London:

Home

About us

Services

Contact

Archive

দ্য হেইগের আদালতে কারাদজিকঃ আইনজীবীর সহায়তা প্রত্যাখান

হল্যান্ডের দ্য হেইগে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে প্রথমবারের মতো হাজির করা হয়েছে বসনিয়ার গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত রাদোভান কারাদজিককে (৬৩)বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির-করা কারাদজিক গ্রেফতারকারী সার্বিয়া কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা ছাড়াও, আদালতের পক্ষ থেকে মঞ্জুর করা আইনজীবীর সহায়তা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছেনতিনি আরও জানিয়েছের যে, মার্কিনীদের সাথে বুঝাপড়ার ভিত্তিতেই তিনি ১৯৯৫ সালে আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন

আদালতে দাঁড়িয়ে কারাদজিক দাবী করেন যে, তাকে গ্রেফতার করার সময় নানা-ধরণের 'অনিয়মের' আশ্রয় নিয়েছিলো সার্ব কর্তৃপক্ষতিনি বলেন, 'আমার গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়েছেআমাকে অপহরণ করে নিয়ে তিনদিন যাবৎ অজ্ঞাত-স্থানে রাখা হয়েছিলোগ্রেফতারের পরে আমার কী অধিকার আছে-না-আছে, তাও জানতে দেয়া হয়নিঅন্তরীনাবস্থায় আমাকে থেকে টেলিফৌনে কারও সাথে কথা বলার সুযোগও দেয়া হয়নি।' কারদাজিক দাবী করেন, তাকে গ্রেফতার করা থেকে শুরু করে দ্য হেইগে পাঠানো পর্যন্ত 'অগণিত' অনিয়মের আশ্রয় নেয়া হয়েছেএ-সমস্ত কথাবার্তা বলার জন্য মাত্রাতিরিক্ত সময় নিতে শুরু করলে, এক-পর্যায়ে কারাদজিককে থামিয়ে দেন বিচারকসংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কারাদজিক যে-সব অভিযোগ করেছেন, সে-সব ব্যাপারে কোনো ধরণের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সার্ব কর্তৃপক্ষ

দিনের শুরুতে আদালতের পক্ষ থেকে কারাদজিকের বিরুদ্ধে আনীত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ-সহ সর্বমোট ১১-দফা অভিযোগ পাঠ করে শোনান বিচারক আলফৌনস ওরী অভিযোগগুলোর জবাবদানের জন্য ৩০ দিন সময় প্রার্থনা করেন কারাদজিকএছাড়াও আদালতের পক্ষ থেকে যোগান দেয়া আইনী-সহায়তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমি নিজেই নিজেকে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।' উল্লেখ্য, বসনিয়ার গণহত্যাতে যুক্ত থাকার দায়ে ইতিপূর্বের দোষী সাব্যস্ত হওয়া সার্বিয়ান প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচও একই অবস্থান গ্রহণ করছিলেন, কিন্তু বিচারাধীন থাকা অবস্থাতে ২০০৬ সালে তিনি মৃত্যু মুখে পতিত হন

দীর্ঘ বারো বছরের ছদ্মবেশ ছেড়ে আদালতে উপস্থিত কারাদজিককে দেখতে পুরোনো কারাদজিকের মতোই লাগছিলো প্রায় আদালতের প্রথম দিনটিতে নীল রংয়ের জ্যাকেট, শাদা জামা ও মানানসই টাই পরিহিত অবস্থায় হাজির থাকেন বসনিয়াতে গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত কারাদজিকআদালতের পুরো সময়টিতে কারাদজিককে শান্ত-সমাহিতভাবে নিজের মধ্যে নিবিষ্ট থাকতে দেখা গেছেআদালতের পক্ষ থেকে জিজ্ঞেস করা ছাড়া নিজে থেকে কোনো কথাও বলেননি তিনি

বক্তব্য প্রদানের এক-পর্যায়ে কারাদজিক জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সাথে এক বুঝাপড়ার ভিত্তিতেই তিনি ১৯৯৫ সালে আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেনএক্ষেত্রে তিনি মার্কিন পক্ষের আলোচক রিচার্ড হলব্রুকের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেনআত্মগোপনের পর থেকে নিজের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ছিলো বলেও দাবী করেন কারাদজিকএ-প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিলো [আমি আত্মগোপন করলে] তারা তাদের অঙ্গীকারগুলো পূরণ করবে।' যুক্তরাষ্ট্র কী ধরণের অঙ্গীকার পূরণের তা অবশ্য উল্লেখ করেননি কারাদজিকধারণা করা হচ্ছে, গত প্রায় এক যুগ ধরে আত্মগোপন করে থাকার ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের পক্ষ থেকে পাওয়া বিভিন্ন সহযোগিতার নজীর সামনের দিনগুলোতে আদালতে হাজির করবেন কারাদজিক

সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে, কারাদজিকের বিচার শুরুর দিনটিকে ঘিরে বসনিয়ার সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষজনের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরী হয়েছেদ্য হেইগ থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত বিচার অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য বসনিয়ার মানুষজন বৃহস্পতিবার টিভি সেটের সামনে দীর্ঘ সময় কাটানউল্লেখ্য, জাতিসংঘের হিসাবানুসারে ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল ব্যাপী জাতিগত সংঘাত চলাকালে বসনিক হিসাবে পরিচিত মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আঠারো হাজারের মতো মানুষ প্রাণ হারায় সার্ব জাতীয়তাবাদীদের হাতে সার্ব জাতীয়তাবাদীদের এ-হত্যাকাণ্ডের অন্যতম নেতা ছিলেন কারাদজিকদ্য হেইগের আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ভোগ করতে হবেজাতীয়তাবাদীদের তুমুল বাধা উপেক্ষা করে কারাদজিককে বুধবার দ্য হেইগে পাঠিয়েছে সার্বিয়া

লন্ডনঃ ৩১ জুলাই, ২০০৮

 

আজকের প্রধান খবর8

জুলাই আর্কাইভ 8

আর্কাইভ8

 
 

© 2007 Confidence Services Ltd.