|
অবিলম্বে পদত্যাগ করছেন প্রেসিডেন্ট
মুশাররফঃ সরে গেছে মিলিট্যারী
পাকিস্তানের
অবৈধ ক্ষমতা দখলদার প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফের পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে পদত্যাগের
ঘোষণা আসতে পারে বলে খবর পাওয়া গেছে।
লন্ডনের ফাইনান্সিয়্যাল
টাইমস (এফটি) পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ-ধরণের একটি সংবাদ
পরিবেশন করা হয়েছে।
তথ্য-মতে,
পদত্যাগ করার পরে
বিচারের মুখোমুখি না হওয়া এবং দেশে অবস্থানের নিশ্চয়তা পাবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন
তিনি।
এদিকে বিভিন্ন সংবাদ-মাধ্যমের
বরাতে এটা প্রায় স্পষ্ট যে
'ডুবন্ত'
মুশাররফকে বাঁচাতে
পাকিস্তানের ক্ষমতার পালা-বদলের অন্যতম প্রতিষ্ঠান সেনা-বাহিনী এবার আর এগিয়ে আসবে
না।
পাক রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের
ধারণা, মুশাররফকে এখন আর নিজেদের জন্য প্রয়োজনীয় হিসাবে বিবেচনা করছে না সেনাবাহিনী।
এফটি
জানিয়েছে,
পাকিস্তান প্রশাসন ও মুশাররফের
আশেপাশের লোকজনের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে,
১৯৯৯ সালে নাওয়াজ শরীফের
নির্বাচিত সরকারকে হঠিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করে বসা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের
সিদ্ধান্তের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়েছে।
জানা গেছে,
পিপিপির নেতৃত্বাধীন
জোট-সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত অভিশংসন প্রক্রিয়া এড়ানোর লক্ষ্যেই পদত্যাগের
সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুশাররফ।
এ-ব্যাপারে সরকার,
মুশাররফ ও সেনাবাহিনীর
মধ্যে কথাবার্তা হয়ে গেছে বলেও খবর দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও ক্ষমতা ছাড়ার পরে
তাকে কোনো ধরণের বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি না করার ব্যাপারেও কথা দিয়েছে সরকার।
মুশাররফ এখন ক্ষমতা
ত্যাগের পরে নিরাপদে দেশে থাকতে পারার সুযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মুশাররফের দাবী দুটির
ব্যাপারে সেনাবাহিনীর সম্মতি আছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য,
আগামী সোমবার থেকে
মুশাররফের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অভিশংসন প্রক্রিয়া সূচনা করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে
সরকার।
ইতোমধ্যেই তার বিরুদ্ধে
চার্জশীট তৈরী করার কাজ শুরু হয়ে গেছে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে,
সোমবারের আগেই মুশাররফের
পক্ষ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা চলে আসবে।
এদিকে
একাধিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে,
পাক সেনাবাহিনী
মুশাররফের পক্ষে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছে।
অভিশংসিত হয়ে ক্ষমতা
থেকে মুশাররফের বিদায় নেয়াটা সেনাবাহিনীর জন্য অবমাননাকর এক ব্যাপার হবে বলেই মনে
করেছেন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য,
১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর
থেকে মুশাররফের আগে আরও চারজন সেনাপ্রধান পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করে নিলেও তাদেরকে
কোনো কারণেই অভিশংসন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়নি।
স্মরণ
করা যেতে পারে, সেনাবাহিনীর প্রধান থাকা অবস্থাতেই রাষ্ট্র-ক্ষমতা দখল করেছিলেন
মুশাররফ।
এরপর থেকে নিত্য-নৈমিত্তিক
সমালোচনার মুখেও নিতান্ত অসাংবিধানিকভাবেই সেনাপ্রধানের পদটি আঁকড়ে রেখেছিলেন তিনি।
অনেক চাপের মুখেও নিজেকে
দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট বানানোর আগে সেনাপ্রধানের পদ ছাড়েননি মুশাররফ।
গত নভেম্বরের আটাশ
তারিখে সরকারী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই'র সাবেক প্রধান জেনারেল আশফাক কিয়ানীর হাতে
সেনাপ্রধানের দায়িত্ব ছেড়ে দেন মুশাররফ।
মুশাররফকে সংবিধান-সম্মত পন্থায় বিতাড়নের ব্যাপারে সেনাবাহিনী কোন্ অবস্থান গ্রহণ
করে, সেদিকে গত কয়েক দিন যাবৎ সর্বমহলের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছিলো।
সেনাবাহিনী অবশ্য শুরুর
দিকেই জানিয়েছিলো প্রেসিডেন্টের ব্যাপারে সরকারে গৃহীত পদক্ষেপকে ঘিরে
যে-পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, সে-ব্যাপারে তারা
'নিরপেক্ষ'
থাকবে।
কোনো-কোনো বিশ্লেষকের
ধারণা,
মুশাররফের ব্যাপারে সরকারের কড়া
অবস্থান ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানটি যথাযথভাবে বুঝে নিতে সক্ষম হয়েছে পাক
সেনাবাহিনী।
উল্লেখ্য,
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ
থেকেও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীন ব্যাপারে
'নিরপেক্ষ'
থাকার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও
আইএসআই'র সাথে
ধর্মবাদী জঙ্গীদের কথিত সম্পর্কের খবরে স্বয়ং জর্জ বুশের অস্বস্তিতে থাকা খবরটিকে
পাক সেনাবাহিনী গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনেকে মনে করেছেন, এসব
কারণে এমনিতেই বিরূপ হয়ে থাকা বুশ প্রশাসনের ইচ্ছার বাইরে যেয়ে বছর-বছর সামরিক
সহায়তা হিসাবে প্রাপ্ত অর্ধ-বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সাহায্যকে পাক সেনাবাহিনী কোনো
ধরণের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চায় না।
এছাড়াও মুশাররফকে ঘিরে
জোট-সরকার,
সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র
প্রশাসনের কোনো একটি বোঝাপড়া হয়ে থাকতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
অভিশংসন
প্রক্রিয়ার শুরুর দিনটি,
অর্থাৎ সোমবার,
পর্যন্ত পাকিস্তানের
রাজনীতি কোনদিকে গড়ায় সেদিকেই এখন নজর ফেলে রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।
লন্ডনঃ ১৪
আগস্ট ২০০৮ |