|
দক্ষিণ ওসেতিয়া ও আবখাজিয়াকে স্বাধীন
জাতির স্বীকৃতি রাশিয়ার
১৯৯২
সাল থেকে বাস্তব অর্থে জর্জিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় স্বাধীনতা ভোগ করতে থাকা
দক্ষিণ ওসেতিয়া ও আবখাজিয়ার অনুরোধে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া
পার্লামেন্ট।
এছাড়াও প্রয়োজন-বোধে ন্যাটৌর
সাথে সম্পর্কচ্ছেদ ও ডব্লিউটিও'র কয়েকটি ধারা থেকে সরে যাবার ঘোষণাও দেয়া হয়েছে
দেশটির পক্ষ থেকে।
এদিকে,
রুশদেশের পক্ষ থেকে আসা
সোমবারের ঘোষণাগুলোর ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে পাশ্চাত্য
বিশ্বের পক্ষ থেকে।
খবরে প্রকাশ,
সোমবার রুশ
পার্লামেন্টের সদস্যরা দক্ষিণ ওসেতিয়া ও আবখাজিয়াকে স্বীকৃতিদানের পক্ষে সর্বসম্মত
সিদ্ধান্তে উপনীত হন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তায় পৃথক-পৃথকভাবে আবখাজিয়া ও ওসেতিয়া পার্লামেন্ট ও
রাষ্ট্রপ্রধানেরা তাদের অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসবে স্বীকৃতি দেবার জন্য বিশ্বের
কাছে অনুরোধ জানান। তারা এ-ব্যাপারে প্রথম স্বীকৃতি দেবার জন্য রাশিয়ার কাছে
আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করে। প্রদেশ দু'টির রাজধানীতে কয়েক অযুত লোক সমাবেশ করে
স্বীকৃতির জন্য রাশিয়ার প্রতি তাদের সরকারের অবস্থানকে সমর্থন জানান। সোমবারে
রাশিয়ার পার্লামেন্টে উপস্থিত হয়ে দক্ষিণ ওসেতিয়ার ও আবখাজিয়ার প্রেসিডেন্টদ্বয়
তাদের স্বাধীনতার পক্ষে বক্তব্যা রাখেন।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের
উচ্চকক্ষ ফেডারেশন কাউন্সিলে
১৩০-০ ভৌটে এবং নিম্মকক্ষ দুমাতে ৪৪৭-০ ভৌটের দুই অঞ্চলের স্বীকৃতির প্রস্তাবটি
প্রেসিডেন্টের বরাবরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
নিয়মানুসারে
পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তটি প্রস্তাবনা আকারে গ্রহণের ব্যাপারে সম্মতিলাভের জন্য
প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদভের বরাবরে পাঠানো হবে।
তবে এ-সম্মতিলাভের
ব্যাপারে কোনো ধরণের সমস্যা হবার কথা নয়,
বরং পার্লামেন্ট
সদস্যদের সিদ্ধান্তের সাথে ক্রেমলিনের ইচ্ছার যোগ আছে বলেই ধরে নেয়া যাচ্ছে।
সোমবার মলদোভার
প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির ভরোনিনের সাথে বৈঠককালে,
এ-ব্যাপারে ইঙ্গিত-দান
করে মেদভেদভ বলেন, 'ঝিমিয়ে থাকা দ্বন্দ্বগুলো কতোটা ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে, তার
প্রমাণ দক্ষিণ ওসেতিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলী।'
দক্ষিণ ওসেতিয়ার উপরে
নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাশ্চাত্যের আশীবার্দপুষ্ট জর্জিয়ার নেতৃত্ব
লাগামহীনভাবে মরীয়া হয়ে উঠেছিলো বলে মন্তব্য করেন মেদভেদভ।
উল্লেখ্য,
এ-অঞ্চল দুটি
আন্তর্জাতিকভাবে এখনও জর্জিয়ার অংশ হিসাবেই বিবেচিত।
কয়েক সপ্তাহ আগে
পূর্ব-নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দক্ষিণ ওশেতিয়ার সেনা-অভিযান শুরু করে জর্জিয়া।
তখন দক্ষিণ ওশেতিয়ার
সমর্থনে মাঠে নামে রুশ বাহিনী।
দু'পক্ষের মধ্যে সংঘাতে
প্রাণ হারান বেশ কিছু বেসামরিক নাগরিক।
সংঘাত চলাকালে রুশ
বাহিনী জর্জিয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অভিযান পরিচালনা করে।
এ-সময় যুক্তরাষ্ট্রের
নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য বিশ্ব জর্জিয়ার পক্ষে একাট্টা অবস্থান গ্রহণ করে।
রুশ পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তকে
স্বাগত জানিয়ে দক্ষিণ ওতেশিয়ার প্রেসিডেন্ট এদুয়ার্দ কোকোইতি জানান, দক্ষিণ
ওসেতিয়াকে গণহত্যার শিকার হবার হাত থেকে বাঁচিয়েছে রাশিয়া।
কথা প্রসঙ্গে তিনি
জানান, ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সার্বিয়া থেকে বেরিয়ে যাবার জন্য কসোভো যেসব
যুক্তি তৈরী করেছিলো, দক্ষিণ ওশেতিয়ার ক্ষেত্রে তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে
রাজনৈতিক ও আইনী বৈধতা মজুত আছে।
এদিকে, আবখাজিয়ার
প্রেসিডেন্ট সের্গেই ব্যাগাপ্শ্ বলেন, 'আবখাজিয়া বা দক্ষিণ ওশেতিয়া আর কখনও
জর্জিয়ার অংশে পরিণত হবে না।'
বিপরীতে, রুশ পার্লামেন্টের
সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে জর্জিয়া।
দেশটির প্রেসিডেন্ট
মিখেইল সাকাশভিলি এ-প্রসঙ্গে বলেন, 'বল প্রয়োগের মধ্য দিয়ে ইউরৌপের সীমান্তগুলো
পাল্টে দেয়ার চেষ্টা করছে রাশিয়া।'
দক্ষিণ ওসেতিয়া ও আবখাজিয়াকে
স্বীকৃতিদান সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটির মধ্য দিয়ে রাশিয়ার সাথে পাশ্চাত্য বিশ্বের
সম্পর্কটি আরও এক-দফা নিম্মগামী হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জার্মানীর চ্যান্সেলর
এাঞ্জেলা
মের্কেল রুশীদের সিদ্ধান্তকে 'উদ্বেগজনক' হিসাবে আখ্যায়িত করেন।
ব্রিটেইনের
বিদেশ-মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, এ-ধরণের সিদ্ধান্তের ফলে সমস্যার নিরসন
হবে না, বরং [বলকান] অঞ্চলটিতে উত্তেজনার বিস্তার ঘটবে।
এদিকে, জর্জিয়া সঙ্কট
নিয়ে আলাপ-আলোচনার জন্য একটি বিশেষ ইউরৌপীয় সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন ফরাসী
প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকৌজী।
সাম্প্রতিক সংঘাত
চলাকালে রাশিয়া ও জর্জিয়ার মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছিলো ফ্রান্স।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেইট
ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র রবার্ট উড রাশিয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া
ব্যক্ত-কালে জানান, জর্জিয়ার সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করা কোনো
উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।
জর্জিয়ার প্রতি সমর্থনের
স্মারক-স্বরূপ ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনী আগামী সপ্তাহে তিবিলিসি যাবেন বলেও জানানো
হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
উল্লেখ্য,
'মানবিক
সাহায্য'র উদ্দেশ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বেশ কিছু সদস্য বর্তমানে জর্জিয়াতে
অবস্থান করছেন।
জর্জিয়াকে সহযোগিতা উদ্দেশ্যে
যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটৌর নানাবিধ তৎপরতার ব্যাপারে রাশিয়া শুরু থেকেই কড়া বিরোধিতা
কর আসছে।
এ-প্রসঙ্গে নতুন করে সতর্কতা
ব্যক্ত করে সোমবার রুশ প্রেসিডেন্ট মেদভেদভ জানান, রাশিয়ার সাথে অসহযোগিতামূলক
অবস্থান গ্রহণ অব্যাহত রাখলে প্রয়োজনে ন্যাটৌর সাথে সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে দিতে
প্রস্তুত আছে রাশিয়া।
জর্জিয়ার সাথে সংঘাতকে
ঘিরে রুশ-ন্যাটৌ সম্পর্কের অবনতি বলে উল্লেখ করে মেদভেদভ জানান, এ-অবস্থার জন্য
রাশিয়াকে দায়ী করা চলে না।
প্রেসিডেন্ট উল্লেখ
করেন, আলোচ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কারণে রাশিয়ার চেয়ে ন্যাটৌর স্বার্থই বেশি
সংরক্ষিত হচ্ছে।
ন্যাটৌর সাথে সম্পর্কচ্ছেদ হলে
রাশিয়ার তেমন কিছুই আসবে-যাবে-না বলে উল্লেখ করেন মেদভেদভ।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে গঠিত
ন্যাটৌ-রাশিয়া কাউন্সিলের মাধ্যমে ন্যাটৌ-জোটের সাথে পরাশক্তি রাশিয়ার সম্পর্ক
রক্ষিত হয়।
ন্যাটৌর সাথে সম্পর্কচ্ছেদের
হুমকি ছাড়াও সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন
জানিয়েছেন, ডব্লিউটিও'র কয়েকটি ধারা থেকে বেরিয়ে যাবার ব্যাপারে সক্রিয়ভাবে
চিন্তা-ভাবনা করছে রাশিয়া।
লন্ডনঃ ২৫
আগস্ট, ২০০৮ |