|
অসুস্থ সাইফুর রহমানের সিঙ্গাপুর ছেড়ে বাংলাদেশের
হসপিটালে ভর্তি
বাংলাদেশের
'অসুস্থ' রাজনীতিকেরা দেশ ছেড়ে বিদেশই যান না, কখনও-কখনও বিদেশ ছেড়ে দেশের
হাসপাতালেও চিকিৎসাধীন হতে পারেন। অবশ্য, তা নির্ভর করে 'রোগের' চরিত্র এবং
'ডাক্তারের' 'ব্যবস্থপত্র' কী, তার উপর। বাংলাদেশে বহু-আলোচিত গ্যাটকো দুর্নীতি
মামলার আসামী,
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও
সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানকে ছয় মাসের আগাম জামিন দিয়ে হাসপাতালের
'চিকিৎসা' নেবার অনুমতি দিয়েছে হাইকৌর্ট।
জানা যায়,
শনিবার মধ্য রাতের পর
'অসুস্থ' সাইফুর রহমান আকস্মিক দেশে ফিরে হাসপাতালে ভর্তি হন।
রোববার
এাম্বুলেন্সে
করে আদালতে হাজির হয়ে
আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের জন্য আবেদন করেন তিনি
এবং আদালতও তাকে ছয়
মাসের আগাম জামিন করে।
একইসঙ্গে তাকে কেনো
স্থায়ী আগাম জামিন দেওয়া হবে না, তার কারণ দর্শাতে সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে
(দুদক) ৪ সপ্তাহের সময় দিয়ে রুলিং জারী করেছে আদালত।
রোববার বিচারপতি শরীফ
উদ্দিন চাকলাদার ও বিচারপতি মোঃ ইমদাদুল হক আজাদের হাইকৌর্ট বেঞ্চ এ-রুলিং দেন।
সাইফুরের কৌঁসুলী আবদুর
রেজ্জাক খান জামিনের আবেদন দায়ের করেছিলেন।
কয়েকদিন
আগে একই মামলায় বিএনপির সাবেক মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া,
জামায়াতে ইসলামীর আমির
মতিউর রহমান নিজামী,
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য
এমকে আনোয়ারের ও এম শামসুল ইসলামকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
এদের মধ্যে মতিউর রহমান
নিজামী সবার আগে মুক্তি পান।
সাইফুর
রহমান ৭ মে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন।
গ্যাটকো মামলায় সাইফুরকে
পলাতক দেখানো হয়েছে।
রোববার
সাইফুর রহমানের জামিনের আবেদন শুনানির পর আদালত বলেন,
সাইফুর রহমান অসুস্থ।
চিকিৎসার জন্য তার
হাসপাতালে থাকা প্রয়োজন এবং তিনি পালিয়ে যাবেন না।
এ-সব বিবেচনায় তাকে
জামিন দেওয়া হয়।
এর আগে সাইফুর রহমান বেলা ৩টা
৪৮ মনিটে
এাপোলো
হাসপাতালের এম্বুলেন্সে করে হাইকৌর্টে হাজির হন।
চিকিৎসার জন্য বিদেশ
যাওয়া সাইফুর শনিবার মধ্যরাতে দেশে ফিরেন।
এর পর সাড়ে চারটায়
বিএনপি নেতাকে A¨v¤^y‡j‡Ý
করে হাসপাতালে ফিরিয়ে
নেওয়া হয়।
এদিকে
সাইফুর রহমানের আগাম জামিন ও মান্নান ভূঁইয়া-সহ বিএনপির সংস্কারপন্থী এ-সব শীর্ষ
নেতাদের মুক্তিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সেনা নিয়ন্ত্রিত
তত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও
খালেদা জিয়াসহ দু'শোরও বেশি রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হলেও
মান্নান ভূঁইয়াসহ বিএনপি'র
সংস্কারপন্থী নেতাদের গ্রেফতার করা হয়নি।
খালেদা জিয়া গ্রেফতারের
পর বিএনপি কার্যতঃ দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
সে-সময় সাইফুর রহমান ও
মান্নান ভূঁইয়া বিএনপির সংস্কারের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নেন।
একইসঙ্গে তারা খালেদা
জিয়া ও তারেক রহমানের ব্যাপক সমালোচনা করেন।
খালেদা জিয়া যেদিন
গ্রেফতার হন, সেদিন মান্নান ভূঁইয়াকে বিএনপির মহাসচিবের পদ থেকে বহিস্কার করেন।
এরপর
মান্নান ভূঁইয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ও মেজর
হাফিজের নেতৃত্বে বিএনপির আলাদা কমিটি গঠন করা হয়।
সে-সময় বাংলাদেশের
রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হতে থাকে যে,
মান্নান ভূঁইয়া-সহ
বিএনপির সংস্কারপন্থীদের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সুসম্পর্ক রয়েছে।
মান্নান ভূঁইয়া-সাইফুর
রহমান-সহ বিএনপির সংস্কারপন্থীরা যাতে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারে, সে-পথ
তৈরী করে দিতেই তাদের গ্রেফতার না করে সরকার খালেদা জিয়া-শেখ হাসিনা-সহ অন্য
রাজনৈতিক নেতাদের কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে।
এর পর
খালেদা জিয়া-সহ সাইফুর রহমান,
মান্নান ভূঁইয়া,
এমকে আনোয়ার ও শামসুল
ইসলামসহ বিএনপির আরও কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধ গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দেশটির
দুর্নীতি দমন কমিশন।
মামলা দায়েরের আগের দিন
সাইফুর রহমান হঠাৎ করে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে চলে যান।
মান্নান ভূঁইয়া,
এমকে আনোয়ার ও শামসুল
ইসলাম দেশে অবস্থান করলেও তাদেরকে পুলিশ সরাসরি গ্রেফতার করা হয়নি।
তারা আদালতে হাজিরা দিতে
গেলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
এ-নেতারাই আবার জামিনে
মুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসেন।
এখন তারা পুরোদমে
সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক
পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন,
সাইফুর রহমান-মান্নান
ভূঁইয়াদের সঙ্গে দেশটির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো একটি বুঝাপড়া হয়েছে।
ঢাকা থেকে
আবদুর রহিম হারমাছি
৩ আগষ্ট
২০০৮ |