|
চীনের
বেইজিং অলিম্পিকের বর্ণাঢ্য
উদ্ধোধনঃ বিশ্ব অবাক তাকিয়ে রয়
দুই
হাজার আট সালের অষ্টম মাসের অষ্টম দিবসে বেইজিং অলিম্পিকের শুভ উদ্বোধন করেছে চীন।
উল্লেখ্য,
আট সংখ্যাটিকে চীনারা
শুভ হিসাবেই মনে করে।
তবে শুক্রবারের
সূচনা-লগ্নটি যতোই মোহনীয় হোক না কেনো,
অলিম্পিককে ঘিরে চীনের
বিরুদ্ধে রাজনৈতিক 'পিছু-লাগার'
ব্যাপারে পশ্চিমা বিশ্ব
কোনো বিরতি দিবে বলে মনে হচ্ছে না।
শুক্রবার
গ্রীনিচ মান সময় বারোটায় বেইজিংয়ের
'বার্ডস
নেস্ট'
স্টেডিয়ামে একানব্বুই হাজার
দর্শকের উপস্থিতিতে অলিম্পিকের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
এ-সময় সারা বিশ্ব থেকে
আগত হাজার-হাজার দর্শক ছাড়াও হাজির ছিলেন নানান দেশ থেকে আগত রাষ্ট্র ও সরকার
প্রধানবৃন্দ।
সব মিলিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি
স্থায়ী হয় চার ঘন্টা,
যা টেলিভিশনের বদৌলতে
চাক্ষুষ করেন এক বিলিয়নের অধিক বিশ্ববাসী।
উদ্বোধনীতে হরেক আয়োজনের
মধ্যে অন্যতম ছিলো বর্ণিলতম ফায়ার ওয়ার্ক ও প্রাচীন চীনা ঢোলের বাজনার তুমুল আয়োজন।
কম্পাস ও
বারুদ থেকে শুরু করে
চীনের প্রাচীরের মতো নিজেদের কতগুলো অত্যাশ্চর্য ঐতিহাসিক আবিষ্কার ও গর্বের বিষয়
ঠাঁই পায় বেইজিং অলিম্পিকের উদ্বোধনীতে।
এছাড়াও এবারের
অলিম্পিকের থিম সঙ 'ইউ
এান্ড
মি'
পরিবেশন করা হয়।
সাংস্কৃতিক আয়োজন শেষ শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত প্যারেইড পর্ব।
বিশ্বের প্রত্যেকটি অংশ
থেকে আসা ক্রীড়াবিদেরা নিজ-নিজ পতাকা সামনে নিয়ে প্যারেইডে অংশ নেন।
এ-সময় গ্যালারীতে
অবস্থানরত একানব্বুই হাজার মানুষ একযোগে করতালি দিয়ে ক্রীড়াবিদদের অভিনন্দিত করতে
থাকেন।
শুক্রবার
বেইজিং অলিম্পিকের আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও।
অলিম্পিক মশাল
প্রজ্জ্বলিত করেন ১৯৪৮ সালের অলিম্পিকে চীনের পক্ষে তিনটি স্বর্ণ-পদক বিজয়ী লি নিং।
বিভিন্ন
মাধ্যমে প্রচারিত খবরাখবর দেখে মনে হচ্ছে, অলিম্পিক আয়োজন করতে পারাটাকে সাধারণ
চীনারা প্রজন্ম-প্রজন্মানরের স্বপ্ন পূরণ হিসাবেই বিবেচনা করছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে,
স্বপ্ন পূরণের ব্যাপারটি ছাড়াও অলিম্পিক আয়োজনকে বিশ্বসভায় নিজেদের যোগ্যতার
প্রমাণ দেয়ার একটি উপযুক্ত মাধ্যম হিসাবেই ধরে নিয়েছে চীন।
উল্লেখ্য,
বেইজিং অলিম্পিককে
সাফল্যমণ্ডিত করার লক্ষ্যে চীন ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করছে।
২০০৮
অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আঁচ শুধু চীনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।
বরং ছড়িয়ে পড়েছে সারা
বিশ্বে।
লন্ডন-সহ পশ্চিমের বিভিন্ন
বড়ো-বড়ো শহরের একাধিক স্থানে জনগণের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে বসানো হয়েছে দৈত্যাকার
টিভি স্ক্রীন।
এছাড়াও বেইজিং এর উদ্বোধনী-পর্ব
উপভোগের জন্য বহু মানুষকে পাবগুলোতে জড়ো হতে দেখা যায়।
পশ্চিমের মানুষজনের
মধ্যে বেইজিং অলিম্পিককে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরী হলেও,
আয়োজনটির সুযোগ নিয়ে
চীনকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার কোনো চেষ্টা বাদ রাখছে না ক্ষমতাসীনরা।
অলিম্পিকের উদ্বোধনের
আগে-আগে বেইজিং-এ নতুন মার্কিন দূতাবাস খোলা উপলক্ষ্যে দেয়া বৃক্ততায় মানবাধিকার-সহ
নানান ইস্যুতে চীনকে একহাত নিয়েছেন জর্জ বুশ।
উল্লেখ্য, দেশ-দু'টি
পরস্পরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে পাল্টাপাল্টি বার্ষিক
প্রতিবেদন প্রচার করছে।
শুক্রবার কাঠমান্ডু ও
নয়াদিল্লীতে বৌদ্ধ ধম-গুরু দালাই লামার কিছু অনুসারী চীন বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশের
আয়োজন করেন বলেও জানা গেছে।
এদিকে,
অলিম্পিকের উদ্বোধনী
ভাষণে পশ্চিমা নেতৃত্বের প্রতি পরোক্ষ ইঙ্গিত করে চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও বলেন,
ক্রীড়াক্ষেত্রে
রাজনীতিকে টেনে আনা কোনভাবেই উচিত নয়।
লন্ডনঃ ৮ আগস্ট, ২০০৮ |