্থাপনাতে তল্লাশী চালানোর
পক্ষপাতী।
যুক্তরাষ্ট্রের এহেন
প্রত্যাশাকে 'রাহাজানিমূলক'
ও সার্বভৌমত্বের ধারণার
প্রতি হুমকি হিসাবে চিহ্নিত করেছে উত্তর কোরিয়া।
উত্তর
কোরিয়ার পক্ষ থেকে দেয়া ঘোষণাটিতে ছয়-জাতি সংলাপ কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও
প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
পিয়ংইয়ং এর মতে,
এটা এখন 'বড়ো দেশ কর্তৃক
ছোট দেশকে হেলাফেলা করার এক ফৌরামে পরিণত হয়েছে।'
উত্তর কোরিয়া আরও
জানিয়েছে, পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে নজরদারীর ব্যাপারটি এক-তরফা হলে হবে না,
বরং প্রতিবেশী দক্ষিণ
কোরিয়াকে মার্কিন পরমাণু অস্ত্রের হাত থেকে মুক্ত করে রাখা হয়েছে কি-না তাও খুঁজে
বের করতে হবে।
জানা গেছে,
পুরো বিষয়টি নিয়ে কোনো
ধরণের ফয়সালা আসা যায় কি-না, সে-ব্যাপারে গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে বৈঠকে বসেছিলেন
উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।
বৈঠক থেকে কোনো সমঝোতা
বেরিয়ে না আসার পরিণতিতেই মঙ্গলবারের ঘোষণাটি এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা নিশ্চিত যে, মঙ্গলবারের ঘোষণাটির মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু
কর্মসূচি সংক্রান্ত দীর্ঘকালীন জটিলতাটি আরও এক দফা বিস্তার লাভ করবে।
অনেকে মনে করছেন, উত্তর
কোরিয়া সর্বশেষ যে-ঘোষণাটি দিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনের সাথে
সম্পর্কিত।
সম্ভবতঃ কিম জং ইলের প্রশাসন
বুঝাতে চাইছে যে,
বিদায়ী বুশ প্রশাসনের সাথে নয়,
বরং আগামী নভেম্বরে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পরে নতুন যে-প্রশাসন আসছে তার সাথে কাজ করার
ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেছে উত্তর কোরিয়া প্রশাসন।
স্মরণ
করা যেতে পারে,
২০০৬ সালের অক্টোবরে প্রথমবারের
মতো পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালায় উত্তর কোরিয়া।
এরপরে অবশ্য এ-বিষয়ক
আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে দেশটি।
অনেক টানা-পোড়েনের পরে মূলতঃ চীনের মধ্যস্থতায় গত নভেম্বরে
ইয়ংবিয়ং পুরো
পরমাণু প্রকল্প বন্ধের ঘোষণা দেয় উত্তর কোরিয়া।
প্রকল্প বন্ধের ক্ষেত্রে
আশিভাগ অগ্রগতির খবরও দেয়া হয়েছে দেশটির পক্ষ থেকে।
লন্ডনঃ ২৬
অগাস্ট, ২০০৮ |