London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রস্তাব গুটিয়ে নিয়েছে ভারতীয় বহুজাতিক টাটা

গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা না পেয়ে বাংলাদেশে তিনশো কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রত্যাহার করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ভারতের টাটা গ্রুপবিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ সময়ে একবার বিনিয়োগ প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছিলো টাটাসেনা নিয়ন্ত্রিত তত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করে টাটার কর্মকর্তারাকিন্তু তেমন ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় অবশেষে টাটা বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগের বিষয়টি একেবারে গুটিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে

বৃহস্পতিবার টাটার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটা পরিষ্কার যে, বাংলাদেশ সরকার নিকট ভবিষ্যতে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোতে গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে পারবে না এমতাবস্থায় বিনিয়োগ প্রস্তাব এগিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেইপ্রস্তাব প্রত্যাহারের বিষয়টি চিঠি দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের বিনিয়োগ বৌর্ডকেও জানিয়ে দিয়েছে টাটা

এ-ব্যাপারে বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ বৌর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান কামালউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইউকেবেঙ্গলিকে জানান, বাংলাদেশে গ্যাস-ভিত্তিক প্রকল্প করার যে-প্রস্তাব টাটা দিয়েছিলো, সে-ব্যাপারে তারা আর অগ্রসর হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেভবিষ্যতে টাটার কয়লা-ভিত্তিক প্রকল্প প্রস্তাবগুলো নিয়ে ভেবে দেখা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনিকামালউদ্দিন বলেন, টাটার প্রস্তাবের বেশির ভাগটাই কয়লা-ভিত্তিক হওয়ার কথা ছিলোতবে কয়লা-ভিত্তিক প্রকল্প নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার আগে আমাদের কয়লা-নীতি প্রণয়ন করা দরকারগ্যাস সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি-না, এ-প্রশ্নের জবাবে কামালউদ্দিন বলেন, গ্যাস সঙ্কটের কথা জ্বালানি উপদেষ্টাও বলেছেনটাটার বিনিয়োগের জন্য প্রচুর গ্যাসের দরকার ছিলো, যেটা সরবরাহ করা সম্ভব ছিলো না। 

টাটার প্রস্তাব প্রত্যাহারের বিষয়টি বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখ্‌তের কাছে 'খুব একটা অপ্রত্যাশিত' ছিলো নাতবে তার মতে, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য এটি একটি বড়ো ব্যর্থতাএ-বিষয়ে ইউকেবেঙ্গলির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এ-প্রস্তাবের ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট কালক্ষেপণ করেছি, যা বিনিয়োগকারীদের সব-সময়ই নিরুৎসাহিত করেটাটার প্রস্তাবের ব্যাপারে সরকার এক ধরণের অস্পষ্টতার মধ্য দিয়ে গেছে মন্তব্য করে জায়েদ বখ্‌ত বলেন, পুরো বিষয়টি টাটার কাছেও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়নিবাংলাদেশের জন্য প্রস্তাবটি খুবই গুরত্বপুর্ণ ছিলো। কেনো-না, এর মাধ্যমে আরো বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্র তৈরী হতো।'

টাটার প্রস্তাবে বার্ষিক ২৪ লাখ টন উৎপাদনক্ষম একটি ইস্পাত কারখানা, একটি বড়ো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও বার্ষিক ১০ লাখ টন উৎপাদনক্ষম একটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের কথা ছিলোপরে তারা কয়লা খনি উন্নয়নেরও প্রস্তাব দেয়এ-প্রস্তাব নিয়ে সচেতন মহলের বিরোধিতার মুখে চারদলীয় জোট সরকার একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করে টাটার প্রস্তাবে 'গ্যাসের দাম কম' উল্লেখ করে কমিটি এ-ব্যাপারে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেয়টাটার প্রকল্পে সরবরাহের জন্য গ্যাসের দাম নির্ধারণ নিয়ে দর কষাকষির এক পর্যায়ে আলোচনা ভেস্তে যায়২০০৬ সালের জুলাইয়ে বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয় টাটা

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীর মাঝামাঝি সময়ে ওই বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় টাটা গ্রুপএরপর সরকারের নীতি-নির্ধারক পর্যায়ে আবার এ-বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়গত মে মাসে টাটার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিনিয়োগ বোর্ডের কর্মকর্তারা বৈঠক করেনকিন্তু গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় বিষয়টি আর এগোয়নি।  

ঢাকা থেকে আবদুর রহিম হারমাছি

৩১ জুলাই ২০০৮

 

আজকের প্রধান খবর8

জুলাই আর্কাইভ 8

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.