|
বাংলাদেশে
দুর্নীতির দায়ে বন্দী মান্নান ভূঁইয়াকে মুক্তি দিলো সরকার
জামায়াতে
ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী ও বিএনপি নেতা এমকে আনোয়ারের পর বাংলাদেশের
সেনা-নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আরেক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা বিএনপির সাবেক
মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়াকে মুক্তি দিয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় মান্নান
ভূঁইয়া ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এদিকে, জানা গেছে
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম শামসুল ইসলামকেও যে-কোনো মূহুর্তে মুক্তি দেওয়া হতে
পারে।
সোমবার
বিচারপতি শরীফ উদ্দিন চাকলাদার ও বিচারপতি মোঃ ইমদাদুল হক আজদের হাইকৌর্ট বেঞ্চ
মান্নান ভূঁইয়াকে দু'মাসের জামিন দেন।
গ্যাটকো মামলার
কার্যক্রম ওই সময় পর্যন্ত স্থগিত রাখারও নির্দেশ দেয় আদালত।
হাইকৌর্ট থেকে জামিনের
আদেশ হাতে পাওয়ার পর কারা-কর্তৃপক্ষ বুধবার বিকেল ৫ টা ৫০ মিনিটে মান্নান ভূঁইয়াকে
মুক্তি দেয়।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা
জেডএ খান ও
বিএনপি নেতা ফিরোজ খান-সহ
কয়েকশো নেতা-কর্মী কারাগারের বাইরে তাকে ফুল দিয়ে
স্বাগত জানান।
ঢাকা কেন্দ্রীয়
কারাগারের জেলার ফারুক আহমদ ইউকেবেঙ্গলিকে বলেন,
হাইকৌর্টের নির্দেশে
সাবেক মন্ত্রী মান্নান ভূঁইয়াকে ৫ টা ৫০ মিনিটের দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার
পর্যবেক্ষকদের মতে,
মান্নান ভূঁইয়ার মুক্তিকে
কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনা-প্রবাহ নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে।
স্মরণ করা যেতে পারে,
তত্ত্বাবধায়ক সরকার
দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া-সহ
দু'শোর উপরে রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হলেও মান্নান ভূঁইয়াকে
গ্রেফতার করা হয়নি।
খালেদা জিয়া গ্রেফতারের
পর বিএনপি কার্যতঃ দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
সে-সময় মান্নান ভূঁইয়া
বিএনপির সংস্কারের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নেন।
একই সঙ্গে তিনি খালেদা
জিয়া ও তারেক রহমানের ব্যাপক সমালোচনা করেন।
সে- পরিস্থিতিতে খালেদা
জিয়া যে-দিন গ্রেফতার হন, সে-দিন বিএনপির মহাসচিবের পদ থেকে মান্নান ভূঁইয়াকে
বহিষ্কার করেন খালেদা জিয়া।
এরপর মান্নান ভূঁইয়ার
সরাসরি হস্তক্ষেপে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ও মেজর হাফিজের নেতৃত্বে
বিএনপির আলাদা কমিটি গঠন করা হয়।
সে-সময়
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা হতে থাকে যে,
মান্নান ভূঁইয়া-সহ
বিএনপির সংস্কারপন্থীদের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সু-সম্পর্ক রয়েছে।
মান্নান ভূঁইয়া ও সাইফুর
রহমান-সহ বিএনপির সংস্কারপন্থীরা যাতে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারে, সে-পথ
তৈরী করে দিতেই তাদের গ্রেফতার না করে সরকার খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা-সহ অন্য
রাজনৈতিক নেতাদের কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে।
এমকে আনোয়ার ও মতিউর
নিজামীর পর বুধবার মান্নান ভূঁইয়ার মুক্তিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক
অঙ্গনে আবার সেই আগের আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে
জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী গত ১৫ জুলাই এবং পরের সপ্তাহে বিএনপি
নেতা এমকে আনোয়ার একই মামলায় জামিনে মুক্তি পান।
দুর্নীতি দমন কমিশনের
উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী গত বছর ২ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া ও তার ছোট ছেলে
আরাফাত রহমান কোকো-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ-মামলা দায়ের করেন।
খালেদা জিয়া ও কোকোকে
২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর
সকালে এ-মামলায় গ্রেপ্তার করা
হয়।
চলতি বছরের ১৩ মে মোট ২৪ জনের
বিরুদ্ধে এ-মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন।
এতে বলা হয়,
আসামীরা পরস্পর
যোগ-সাজসে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের
কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬
টাকার ক্ষতি করেছেন।
মান্নান ভুঁইয়া গত ১৮ মে
এ-মামলায় ঢাকার মহানগর বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।
এদিকে
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর মান্নান ভুঁইয়া দলের কারাবন্দী
নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার অসুস্থ বড়ো ছেলে তারেক রহমানের বিদেশ-চিকিৎসার
দাবী জানিয়েছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় জামিনে মুক্তি
পেয়ে গুলশানের বাসায় আসার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সরকারের
প্রতি তিনি এ-দাবী জানান।
বিএনপির বহিষ্কৃত
মহাসচিব মান্নান ভুঁইয়া বলেন,
'আমি অবিলম্বে খালেদা
জিয়ার মুক্তি এবং অসুস্থ তারেক রহমানের দ্রুত বিদেশ-চিকিৎসার দাবী জানাচ্ছি।'
ঢাকা থেকে
আবদুর রহিম হারমাছি
৩০ জুলাই
২০০৮
|