|
বর্তমানের সংখ্যালঘুরাই
ভবিষ্যতে সংখ্যাগুরু হবে মার্কিন-মুল্লুকে
চলতি
শতাব্দীর প্রথম-অর্ধ অতিক্রান্ত হবার বেশ আগেই জাতিগত ও বর্ণগত সংখ্যালঘুরা
যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীতে পরিণত হবে।
মার্কিন পরিসংখ্যান
ব্যূরৌ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে চলতি ধারা অব্যাহত থাকলে বর্তমানের সংখ্যাগুরু
জনগোষ্ঠী আগামী ২০৪২ সালের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে পরিণত হবে।
পরিসংখ্যান ব্যূরৌ জানিয়েছে,
কয়েক বছর আগে যে-রকম
ভাবা হয়েছিলো, বস্তুতঃ তার চেয়ে দ্রুতগতিতে মার্কিন জনসংখ্যার
সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘুর চিত্রটি পাল্টে যাচ্ছে।
জানা যাচ্ছে,
আগামী ২০৪২ সাল নাগাদ
বর্তমানে সংখ্যালঘু হিসাবে পরিচিত হিস্পানিক,
কৃষ্ণাঙ্গ,
এাসিয়ান,
আমেরিকান ইন্ডিয়ান,
নেটিভ হাওয়াইয়ান ও
প্যাসিফিক আইল্যান্ডাররা মিলিতভাবে বর্তমানের সংখ্যাগুরু অ-হিস্পানিক
শ্বেতাঙ্গদেরকে মোট সংখ্যার দিক থেকে পিছনে ফেলে দিবে।
চার বছর আগে মার্কিন
পরিসংখ্যান ব্যূরৌ জানিয়েছিলো ২০৫০ সাল নাগাদ এ-ধরণের পরিবর্তন সংঘটিত হবে।
২০২৩ সালের মধ্যেই ১৮
বছরের কম বয়েসী জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যক মানুষ বর্তমানের সংখ্যালঘু
সম্প্রদায়ভুক্ত হবে।
আর ২০৩৯ সাল নাগাদ
সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যক কর্মজীবী মানুষ আসবেন বর্তমানের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলো থেকে।
তথ্যমতে,
২০৩০ সাল থেকে
যুক্তরাষ্ট্রের অ-হিস্পানিক শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা পড়তির দিকে যেতে শুরু করবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের
মোট জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ এ-জনগোষ্ঠীভুক্ত।
২০৫০ সাল নাগাদ
অ-হিস্পানিকরা মোট জনসংখ্যার ৪৬ শতাংশ জুড়ে থাকবে।
হিস্পানিক ও
অহিস্পানিকদের মিলিয়ে দেখলে ২০৪২ সাল নাগাদ শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর অবস্থা অবশ্য
মোটাদাগে অপরিবর্তিত থাকবে যুক্তরাষ্ট্রে।
উভয় অংশকে মিলিয়ে ধরলে,
তখন যুক্তরাষ্ট্রে ৭৬ শতাংশ মানুষ হবেন শ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায়ভুক্ত।
বর্তমানে শ্বেতাঙ্গরা
মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন,
অভিবাসী সম্প্রদায়ের
মধ্যে উচ্চ জন্ম-হারের কারণেই প্রধানতঃ যুক্তরাষ্ট্রের জনমিতিক বিন্যাস দ্রুতগতিতে
পরিবর্তিত হচ্ছে।
এছাড়াও অভিবাসনকারী আগমনের
বছর-ওয়ারি হার-বৃদ্ধিকেও এক্ষেত্রে অন্যতম একটি কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে বছরে গড়ে ১
দশমিক তিন মিলিয়ন মানুষ অভিবাসী হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে আবাস স্থাপন করেন।
২০৫০ সাল নাগাদ এ-সংখ্যা
বছরে ২ মিলিয়নে পৌঁছাবে বলে মনে করছে পরিসংখ্যান ব্যূরৌ।
যুক্তরাষ্ট্রের
জনসংখ্যার চালচিত্রের পরিবর্তন প্রসঙ্গে ওয়াশিংটন-ভিত্তিক পপুলেশন রেফারেন্স
ব্যূরৌর পরিসংখ্যানবিদ মার্ক ম্যাদার নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকাকে বলেন, 'পৃথিবীতে আর
কোনো দেশে যুক্তরাষ্ট্রের মতো এতো দ্রুতগতিতে বর্ণগত ও জাতিগত পরিবর্তন সংগঠিত
হচ্ছে না।'
যুক্তরাষ্ট্রে জনসংখ্যা ভবিষ্যতে কেমন হবে-না-হবে, সে-ব্যাপারেও তথ্য দিয়েছে
পরিসংখ্যান ব্যূরৌ।
এক দশক আগে
পরিসংখ্যানবিদরা জানিয়েছিলেন, ২০৫০ সাল পর্যন্ত দেশের জনসংখ্যা ৪ শত মিলিয়নে
পৌঁছাবে না।
কিন্তু ব্যূরৌ বৃহস্পতিবার
জানিয়েছে, ২০৩৯ সালেই যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা ৪ শত মিলিয়ন হয়ে যাবে।
আর ২০৫০ সাল নাগাদ
জনসংখ্যা হবে ৪ শত ৩৯ মিলিয়ন।
সে-সময় যুক্তরাষ্ট্রে
হিস্পানিকদের সংখ্যা হবে ১ শত ৩৩ মিলিয়ন,
যা বর্তমানের প্রায়
তিনগুণ (৪৭ মিলিয়ন)।
এছাড়াও এশিয়ান জনগোষ্ঠীর
সংখ্যা বর্তমানের ১৬ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৪১ মিলিয়নে দাঁড়াবে।
কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর
সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৬ মিলিয়নে,
বর্তমানে এ-সংখ্যা ৪১
মিলিয়ন।
উল্লেখ্য,
ক্যালিফৌর্নিয়া এবং
ট্যাক্সাসের মত রাজ্যগুলোতে ইতিমধ্যেই প্রথাগত সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠী সংখ্যালঘুতে
পরিণত হয়ে গেছে।
লন্ডনঃ ১৪
আগস্ট, ২০০৮ |