|
স্টুডেন্ট ভিসা ও ভুয়া
শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বিষয়ে ব্যাপক কড়াকড়ি ব্রিটেইনে
শিক্ষালাভের জন্য ব্রিটেইনে আসতে চাওয়া লোকজনের ভিসা-প্রাপ্তির ব্যাপারটি বর্তমানের
তুলনায় কঠিনতর হয়ে উঠতে যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে।
বুধবার হৌম অফিস থেকে
দেয়া ঘোষণার বরাতে জানা গেছে এ-তথ্য।
পড়ালেখার নাম করে এসে
অন্য কাজে লিপ্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করা ছাড়াও,
মূলতঃ বিদেশী
শিক্ষার্থীদের উপরে নির্ভর করে গড়ে ওঠা বেশ কিছু ভূয়া শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানকে শায়েস্তা
করার লক্ষ্য থেকেই নতুন ঘোষণাটি এসেছে।
বুধবারের
ঘোষণা মোতাবেক,
সামনের দিনগুলোতে ব্রিটেইনে
পড়তে আসতে চাইলে বর্তমানের তুলনায় কঠিন ও নতুন কতগুলো শর্ত-পূরণ করতে হবে।
এছাড়াও যে-সব
শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বিদেশী শিক্ষার্থীদের ভর্তি করবে, তাদের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপের
সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি
করতে ইচ্ছুক যে-কোনো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানকে এখন থেকে কর্তৃপক্ষের ইস্যু-করা একটি
লাইসেন্সও নিতে হবে।
এছাড়াও
শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশ থাকা আসা শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ডের দায়-দায়িত্ব
বর্তমানের তুলনায় অধিক
পরিমাণে নিতে হবে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য
অনুসারে,
চলতি ব্যবস্থার অপব্যবহার করে
চলেছে এমন সব ভুয়া শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তি-মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের
উদ্দেশ্য থেকেই নতুন সিদ্ধান্তটি প্রণয়ন করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুসারে,
ভর্তির অফার পেয়ে
বিদেশ থেকে আসা কোনো শিক্ষার্থী
যদি ভর্তি না হয়, তাহলে সে-তথ্য ইউকে বর্ডার এজেন্সীকে জানাতে হবে। আর তা জানাতে
ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ করে দেয়া হতে পারে।
যারা
লেখাপড়া করতে ব্রিটেইনে আসতে চাইবেন, এখন থেকে তাদেরকে অবশ্যই ব্রিটেইনে সরকারী
লাইসেন্স-প্রাপ্ত একটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের স্পন্সর নিয়ে আসতে হবে।
শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের
পক্ষ থেকে স্পন্সরের কাগজ-পত্র না পাঠানো হলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর ভিসার আবেদন
বিবেচনা করা হবে না।
এছাড়াও আগে থেকেই প্রমাণ
দিতে হবে যে, ভিসার আবেদনকারী শিক্ষার্থী ব্রিটেইনে তার শিক্ষা-কালে নিজেই নিজের
এবং সাথে থাকা পরিবার-সদস্যের খরচ বহনে সক্ষম হবেন।
ব্রিটেইনে পড়তে আসা
লোকজনকে এখন থেকে কর্তৃপক্ষের সংরক্ষণের জন্যে নিজেদের আঙ্গুলের ছাপও দিতে হবে।
বর্ডার
এান্ড
ইমিগ্রেশন মিনিস্টার লিয়াম ব্রাইন নতুন নিয়মের সমর্থনে বলেন,
'যারা ব্রিটেইনে আসেন,
তাদেরকে ব্রিটেইনের নিয়মানুসারেই চলতে হবে।'
তিনি জানান, বিশ্বমানের
ব্রিটিশ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে যারা পড়তে আসেন, তাদের অবশ্যই কঠোর নিয়ম-কানুনগুলো
মেনে চলতে হবে।
ব্রাইন আরও উল্লেখ করেন, নতুন
নিয়য়গুলোর মধ্য দিয়ে কে বা কারা ব্রিটেইনে পড়তে আসছে তা যেমন সঠিকভাবে জেনে রাখা
যাবে, তেমনি ভুয়া কলেজগুলোকেও শায়েস্তা করা সম্ভব হবে।
প্রাপ্ত
তথ্যে জানা যাচ্ছে,
কোনো ব্যক্তি লেখাপড়ার জন্য
ব্রিটেইনে আসতে চাইলে,
তার আগ্রহের সমর্থনে
পূর্ববর্তী শিক্ষাগত যোগ্যতার সুস্পষ্ট প্রমাণাদি থাকতে হবে।
এছাড়াও আগ্রহী ব্যক্তিকে
এমন একটি কৌর্সের জন্য আবেদন করতে হবে, যার অবশ্যই একটা নুন্যতম মান থাকবে।
সে-সাথে এক বছরের বেশি
সময়ের কৌর্সে ভর্তি হওয়া বিদেশী শিক্ষার্থীদেরকে
প্রথম বছরের টিউশন ফী
দিতে পারার মতো আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দেখাতে হবে।
শুধু তাই নয়,
আরও প্রমাণ করতে হবে যে,
প্রথম বছরে শুধুমাত্র নিজের জীবন-যাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় ৯,৬০০
পাউন্ড তার হাতে আছে।
এখানেই শেষ নয়।
আগ্রহী শিক্ষার্থীটির
সাথে যদি কোনো পরিবার-সদস্য থাকেন,
তাহলে জনপ্রতি মাসে ৫৩৫
পাউন্ড খরচ করতে পারার প্রমাণ দিতে হবে।
হৌম অফিস
জানিয়েছে,
বিদেশী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে
পাওয়া টিউশন ফীর বদৌলতে ব্রিটেইনের অর্থনীতিতে বছরে যুক্ত হয় আড়াই বিলিয়ন পাউন্ড।
সব কিছু হিসাবে ধরলে
বিদেশী শিক্ষার্থীরা বছরে আনুমানিক সাড়ে ৮ বিলিয়ন পাউন্ড যুক্ত করেন ব্রিটিশ
অর্থনীতিতে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
বিদেশী শিক্ষার্থীদের
অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এ-বছরের শুরুতেই বিদেশী
শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ভিসা ক্যাটেগৌরী চালু করা হয়েছে।
বিশেষ ভিসা ক্যাটেগৌরীর
বদৌলতে,
ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক
বছরের ডিগ্রী করা একজন বিদেশী শিক্ষার্থী দু'বছর পর্যন্ত ব্রিটেইনে কাজকর্ম করার
অনুমতি পেতে পারেন।
বুধবারের
ঘোষণা প্রসঙ্গে হাইয়ার এডুকেশন মিনিস্টার বিল
রামেল
জানান,
ব্রিটেইনের শিক্ষাঙ্গনে বিদেশী
শিক্ষার্থীদের পড়তে আসার ব্যাপারটিকে সরকার স্বাগত জানায়।
তবে তিনি বলেন,
'কিন্তু তাই বলে হাতে
গোণা কিছু লোক মিলে ভুয়া কলেজ খুলে বসে আমাদের শিক্ষা-ব্যবস্থার মান নষ্ট করার
চেষ্টা করবে, তা আমি সহ্য করবো না।'
তিনি উল্লেখ করেন, নতুন
ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ভুয়া কলেজগুলো যে-ধরণের ক্ষতি করে চলেছে, তা ঠেকানোর ক্ষেত্রে
বাড়তি সুযোগ তৈরী হবে।
সরকারী
ঘোষণা অনুসারে, এখন থেকে ব্রিটেইনের সকল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানকে বিদেশী শিক্ষার্থীদের
পাসপৌর্টের ফটৌকপি সংরক্ষণ ও বাসস্থানের ঠিকানা হালনাগাদ করে রাখতে হবে।
কোনো শিক্ষার্থী সময়-মতো
ভর্তি না হলে কিংবা বিনা-অনুমতিতে ক্লাসে গরহাজির থাকলে,
তা ইউকে বর্ডার
এজেন্সীকে জানাতে হবে।
কোনো শিক্ষার্থী যদি
পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়, তা কর্তৃপক্ষকে জানানোর দায়িত্ব থাকছে
শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর বর্তাবে।
এসব দায়-দায়িত্বের
যে-কোনো একটি পালনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করে
দেয়া হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশী
শিক্ষার্থীদের স্পন্সর হবার জন্য ব্রিটিশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলতি সপ্তাহ থেকেই
আবেদন করতে পারবেন।
২০০৯ সালের বসন্ত থেকে
বুধবারের ঘোষণা কার্যকর হবে।
আর এখন থেকে ব্রিটেইন
পড়ালেখা করার জন্য আসতে চাইলে যে-কোনো ব্যক্তিকে পয়েন্ট-সিস্টেম ভিত্তিক
টিয়ার-ফৌরের অধীনে আবেদন করতে হবে।
ব্রিটেইনের সরকারী সূত্রমতে,
গত ৫ বছরে সর্বমৌট ১৬
লক্ষ স্টুডেন্ট-ভিসা দেয়া হয়েছে।
শুধুমাত্র ২০০৬ সালেই ৩
লক্ষ শিক্ষার্থী বিদেশ থেকে এসেছেন ব্রিটেইনে পড়ালেখা করার জন্য।
কর্তৃপক্ষ মনে করছে,
অভিবাসন আইনে পরিবর্তন আনার কারণে আগামী দিনগুলোতে বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা
বৃদ্ধি পাবে ব্রিটেইনে।
কর্তৃপক্ষের মতে,
নুতন নিয়মাবলীর ফলে
প্রকৃতই শিক্ষালাভ করতে আসা ব্যক্তিরা লাভবান হবেন।
ইউরৌপীয়ান ইউনিয়ন-ভুক্ত
দেশগুলো থেকে ব্রিটেইনে পড়তে আসতে চাওয়া লোকজনকে অবশ্য নতুন আইনের মধ্যে পড়তে হবে
না।
লন্ডনঃ ৩০
জুলাই, ২০০৮
|