|
বসনিয়ার গণহত্যাকাণ্ডে
অভিযুক্ত
কারাদজিকের জন্য সার্বিয়ায় দাঙ্গা
গত
শতকের নব্বইয়ের
দশকের প্রথম অর্ধে জাতিগত সংঘাতের দিনগুলোতে হাজার-হাজার বসনিক হত্যাকাণ্ডের জন্য
অভিযুক্ত সার্ব-নেতা রাদোভান কারাদজিকের পক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষ র্যালী
করেছে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেইডের রাস্তায়।
শুধু তাই নয়,
মঙ্গলবারের র্যালীটি
শেষ করার পর এসব মানুষ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা-বাহিনীর সাথে সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে বলে
জানিয়েছে সংবাদ-মাধ্যম।
সার্বিয়া থেকে
কারাদজিককে দ্য হেইগের আর্ন্তজাতিক আদালতে পাঠানোর প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে সহিংস
কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়েছে সমর্থকরা।
খবরে
প্রকাশ,
কারাদজিক সমর্থকদের সহিংসার
এক-পর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার লক্ষ্যে দাঙ্গা-পুলিস রাস্তায় নামায় কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে,
কমপক্ষে পনেরো হাজার
কারাদজিক-সমর্থক মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করে।
গত ২১ তারিখ বেলগ্রেইডের
উপকন্ঠে একটি স্থান থেকে বহুদিনের ছদ্মবেশ-সহ ধরা পড়ার পরে কারাদজিককে সার্বিয়ার
কারাগারে রাখা হয়েছে।
তাকে দ্য হেইগে জাতিসংঘ
আদালতে পাঠানোর আইন লড়াই চলছে গত কয়েকদিন ধরে।
মঙ্গলবারের রালীতে
থেকে দেয়া ভাষণে কারদাজিককে গ্রেফতার করার কারণে সরকারের তীব্র সমালোচনা করা হয়।
বক্তারা দাবী করেন যে,
পশ্চিমা সরকারগুলোর চাপে পড়েই কারাদজিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়াও কারাদজিককে দ্য
হেইগে পাঠানোর পরিণাম ভয়াবহ হবে বলেও সতর্ক করে দেয়া জাতীয়তাবাদীরা।
রালী
থেকে লোকজনকে কারদাজিকের সমর্থনের স্লৌগান দিতে শোনা যায়।
খবরে
প্রকাশ,
মঙ্গলবার
উপরে রালীটি
চলাকালে হঠাৎ করেই খবর ছড়িয়ে পড়ে যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কারাদকিজকে দ্য হেইগ পাঠিয়ে
দেয়া হচ্ছে।
এ-খবর প্রকাশ হবার সাথে-সাথে
সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
রালী
শেষ হতে না হতেই কারাদজিকের জাতীয়তাবাদী সমর্থকদের একটি অংশ পুলিসের সাথে সংঘাতে
লিপ্ত হয়।
সংঘাতে লিপ্ত হওয়া সমর্থকদের
একটি বড় অংশ ছিলো মদ্যপ তরুণের দল।
এরা পুলিশকে লক্ষ্য করে
কাঁচের বোতল,
পাথর,
আগুনে-বোমা ছুঁড়তে থাকলে
এক পর্যায়ে রাস্তায় নামে
দাঙ্গা-পুলিস।
পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকলে দাঙ্গা পুলিসের পক্ষ থেকে রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস
ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।
পুলিশের আঘাতে বিশজনের
অধিক কারাদজিক সমর্থক আহত হবার খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়াও তেরোজন পুলিশ ও
জনা পনেরো সাধারণ নাগরিক আহত হবার খবর পাওয়া গেছে।
প্রায় ঘন্টা-খানেক ধরে
সংঘর্ষ চলার পরে বেলগ্রেইডের কেন্দ্রস্থল থেকে দাঙ্গাকারীদের হঠিয়ে দিতে সক্ষম হয়
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
তবে শেষ খবর পাওয়া
পর্যন্ত শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিলো।
কারাদজিককে নিয়ে কী করা হবে,
সে-ব্যাপারে কোনো
প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা থেকে হঠাৎ করেই বিরত হয়ে পড়েছে সার্বিয়া কর্তৃপক্ষ।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা
আইনী প্রক্রিয়া শেষ হলে কারাদজিককে দ্য হেইগ পাঠানোর ব্যাপারটি প্রায়-নিশ্চিত।
উল্লেখ্য,
ইউই এর সদস্য-পদ
প্রাপ্তির জন্য কারাদজিককে গ্রেফতার করার ব্যাপারটি ছিলো একটি অনুল্লেখিত পূর্বশর্ত।
লন্ডনঃ ২৯
জুলাই, ২০০৮ |