|
শিক্ষাবিদেরা
বিশ্ব-সমস্যা নিরসনে অবদান রাখতে পারেনঃ
মিগিরৌ
বৈশ্বিক
সমস্যাদির সমাধানের ক্ষেত্রে শিক্ষাবিদ ও শিক্ষায়তনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে
পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের ডেপুটী সেক্রেট্যারী জেনারেল আশা-রৌজ মিগিরৌ।
সোমবার তাঞ্জানিয়ার
দার-উস-সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দেয়া এক ভাষণে তিনি উপরোক্ত মন্তব্যটি করেন।
তাঞ্জিনিয়ার প্রাক্তন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও জাতিসংঘের বর্তমান উপ-মহাসচিব মিগিরৌ
জানান, জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে এমন অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেই
শিক্ষাবিদেরা সরকারকে পরামর্শ-দান করতে পারেন।
তিনি মনে করেন, শান্তি,
উন্নয়ন ও মানবাধিকারের মতো ইস্যুগুলো বিপজ্জনক রকমের নেতিবাচক অবস্থায় পৌঁছে যাবার
কারণে
বর্তমান বিশ্ব-বাস্তবতাতে
রাজনৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষাবিদ ও সিভিল সমাজের প্রতিনিধিদের আর্ন্তজাতিক সম্মিলন ঘটার
ব্যাপারটি অত্যন্ত জরুরী।
উপরোক্ত ঝুঁকিগুলো ছাড়াও
খাদ্য ও জ্বালানী-সঙ্কট, জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন সঙ্কটের মতো চ্যালেইঞ্জগুলোর
কথাও উল্লেখ করেন জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব।
শিক্ষাবিদের ভূমিকা সম্পর্ক নিজ-ধারণা ব্যক্ত করে মিগিরৌ বলেন, 'কেবল জ্ঞানের জন্য
জ্ঞানের চর্চা করা
হলে লোকের পেট ভরানো যাবে না।'
অবিলম্বে খাদ্য ও
জ্বালানী-সঙ্কট, জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন সঙ্কটের মোকাবেলা করা না হলে সারা
বিশ্বের বহু-মিলিয়ন মানুষ গভীরতর দারিদ্র পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যাবে বলে জানান
মিগিরৌ।
তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে
আটশ মিলিয়ন মানুষ ক্ষুধার সাথে যুদ্ধ করে চলেছে।
এহেন পরিস্থিতি অব্যাহত
থাকলে সামাজিক অস্থিরতা, অভিবাসন-প্রবাহ ও মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক নিশ্চল
হয়ে যাবার আশঙ্কা প্রকাশ করেন মিগিরৌ।
এহেন
বৈশ্বিক সমস্যাবলী মোকাবেলার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছার বিষয়টিকে
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি, শিক্ষাবিদদের ভূমিকার উপরেও
জোর দেন জাতিসংঘ উপ-মহাসচিব।
তিনি মনে করেন,
উন্নয়ন-সংক্রান্ত তত্ত্বাবলী ও প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানের সঞ্চালন ঘটানোর মতো কাজের
বাইরেও সাধারণ মানুষের জন্য কাজে লাগে এমন জ্ঞান-সম্পন্ন বহু কাজ করতে পারেন
শিক্ষাবিদরা।
লন্ডনঃ ২৫ আগস্ট, ২০০৮ |